কারা চিকিৎসা সংকটে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই ঝরছে প্রাণ
Banglaprabah.com – ৫ বছর ৯ ম স হ সপ – দেশের কারাগারগুলোতে বন্দীর চাপ ধারণক্ষমতার অনেক বেশি হওয়ায় চিকিৎসাসেবা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ৭৫টি কারাগারে যেখানে অনুমোদিত আসন ৪৫ হাজার ১৮৬, সেখানে বন্দীর সংখ্যা এখন ১ লাখ ৬ হাজারের বেশি। এই অতিরিক্ত চাপের মধ্যেই অসুস্থ বন্দীদের অনেকে হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছেন না; পথেই তাঁদের মৃত্যু হচ্ছে।
২০২১ সাল থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ বছর নয় মাসে কারাবন্দী অবস্থায় ১ হাজার ২৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৩০০ জনকে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে বা যাত্রাপথেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। অন্য অনেক বন্দী মারা গেছেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। মৃত্যুর ঘটনাগুলোতে প্রবীণ বয়সই একমাত্র বিষয় নয়; কম বয়সী বন্দীদের মৃত্যুও ঘটছে, যা সময়মতো চিকিৎসা পাওয়ার প্রশ্নকে সামনে এনেছে।
সাম্প্রতিক মৃত্যু ও বাড়তে থাকা হার
সর্বশেষ ঘটনায় ৩৪ বছর বয়সী আবু তাহেরকে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার-২ থেকে অসুস্থ অবস্থায় ঢাকায় জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার রাত সোয়া ৯টার দিকে তাঁকে সেখানে আনা হলেও জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা জানান, তিনি হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা গিয়েছিলেন।
চলতি বছরের প্রথম দিন থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় নয় মাসে অন্তত ২৫১ জন বন্দীর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এতে মাসিক গড় মৃত্যু দাঁড়ায় প্রায় ২৮ জন। বিপরীতে, ২০২১ সাল থেকে ধরা পাঁচ বছর নয় মাসের সামগ্রিক হিসাবে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১৮ জন বন্দীর মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ এ বছর মৃত্যুর গতি আগের গড়ের চেয়ে বেশি।
কারাগারের ভেতরে অসুস্থতা শনাক্ত, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং দ্রুত রেফারের ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এ পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে। গুরুতর রোগীকে বাইরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরিবহন ও যাতায়াতের বিলম্বে চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হতে পারে।
চিকিৎসক, নার্স ও অ্যাম্বুলেন্সের ঘাটতি
কারা হাসপাতালগুলোর জন্য অনুমোদিত চিকিৎসক পদ ১৪৮টি। অথচ স্থায়ী চিকিৎসক আছেন মাত্র দুজন। দীর্ঘদিনের এই জনবল-সংকটের সঙ্গে রয়েছে নার্স ও অ্যাম্বুলেন্সের স্বল্পতা। অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন করা চিকিৎসকেরাও সাধারণত দুই ঘণ্টার বেশি কারা হাসপাতালে থাকেন না বলে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ফলে দিনের সব সময় গুরুতর রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
কোনো মৃত্যু কাম্য নয়। বর্তমানে বন্দীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মৃত্যু বেড়ে গেছে।
ভারপ্রাপ্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল বলেন, অসুস্থ বন্দীকে বাইরের হাসপাতালে নিতে প্রয়োজনের মুহূর্তে ভাড়ায় যানবাহন জোগাড় করতে হয়। এতে সময় লাগে। কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে গুরুতর কোনো রোগীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে যানজটের কারণে অন্তত তিন ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। এমন বিলম্বের মধ্যেই অনেকের অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে যায়।
দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে রোগীদের ঢাকায় পাঠানো হয়। কিন্তু ঢাকার বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়ার আগে অনেককে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এই ধাপগুলো দ্রুত সম্পন্ন না হলে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কারা হাসপাতালেই জরুরি চিকিৎসা অবিলম্বে দেওয়া সম্ভব হলে কিছু মৃত্যুর ঝুঁকি কমতে পারত বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
‘ব্রট ইন ডেড’ ঘটনায় সতর্কতা
হাসপাতালে মৃত অবস্থায় বন্দী পৌঁছানোর ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় কারা অধিদপ্তরও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গত ২৫ জানুয়ারি সব জেল সুপারকে পাঠানো এক নির্দেশনায় বলা হয়, বিভিন্ন কারাগার থেকে ‘ব্রট ইন ডেড’ বা মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনার ঘটনা আশঙ্কাজনক মাত্রায় বেড়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে এবং পথে মৃত্যু প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
তবে নির্দেশনার পরও ঘটনাগুলো চলতে থাকায় বাস্তব সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। শুধু হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ থাকলেই যথেষ্ট নয়; রোগীর অবস্থা দ্রুত মূল্যায়ন, পর্যাপ্ত জরুরি ওষুধ, দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী, প্রস্তুত অ্যাম্বুলেন্স এবং গন্তব্য হাসপাতালে পৌঁছানোর কার্যকর ব্যবস্থা দরকার।
অতিরিক্ত ভিড় ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভিযোগ
বন্দীদের স্বজনদের অভিযোগ, অনেক কারাগারে গাদাগাদি করে মানুষ রাখা হয় এবং পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এমন অবস্থায় সুস্থ ব্যক্তিও অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন; আগে থেকে রোগে ভোগা মানুষের জন্য ঝুঁকি আরও বাড়ে। তাঁদের অভিযোগ, প্রয়োজনের সময়ে চিকিৎসা না পাওয়ায় অনেকের অবস্থা জটিল হয়ে যায়।
সাধারণ সময়ে দেশের কারাগারগুলোতে বন্দীর সংখ্যা ৮০ থেকে ৮২ হাজারের মধ্যে থাকে। বর্তমানে সেই সংখ্যা ১ লাখ ৬ হাজার ছাড়িয়েছে। ৪৫ হাজারের কিছু বেশি ধারণক্ষমতার তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় আড়াই গুণ। ফলে আবাসন, খাদ্য, স্বাস্থ্যবিধি এবং চিকিৎসাসেবা—সব ক্ষেত্রেই চাপ বাড়ার স্বাভাবিক আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশে ১৫টি কেন্দ্রীয় কারাগার ও ৬০টি জেলা কারাগার রয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি বিচারাধীন মামলায় জামিন না পাওয়া আসামিরাও এখানে থাকেন। কারা ব্যবস্থাপনার ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে বন্দীর নিরাপদ হেফাজত, মানবিক আচরণ, বাসস্থান, খাবার, চিকিৎসা, স্বজন ও আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু একজনের জন্য নির্ধারিত জায়গায় প্রায় আড়াইজনকে রাখতে হলে এসব লক্ষ্য বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে যায়।
কারাগারে মৃত্যুর হিসাব কেবল একটি সংখ্যা নয়; প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে চিকিৎসা পাওয়ার সময়, পরিবহনের ব্যবস্থা, কারাগারের ভিড় এবং স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতার প্রশ্ন। জনবল ও অবকাঠামোগত সংকট দূর না হলে গুরুতর অসুস্থ বন্দীদের জন্য হাসপাতালে পৌঁছানোই একটি অনিশ্চিত যাত্রা হয়ে থাকবে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ৫ বছর ৯ ম স হ সপ?
৫ বছর ৯ ম স হ সপ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ৫ বছর ৯ ম স হ সপ matter?
৫ বছর ৯ ম স হ সপ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

