Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

৫ কোটি মানুষের প্রাণ বাঁচানো যে উদ্ভাবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের নাম

Published August 15, 2026 · Updated August 15, 2026 · By Linda Hernandez - banglaprabah.com

Foto : Linda Hernandez - banglaprabah.com

ওআরএস উদ্ভাবনে বাংলাদেশের অবদান: পাঁচ কোটি মানুষের প্রাণ বাঁচানো বিজ্ঞানের অগ্রগতি

Banglaprabah.com – ৫ ক ট ম ন ষ র - আমরা সাধারণত ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন বা ওআরএসকে খাওয়ার স্যালাইন বা ওরস্যালাইন নামেই চিনি। কলেরা বা অনুরূপ ডায়ারিয়াজনিত রোগে শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতেই এই ওষুধটি তৈরি হয়েছিল। এই উদ্ভাবনের ইতিহাসে বাংলাদেশের নাম অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত।

কলকাতা থেকে শুরু হওয়া গবেষণা

১৯৫২ সালের দিকে কলকাতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা সম্পন্ন হয়। এই গবেষণার মূল বিষয় ছিল—কলেরা রোগীদের তরল খাওয়ানো কি সত্যিই রোগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে? এই গবেষণার ফলাফল নিয়ে কলকাতার চিত্তরঞ্জন হাসপাতালের কলেরা ওয়ার্ডের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক হেমেন্দ্রনাথ চ্যাটার্জি ১৯৫৩ সালের ২১ নভেম্বর ল্যানসেট সাময়িকীতে একটি প্রবন্ধ লেখেন।

প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৫২ ও ১৯৫৩ সালে কলেরা আক্রান্ত কিছু রোগীর বমি বন্ধ করতে এবং পানিশূন্যতা দূর করতে অ্যাভোমিন ট্যাবলেটের পাশাপাশি পাথরকুচির পাতার রস খাওয়ানো হয়েছিল। এই পদ্ধতিতেও সফলতা মিলেছিল।

পূর্ব পাকিস্তানে গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা

গত শতকের ষাটের দশকের শুরুতে বা তারও আগে থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, দক্ষিণ ভিয়েতনাম এবং পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) কলেরা নিয়ন্ত্রণে গবেষণা চালু হয়। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ ছিল। আমাদের এখানে এই গবেষণা পরিচালনা করেছিল পাক-সিডিসি কলেরা রিসার্চ ল্যাবরেটরি, যা আজ আইসিডিডিআরবি নামে পরিচিত।

আইসিডিডিআরবির চাঁদপুরের মতলব ও ঢাকা হাসপাতালে মাঠপর্যায়ে ওআরএসের কার্যকারিতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এই গবেষণার মূল বিজ্ঞানী ছিলেন ডেভিড আর নেলিন ও রিচার্ড ক্যাস। তাদের সাথে রিসার্চ ফেলো হিসেবে যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী রফিকুল ইসলাম ও মজিদ মোল্লা। অনেকে এই বিজ্ঞানীদের ওআরএসের উদ্ভাবক হিসেবে স্বীকার করেন।

১৯৬৮ সালের আগস্টে ল্যানসেট তাদের গবেষণা ফলাফল প্রকাশ করে। গবেষণা প্রবন্ধের মোদ্দাকথা ছিল, কলেরা রোগীদের গ্লুকোজ, সোডিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম বাইকার্বোনেট ও পটাশিয়াম ক্লোরাইডের দ্রবণ খাওয়ানোর পর ভালো ফল পাওয়া যায়।

ঢাকা ও কলকাতার সমান্তরাল গবেষণা

ঢাকা ও কলকাতায় কতটা সমান্তরালভাবে ওআরএস নিয়ে গবেষণা চলেছিল, দুই শহরের বিজ্ঞানীদের মধ্যে পার্থক্য কী ছিল, তার একটি বিস্তারিত বর্ণনা ১৯৮৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্টভিউ প্রেস থেকে প্রকাশিত 'কলেরা: দ্য আমেরিকান সায়েন্টিফিক এক্সপেরিয়েন্স ১৯৪৭–১৯৮০' বইয়ে পাওয়া যায়।

ওই গ্রন্থে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় শরণার্থীশিবিরে ওআরএসের ব্যবহার নিয়ে বিশদ বর্ণনা রয়েছে। ওই বছরের জুন নাগাদ পশ্চিমবঙ্গের শরণার্থীশিবিরে কলেরা দেখা দেয়। তখন বনগাঁও এলাকার শরণার্থীদের প্রথম ওআরএস খাওয়ানো হয়। এটাই ছিল ওআরএসের প্রথম ব্যাপক ব্যবহার। ভারতে এই কাজের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন দিলীপ মহলানবিশ।

