Uncategorized

১০ বছরের মুনাফার অর্থ কোথায় গেল

editorial_5

১০ বছরের মুনাফা কোথায়: বিপিসির তরল্যসংকট ও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব

Banglaprabah.com – ১০ বছর র ম ন ফ র – মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ শুধু ওই অঞ্চলেই নয়, বিশ্বজুড়ে জ্বালানিবাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি করেছে। বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এই পরিস্থিতি অভাবনীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় জাহাজ ভাড়া, যুদ্ধঝুঁকির বিমা এবং পরিবহন খরচসহ বিভিন্ন অতিরিক্ত ব্যয় বেড়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে বিপিসির নগদ অর্থের সংকটের খবর উদ্বেগজনক।

সরকার তেল ও বিদ্যুতের দাম একবারে বাড়িয়েছে। সামষ্টিক অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে এর প্রভাব পড়েছে। যদি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের ওপর চাপ আরও বাড়বে।

উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা ব্যবহার ও সরকারি সহায়তা চাওয়া

প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় রাষ্ট্রাধীন সংস্থাটিকে গত চার মাসে উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য সংরক্ষিত প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা চলতি মূলধন হিসেবে ব্যবহার করতে হয়েছে। এ সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকে গচ্ছিত বিপিসির আমানতও কমে গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিপিসি এখন সরকারের কাছে ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা চেয়েছে।

জ্বালানি তেল আমদানি যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে জন্য সরকারকে আগেভাগেই যৌক্তিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। কারণ, সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি থাকলে কত বড় সংকট তৈরি হয়, সেটা আমরা মার্চ-এপ্রিল মাসে দেখেছি। ঢাকাসহ সারা দেশে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে হয়েছে।

কৃষকেরা ঠিকমতো তেল না পাওয়ায় বোরো ধানের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে এবং লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উৎপাদন হার কম হয়েছে। এ ছাড়া গত ২১ জুলাই কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি এলএনজি টার্মিনালের একটির বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশে তীব্র গ্যাস-সংকট সৃষ্টি হয়। ফলে শিল্পকারখানার উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যায় এবং উদ্যোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।

১০ বছরের মুনাফার অর্থ কোথায় গেল?

তেল আমদানি অব্যাহত রাখার জন্য সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তা চাওয়ার যে প্রশ্ন সামনে এসেছে, সেটা হলো এত মুনাফা করার পরও বিপিসি কীভাবে তারল্যসংকটে পড়ল। ২০২৩ সালের পর থেকে সংস্থাটি মুনাফা করে এসেছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ১০ বছরে সংস্থাটি মুনাফা করে ৫৫ হাজার কোটি টাকা। সংস্থাটি অবশ্য দাবি করেছে, মুনাফার বড় অংশ (৩৪ হাজার কোটি টাকা) সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

মুনাফার অর্থ যদি বিপিসির কাছে থাকত, তাহলে জরুরি আপৎকালীন সময়ে সেখান থেকে নিয়ে আর্থিক চাপ কিছুটা হলেও মোকাবিলা করা সম্ভব ছিল। সেটা না হওয়ায় বিপিসিকে উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা ব্যবহার ও সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় সংস্থা হিসেবে বিপিসি মুনাফা করতে পারে কি না, সেই অর্থ অন্য খাতে ব্যয় হতে পারে কি না, এ বিতর্ক অনেক পুরোনো।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বিপিসির ‘মুনাফার কতটা সরকারের কোষাগারে গেছে, কতটা সংস্থার কাছে সংরক্ষিত ছিল এবং কতটা অন্য খাতে ব্যয় হয়েছে, সেটিও জনসমক্ষে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন’ বলে অভিমত দিয়েছেন, সেটা যথার্থ। বিপিসিতে অবশ্যই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

বিপিসি কেন সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তা চাইছে? মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপিসি উন্নয়ন প্রকল্পের ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যবহার করেছে। এছাড়া ব্যাংকে গচ্ছিত আমানতও কমে গেছে, তাই ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

১০ বছরে বিপিসির মোট মুনাফা কত? ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত বিপিসি মোট ৫৫ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছে। এর মধ্যে ৩৪ হাজার কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে কী প্রভাব ফেলেছে? হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় জাহাজ ভাড়া, যুদ্ধঝুঁকির বিমা এবং পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। এছাড়া কক্সবাজারের এলএনজি টার্মিনালের বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে তীব্র গ্যাস-সংকট সৃষ্টি হয়।

Frequently Asked Questions

What is ১০ বছর র ম ন ফ র?

১০ বছর র ম ন ফ র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ১০ বছর র ম ন ফ র matter?

১০ বছর র ম ন ফ র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *