১৫ দফা গাজা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে কেন ট্রাম্পকে খেপিয়ে তুলছেন নেতানিয়াহু
ট্রাম্পের ১৫ দফা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান: নেতানিহুর কৌশল
Banglaprabah.com – ১৫ দফ গ জ পর কল পন - গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের তৈরি রোডম্যাপ নিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনামিন নেতানিহুর নতুন অবস্থান। গতকাল রোববার সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভা বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইসরায়েল কোনোভাবেই ওই ১৫ দফা পরিকল্পনাটি গ্রহণ করছে না। এই অবস্থান টানা দুবার জোর দিয়ে পুনরাবৃত্তি করেন তিনি।
আমি অনেককে বলতে শুনেছি, 'আপনি তো পরিষ্কার করে কিছু বলেননি।' তাই আমি আবারও বলছি, ইসরায়েল কোনোভাবেই ওই ১৫ দফা পরিকল্পনা গ্রহণ করছে না।
ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদের ঘোষণা ও চাপ
নেতানিহুর এই দৃঢ় অবস্থান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ, এতে ট্রাম্প তাঁর ওপর ব্যাপক ক্ষুব্ধ হতে পারেন। ইরান নীতিতে বড় ধাক্কা খাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখন যেকোনো মূল্যে একটি রাজনৈতিক জয় পেতে মরিয়া। সেই তাড়াহুড়ো থেকেই দিন দশেক আগে তিনি নতুন করে গাজা ইস্যুতে মনোযোগ দেন।
ট্রাম্প ঘোষণা করেন, তাঁর গঠিত বোর্ড অব পিস বা শান্তি পর্ষদ হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে পৌঁছেছে। এরপরই এই পর্ষদের প্রধান দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) বিষয়টি আরও খোলাসা করেন। তিনি বলেন, হামাসের অস্ত্র সমর্পণ এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার—দুটি প্রক্রিয়াই ধাপে ধাপে ও একসঙ্গে চলতে হবে।
নেতানিহুর শর্ত ও হামাসের প্রতিক্রিয়া
গতকাল রোববার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, হামাস সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত আইডিএফ এক চুলও সেনা প্রত্যাহার করবে না। তিনি বলেন, 'হামাসের নিরস্ত্রীকরণ বলতে আমি তাদের ভারী অস্ত্র, হালকা অস্ত্রসহ সব ধরনের অস্ত্রের কথাই বোঝাচ্ছি। আমরা এখানে প্রকৃত নিরস্ত্রীকরণ দেখতে চাই, কাগজে-কলমে কোনো ভুয়া নিরস্ত্রীকরণ নয়।'
গতকাল বিকেল পর্যন্ত ট্রাম্প অবশ্য এ বিষয়ে নিজের অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কিছু বলেননি। তবে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের একটি বক্তব্য শেয়ার করেন। সেখানে হিলারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
গতকাল সন্ধ্যায় ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্লাদেনভ ইঙ্গিত দিয়েছেন, ধাপে ধাপে নিরস্ত্রীকরণের পরিকল্পনাই হতো এখনো বহাল আছে। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, প্রথম পদক্ষেপটি হামাসকেই নিতে হবে। ম্লাদেনভ বলেন, মাঠে বাস্তব পদক্ষেপের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার আগে কাউকেই কিছু করতে হবে না, বিশেষ করে ইসরায়েলকে তো নয়ই। যদি অস্ত্র নিষ্ক্রিয়করণের বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়—অর্থাৎ, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নিয়ে তা গুদামজাত করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত অকেজো করে দেওয়া হয়, কেবল তখনই ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে।
ভোটারদের উদ্দেশ্যে নেতানিহুর বার্তা এই পুরো প্রক্রিয়ায় অবশ্য সন্দেহের কারণও কম নেই। ইসরায়েল ও হামাস—দুই পক্ষেরই স্বার্থ হলো, কোনো সমঝোতা ব্যর্থ হলে তার দায় যেন অন্য পক্ষের ঘাড়ে চাপানো যায়। তাই নেতানিহুর বক্তব্যের জবাবে হামাস বেশ সংযত ও মাপা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা বলেছে, এখনো সেই রোডম্যাপের প্রতি তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি 'শান্তি পর্ষদ' নেতানিহুর ওপর পরিকল্পনাটি মেনে চলার জন্য চাপ দেবে বলেও আশা প্রকাশ করছে হামাস।
প্রশ্নোত্তর: ১৫ দফা পরিকল্পনা নিয়ে
প্রশ্ন: ১৫ দফা পরিকল্পনার মূল শর্ত কী? উত্তর: হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি সেনা ধাপে ধাপে প্রত্যাহার।
প্রশ্ন: নেতানিহু কেন এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করলেন? উত্তর: তিনি চান হামাস প্রথমেই সব অস্ত্র সমর্পণ করুক, তারপরই ইসরায়েল সেনা প্রত্যাহার করবে।
প্রশ্ন: হামাস কি সব অস্ত্র ছেড়ে দেবে? উত্তর: অনেকে সন্দিহান। এসব অস্ত্রই ফিলিস্তিনি প্রতিরোধে হামাসের নেতৃত্বের সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রতীক।
প্রশ্ন: ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদ কী ভূমিকা পালন করবে? উত্তর: এই পর্ষদ উভয় পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করবে এবং চুক্তির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ১৫ দফ গ জ পর কল পন?১৫ দফ গ জ পর কল পন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ১৫ দফ গ জ পর কল পন matter?১৫ দফ গ জ পর কল পন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.