বাড়ি ছাড়ার হুমকি দিয়ে মোটরসাইকেল কিনে নিয়েছিলেন তরুণ, দুর্ঘটনায় সেই আবদার নিয়ে গেল প্রাণ
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আবেদনের পরিণতি
ব ড় ছ ড় র হ মক – ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার চরহোসেনপুর এলাকায় শনিবার সকালে বাইক ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন কলেজছাত্র আফতাব শাহরিয়ার মাহির (২০)। এই ঘটনার পর তাঁর পরিবার এলাকাজুড়ে শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। কিছুদিন আগে বাবা আবদুল কাইয়ুম কিছু মোটরসাইকেল কিনার আবেদন প্রতিকার করেননি, যে হুমকি দিয়ে তরুণ নিজের পরিবার ছাড়া বাইরে বেরোতে চেয়েছিলেন।
পরিবারের নাতি ও বাবার অবস্থা
মাহির ঈশ্বরগঞ্জ সরকারি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করতেন। তাঁর স্থায়ী বাসস্থান ছিল ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার দত্তপাড়া গ্রাম। তাঁর পরিবার এলাকায় স্থায়ী ছিল, কিন্তু বাবা আবদুল কাইয়ুম মুদিদোকান ব্যবসায় সহযোগিতা করতেন।
“ছেলের আবদার মিটাইতেই বাইকটা কিনে দিছিলাম, সেই আবদারই আজ আমার একমাত্র ছেলেকে চিরতরে কেড়ে নিল।”
বাবা আবদুল কাইয়ুম কিছুদিন আগে নাতি মাহিরের বন্ধুদের মোটরসাইকেল কিনার আবেদন প্রতিকার করেননি। তাঁর জেদে তরুণ নিজের বাড়ি ছাড়ার হুমকি দিয়েছিলেন। চার মাস আগে মাহির বাবার দৃঢ় প্রতিশ্রুতিতে পাওয়া যায় যে বাইকটি কেনা হয়েছিল।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক রাশেদ মোশারফ জানান, মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে এক তরুণের মৃত্যু ঘটেছে। ঘটনার পর তদন্ত চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রস্তুত হয়েছে। এই দুর্ঘটনার ঘটনাচক্রে বাড়ি ছাড়ার হুমকি দিয়ে মোটরসাইকেল কিনে নিয়েছিলেন তরুণ।
মাহিরের মৃত্যুতে বাবার শোক গভীর। তিনি বলেন, “আমার নাতি ঘুম থাইক্যা উঠে বাইরে বের অইছে। আমি নাতির লাগি রুটি-মাংস রান্না কইরা রাখছি। বাইরে থেকে আইয়্যা খাইবো, ও মাহির এহন তোর রুটি মাংস কেলা (কে) খাইবো?”
পরিবারের কথা বলতে এক গ্রামবাসী উল্লেখ করেন, মাহির সেই হুমকি দিয়ে বাড়ি ছাড়া কিছুক্ষণ আগে আইন ও বিধি অনুসারে চলছিলেন। তিনি কলেজে সম্পূর্ণ ছাত্র ছিলেন এবং মোটরসাইকেল কিনে নিয়েছিলেন বাবার পরিবার ছাড়া। দুর্ঘটনার সময় তিনি স্থান বিশেষে যাচ্ছিলেন।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার প্রতিনিধি জানান, এই ঘটনার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিবার দুঃখে আচ্ছন্ন হয়েছে এবং বাইক কিনে নিয়েছিলেন বাবার হুমকি দিয়ে তরুণের এই মৃত্যু দ্বারা সেই আবদার নিয়ে গেল প্রাণ। তিনি ছিলেন স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃদ্ধি ও অগ্রগতির প্রতিনিধি।
