ইয়েমেনে হুতি-বিরোধী তৎপরতা জোরদার করছে সৌদি সমর্থিত বাহিনী
Banglaprabah.com – হ ত দ র ওপর ব য – লোহিত সাগরসংলগ্ন কৌশলগত জলপথ ও ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হুতিদের সঙ্গে সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। সরকারি ইয়েমেনি বাহিনী সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হুতি অবস্থানে বড় পরিসরে হামলা চালানোর দাবি করেছে। একই সময়ে সৌদি আরব স্থল ও আকাশপথে সমন্বিত একটি বড় অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
পরিকল্পিত এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে বাব আল-মানদেব প্রণালির আশপাশে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে থাকা এই প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হুতিরা ইয়েমেনের আরও কিছু এলাকা দখলে নিয়ে সেখানে নিজেদের প্রভাব বাড়িয়েছে, যা সৌদি আরব ও ইয়েমেনি বাহিনীর সামরিক হিসাবকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিমান হামলার দাবি ও স্থল অভিযানের প্রস্তুতি
গত শুক্রবার ইয়েমেনি বাহিনী জানায়, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় হুতি লক্ষ্যবস্তুতে ৪৭৪টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। বাহিনীর দাবি, এসব হামলায় ১ হাজার ৫৪০ হুতি যোদ্ধা হতাহত হয়েছেন এবং গোষ্ঠীটির ২১৬টি সামরিক যান ও অন্যান্য সক্ষমতা ধ্বংস হয়েছে।
এরপর শনিবার তাইজ অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে আরও ৭১টি হামলার কথা জানানো হয়। তবে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির স্বাধীন যাচাই প্রায়ই কঠিন হয়ে পড়ে। তবু টানা হামলার ঘোষণাগুলো থেকে বোঝা যায়, হুতি নিয়ন্ত্রিত বা প্রভাবাধীন এলাকায় চাপ বাড়াতে সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্ররা সক্রিয় রয়েছে।
সম্ভাব্য নতুন অভিযানে এক লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনাকে স্থলে মোতায়েন করা হতে পারে। আকাশ থেকে সৌদি আরব সহযোগিতা দেবে—এমন পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এ পদক্ষেপ শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাব আল-মানদেবের পাশাপাশি আল-বায়দা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফেও বড় ধরনের সামরিক তৎপরতা চালানো হতে পারে। এসব অঞ্চল ইয়েমেনের যুদ্ধের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ স্থল নিয়ন্ত্রণ, সরবরাহপথ এবং স্থানীয় জোটগুলোর শক্তির ভারসাম্য সেখানে সংঘাতকে প্রভাবিত করে।
সৌদি ভূখণ্ডেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা
ইয়েমেনের যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে। সৌদি সরকারের তথ্য অনুযায়ী, আসির অঞ্চলের আহাদ রাফিদাহ এলাকায় হুতিদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। একই সময়ে নাজরান শহরের একটি স্কুল ভবনে আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ওই ঘটনায় হতাহতের কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
দক্ষিণ সীমান্তে এমন হামলা সৌদি আরবের জন্য প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। স্থল অভিযানের সম্ভাবনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সীমান্তবর্তী শহর, বন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তার বিষয়টিও আরও গুরুত্ব পাচ্ছে।
মিত্রদের সহায়তা
হুতি-বিরোধী তৎপরতায় সৌদি আরব কয়েকটি দেশের সহযোগিতা পাচ্ছে। ওয়াশিংটনের এক কূটনীতিকের তথ্যমতে, হুতি অবস্থানে বিমান হামলার জন্য গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ প্রতিরক্ষামূলক সামরিক সহায়তাও দিচ্ছে রিয়াদকে।
গত মাসে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে সৌদি আরব। পাকিস্তানের একটি সূত্র জানায়, সংঘাত শুরুর পর ইসলামাবাদ চারটি কার্গো উড়োজাহাজে আকাশ প্রতিরক্ষাসামগ্রী, হালকা গোলা, ড্রোন এবং ড্রোন প্রতিরোধব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ইয়েমেনের বন্দরনগর এডেনে পাঠিয়েছে। এডেন বর্তমানে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারের নিয়ন্ত্রণে।
পাকিস্তানের আরেক কর্মকর্তা জানান, সৌদি স্থলসীমা সুরক্ষায় ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার পাকিস্তানি সেনা দেশটিতে মোতায়েন করা হয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে তাঁদের সৌদি আরবে পৌঁছানো শুরু হয় এবং সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার পরও সেনা পাঠানো হয়েছে। তবে ইয়েমেনে পাকিস্তানি সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই।
রিয়াদ তুরস্ক থেকে কেনা ড্রোনও হুতিদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। এসব ড্রোন জুলাইয়ে নতুন সংঘাত শুরুর আগেই কেনা হয়েছিল। অন্যদিকে, ফ্রান্স লোহিত সাগরে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইয়ানবু বন্দর রক্ষায় সেনাসদস্য ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। চলমান সংঘাতের মধ্যে বন্দরটি হামলার মুখে পড়েছিল।
২০১৫ সালের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা
সৌদি আরব ২০১৫ সালে ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। সেই সংঘাত ২০২২ সালে শেষ হয়। যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি আরবের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাইকেল র্যাটনির মূল্যায়ন, এবারকার সম্ভাব্য অভিযান ২০১৫ সালের সামরিক তৎপরতার মতো বিস্তৃত নাও হতে পারে। বরং বাব আল-মানদেব হয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করাই প্রধান উদ্দেশ্য হতে পারে।
“সৌদি আরবের সম্ভাব্য অভিযানের ব্যাপ্তি হয়তো ২০১৫ সালের মতো অত ব্যাপক হবে না।”
সৌদি রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলী শিহাবির মতে, মিত্রদের সামরিক ও গোয়েন্দা সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও অভিযানের বাস্তব ফল অনেকাংশে নির্ভর করবে ইয়েমেনি স্থলবাহিনীর সক্ষমতার ওপর। এত দিন তাদের ভূমিকা বড় অংশে প্রতিরক্ষামুখী ছিল। নতুন অভিযান শুরু হলে তাদের আক্রমণাত্মক অবস্থানে যেতে হতে পারে।
সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছে সাধারণ মানুষ
সামরিক উত্তেজনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ইয়েমেনের সাধারণ জনগণ। যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির কারণে লাখো মানুষ অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন। খাদ্য, আশ্রয়, চিকিৎসা এবং নিরাপদ চলাচল—সব ক্ষেত্রেই বহু পরিবারের সংকট প্রকট।
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, সরকারনিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনি এলাকাগুলোতে প্রায় ৭৪ শতাংশ পরিবার দৈনন্দিন খাবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। অর্থাৎ প্রতি চারটি পরিবারের তিনটিই ক্ষুধার মধ্যে রয়েছে। নতুন করে সামরিক অভিযান বিস্তৃত হলে সরবরাহব্যবস্থা, বাস্তুচ্যুতি এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথ আরও চাপে পড়তে পারে।
ফলে বাব আল-মানদেবের নিরাপত্তা ও সামরিক লক্ষ্য সামনে থাকলেও ইয়েমেনের জন্য বড় প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা। সংঘাতের পরবর্তী ধাপ শুধু যুদ্ধক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করবে না; এটি দেশটির মানবিক সংকট আরও গভীর হয় কি না, সেটিও ঠিক করে দিতে পারে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is হ ত দ র ওপর ব য?
হ ত দ র ওপর ব য is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does হ ত দ র ওপর ব য matter?
হ ত দ র ওপর ব য matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