একক কোনো প্রতিষ্ঠান, একক কোনো বিজ্ঞানী বা বিজ্ঞানী দল খাওয়ার স্যালাইন উদ্ভাবন করেনি। ওআরএসের গ্রহণযোগ্য ফর্মুলা তৈরি হওয়ার আগে অনেকে অনেক ধরনের কাজ করেছেন। ম্যানিলায় কিছু কাজ হয়েছে, কিছু হয়েছে ঢাকায়, কিছু কলকাতায়। ওআরএসের চূড়ান্ত রূপটি এসেছে ১৯৬৭ বা ১৯৬৮ সালের দিকে।

বাংলাদেশে ওআরএসের জনপ্রিয়তা ও ব্র্যাকের ভূমিকা

স্বাধীনতার পর দেশে ডায়ারিয়াজনিত রোগের প্রকোপ ছিল প্রবল। শিশুমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণও ছিল ডায়ারিয়া। তখন মানুষের বাসায় বাসায় ওআরএসের প্যাকেট পৌঁছানো সম্ভব ছিল না। ওই পটভূমিতে ওআরএস বা মুখে খাওয়ার স্যালাইনকে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে উদাহরণ সৃষ্টি করেছিল, বিশ্বের জনস্বাস্থ্য আন্দোলনে তা বিরল।

বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি পরিবারকে খাওয়ার স্যালাইন তৈরির পদ্ধতি বা কৌশল শেখিয়েছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্র্যাকের মাঠকর্মীরা। ১৯৮০ সালে ডায়ারিয়া সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা ও বাসাতে খাওয়ার স্যালাইন তৈরির প্রকল্প শুরু করে ব্র্যাক।

‘এক চিমটি লবণ, এক মুঠ গুড় ও আধা সের পানি’—এই ফর্মুলা নিয়ে মাঠে নামে ব্র্যাক।

বাসায় বাসায় গিয়ে ব্র্যাকের কর্মীরা শেখিয়েছিলেন: প্রথমে ফুটিয়ে পানি জীবাণুমুক্ত করতে হবে, একটি পাত্রে আধা সের (আধা লিটারের কিছু বেশি) পানিতে এক চিমটি লবণ ও এক মুঠ গুড় নিয়ে ভালো করে গুলতে বা ঘুঁটতে হবে। সেই দ্রবণ ডায়ারিয়ার রোগীকে খাওয়াতে হবে। ব্র্যাকের লক্ষ্য ছিল দেশের প্রতিটি পরিবারের অন্তত একজনকে এই দ্রবণ তৈরি শেখাতে হবে। ব্র্যাকের পাশে ছিল সরকার।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ওআরএসের প্রসার

ল্যানসেট-এর ১৯৭৮ সালের ৫ আগস্ট সংখ্যার সম্পাদকীয়র বিষয় ছিল ওআরএস। তাতে বলা হয়েছিল, ওআরএসের উদ্ভাবন চিকিৎসাক্ষেত্রে শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তার ২৮ বছর পর ২০০৬ সালের ১৬ অক্টোবর এক চিমটি লবণ, এক মুঠ গুড় ও আধা সের পানি—এই ফর্মুলার সাফল্য নিয়ে প্রচ্ছদ প্রতিবেদন করে টাইম ম্যাগাজিন।

এগুলো বিশ্বের মানুষের কাছে ওআরএসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বেড়ে যাওয়ার উদাহরণ। এরই মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ ওআরএসের ব্যবহার বৃদ্ধির ব্যাপারে উদ্যোগী হয়। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ডায়ারিয়া ব্যবস্থাপনা ও ওআরএসের ব্যবহার নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হতে থাকে। তার নেতৃত্বে ছিলেন আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানী ও প্রশিক্ষকেরা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ডায়ারিয়া হলে পাখানার সঙ্গে শরীর থেকে দ্রুত পানি বের হয়ে যায়। ওআরএসের মাধ্যমে সেই পানি প্রতিস্থাপন করা হয়। ওআরএস ব্যবহার করে এ পর্যন্ত পাঁচ কোটির বেশি মানুষের প্রাণ রক্ষা হয়েছে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ৫ ক ট ম ন ষ র?

৫ ক ট ম ন ষ র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ৫ ক ট ম ন ষ র matter?

৫ ক ট ম ন ষ র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.