Uncategorized

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একা অংশ নিতে চায় জামায়াত, জোটের অন্যরা কী করবে

স থ ন য় সরক র ন - ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১-দলীয় ঐক্যের অংশীদার হিসেবে অংশ নিয়েছিল জামায়াত ইসলামী। কিন্তু বছরের মাঝামাঝি সময়ে সেই ঐক্যের মধ্যে

Desk Uncategorized
Published August 1, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : Charles Hernandez - banglaprabah.com

স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াতের একক অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত ও জোটভুক্ত দলগুলোর বিকল্প পরিকল্পনা

Banglaprabah.com – স থ ন য় সরক র ন – ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১-দলীয় ঐক্যের অংশীদার হিসেবে অংশ নিয়েছিল জামায়াত ইসলামী। কিন্তু বছরের মাঝামাঝি সময়ে সেই ঐক্যের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। সামনের স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার চিন্তা জামায়াতের মধ্যে চলছে, অন্যদিকে জোটভুক্ত কয়েকটি দলের ভাবনা ভিন্ন।

জামায়াতের একক অংশগ্রহণের যুক্তি

জামায়াতের নেতারা যুক্তি দেখান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আসনভিত্তিক নয়। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি করপোরেশন পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক পদে কেন্দ্রীয়ভাবে সমঝোতা করা বাস্তবসম্মত নয়। এ নির্বাচন দলীয় সাংগঠনিক শক্তি ও স্থানীয় নেতৃত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্র। তাই প্রতিটি দলের নিজেদের সাংগঠনিক সক্ষমতা যাচাইয়ের সুযোগ থাকা উচিত।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে সমঝোতা করতেই কয়েক মাস সময় লেগেছিল। স্থানীয় সরকারের বিপুলসংখ্যক পদে সে ধরনের সমঝোতা বাস্তবসম্মত নয়। অতীতে কখনো জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনও হয়নি। তবে স্থানীয় পর্যায়ে কোথাও সমঝোতা হলে কেন্দ্র থেকে কোনো বাধা থাকবে না।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ২০ জুলাই প্রথম আলোকে এই মন্তব্য করেছিলেন। জামায়াতকে বাদ দিয়ে কয়েকটি দলের সমঝোতার আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এমন কোনো আলোচনার বিষয়ে তাঁর জানা নেই। পরিস্থিতি তৈরি হলে তখন বিষয়টি বিবেচনা করা যাবে।

খেলাফত মজলিস ও বিকল্প দলগুলোর অবস্থান

১১-দলীয় ঐক্যের একাধিক সূত্র জানায়, জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা না হলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিস বিকল্প নির্বাচনী বোঝাপড়ার চিন্তা করছে। এ আলোচনায় জাতীয় নাগরিক পার্টিকেও (এনসিপি) যুক্ত করার চেষ্টা করছে তারা। অন্য কয়েকটি দল জাতীয় নির্বাচনের মতোই সমন্বিত কৌশলের পক্ষপাতী।

মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতারাও জোটগত নির্বাচনের পক্ষে। দলটির এক যুগ্ম মহাসচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, জামায়াত যদি এককভাবে নির্বাচন করতে চায়, তাহলে দ্রুত যেন সেটি স্পষ্ট করে। তাহলে তাঁরা অন্য দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার আলোচনার উদ্যোগ নেবেন।

সময়সীমা ও নির্বাচনী প্রস্তুতি

সরকার ও ইসি সূত্র জানায়, আগস্টের শেষে বা সেপ্টেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। শুরুতে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এরপর ধাপে ধাপে সিটি করপোরেশনসহ অন্য স্তরগুলোর নির্বাচন হবে। ১০ থেকে ১২ মাসে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটিই হবে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার দলগুলোর প্রথম বড় নির্বাচনী পরীক্ষা। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সাংগঠনিক শক্তি যাচাইয়ের সুযোগ হিসেবে দেখছে প্রায় সব দল। সে কারণেই প্রার্থী ও সমঝোতা নিয়ে আলোচনা আগেভাগেই শুরু হয়েছে।

খেলাফত মজলিসের অসন্তোষ ও নতুন পরিকল্পনা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দীর্ঘ আলোচনার পর আসন সমঝোতা হলেও প্রত্যাশার তুলনায় কম আসন পাওয়া নিয়ে অসন্তোষ ছিল ১১-দলীয় ঐক্যভুক্ত কয়েকটি দলের। সবচেয়ে বেশি অসন্তোষ ছিল মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ ও আহমদ আবদুল কাদেরের নেতৃত্বাধীন খেলাফত মজলিসের। ১০টি আসনে সমঝোতা হলেও দলটির দাবি ছিল আরও বেশি। সংরক্ষিত নারী আসন না পাওয়া দলটি মনে করছে, জোটে তাদের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে।

সর্বশেষ ২৫ জুলাই খেলাফত মজলিস সিদ্ধান্ত জানায়, তারা আর ১১-দলীয় ঐক্যের কোনো কর্মসূচিতে যাবে না। খেলাফত মজলিসের নেতারা বলছেন, তাঁরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। সেটি সম্ভব না হলে বিকল্প দুটি পরিকল্পনা রয়েছে। এক, এককভাবে নির্বাচন; দুই, জামায়াতের বাইরে কয়েকটি দলের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচন।

জামায়াতের নেতাদের যুক্তি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় সাংগঠনিক সক্ষমতা ও স্থানীয় নেতৃত্ব যাচাইয়ের ক্ষেত্র। তাই কেন্দ্রীয়ভাবে সমঝোতার বদলে এককভাবে নির্বাচন করাই বাস্তবসম্মত। অন্যদিকে ১১-দলীয় ঐক্যভুক্ত কয়েকটি দলের যুক্তি, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও জোটগত সমন্বয় না থাকলে মাঠপর্যায়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। যেসব এলাকা ঐক্যভুক্ত একাধিক দলের শক্ত অবস্থান রয়েছে, সেখানে একক প্রার্থী না দিলে ভোট ভাগ হয়ে যাবে।

Leave a Comment