পেয়ারার জনপদে টিকে থাকার লড়াইয়ে চাষিরা
প য় র র জনপদ ট ক – ১১ জুলাই বৃহস্পতিবার, আষাঢ়ের এক সকালে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার আটঘর-কুড়িয়ানা পৌঁছতে পৌঁছাতেই আকাশের রং বদলে গেল। খালের বুকজুড়ে ছোট-বড় কয়েক শ নৌকা। কোনো নৌকায় শুধু পেয়ারা, কোনো নৌকায় লেবু, আবার কোথাও ডাব হাট বসেছে।
কুড়িয়ানা বাজারের দক্ষিণ দিকটায় পুরোনো শিরীষগাছটি ডালপালা ছড়িয়ে জলপথের প্রহরী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সেই ছায়ায় নৌকার ঘাট। পাশে ছোট কোষা নৌকার বিশাল হাট চলছে। সরু খালগুলো দূর থেকে দেখলে মনে হয় মানুষের শরীরের শিরা-উপশিরা।
ফলনের দুর্দশা এবং আর্থিক চাপ
সেই জলপথ বেয়ে কোষা নৌকা এগিয়ে চলে। দুই পাশে সারি সারি পেয়ারা, আমড়া, লেবু ও সবজির বাগান। গাছের ডাল পানির ওপর ঝুঁকে পড়েছে। কোথাও নৌকা বাগানের ভেতর ঢুকে যাচ্ছে সরু পরিখা ধরে।
‘কয়েক বছর ধরেই পেয়ারার ফলন খুব খারাপ। অতিরিক্ত গরমে ফুল, মুকুল, কচি পেয়ারা সব ঝরে গেছে। তাই ফলন কম হয়েছে। দামও কিছুটা কম। এখন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা মণ। এখন আর চাষ করে টিকে থাকা দায়।’
‘আগে পুরো বাগান পেয়ারার ছিল। এখন অনেক জায়গায় লেবু, আমড়া, মাল্টা লাগিয়েছি। শুধু পেয়ারা চাষ করে আর সংসার চলে না।’
এলাকার কয়েকজন চাষি বলেন, এ পরিবর্তন শুধু অর্থনীতির নয়, বদলে যাচ্ছে এ অঞ্চলের শত শত বছরের ঐতিহ্যের ভূগোলও। চাষিদের আক্ষেপ, দীর্ঘদিন ধরে পেয়ারা চাষ করেও তাঁরা পাননি সংরক্ষণাগার, প্রক্রিয়াজাত শিল্প বা সহজ শর্তে ঋণের সুবিধা। তাই ফল দ্রুত পেকে নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে কম দামে তাঁদের বিক্রি করতে হয় উৎপাদিত পেয়ারা। সহজ শর্তে ঋণসুবিধা না থাকায় বাধ্য হয়ে অনেকে উচ্চ সুদে এনজিও থেকে ঋণ নেন। তাই লাভের বড় অংশ চলে যায় সুদ পরিশোধ করতে।
জলপথই জীবন এ অঞ্চলে নৌকা শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, জীবনযাত্রারই অংশ। প্রায় প্রতিটি পরিবারের একটি বা একাধিক কোষা নৌকা আছে। এসব নৌকাতেই মানুষ বাজার করেন, বাগানে যান, ফল পরিবহন করেন, এমনকি সন্তানদের স্কুলেও পৌঁছে দেন। দীর্ঘ খালের দুই পাশে সারি সারি পেয়ারা, আমড়া ও সবজির বাগান। বাগানের ভেতরে পানি চলাচলের জন্য খনন করা হয়েছে অসংখ্য সরু পরিখা। কৃষকেরা এসব ছোট নৌকার সাহায্যে গাছের পরিচর্যা করেন, ফল সংগ্রহ করেন।
ভেনিসের সঙ্গে তুলনা, তবু বাস্তবের সংগ্রাম কুড়িয়ানা-ভীমরুলীর বিস্তী
