Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

হাওর থেকে যুক্তরাজ্যের শেফিল্ডে, একসঙ্গে তিন বৃত্তি পাওয়া শামসুল আলমের স্বপ্নপূরণের গল্প

Published August 17, 2026 · Updated August 17, 2026 · By Jennifer Rodriguez - banglaprabah.com

Foto : Jennifer Rodriguez - banglaprabah.com

হাওরের কিশোর থেকে শেফিল্ডের স্নাতকোত্তর: শামসুল আলমের অসাধারণ পথচলা

Banglaprabah.com – হ ওর থ ক য ক তর - ২০২৪ সালে একই বছরে তিনটি আন্তর্জাতিক ও জাতীয় মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তি পাওয়া একজন বাংলাদেশি প্রকৌশলীর গল্প। যুক্তরাজ্য সরকারের কমনওয়েলথ স্কলারশিপ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপ এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ—এই তিনটির মধ্যে শেষ পর্যন্ত তিনি বেছে নেন কমনওয়েলথ স্কলারশিপ। এর ফলে তাঁর জীবনপথে যুক্ত হয় যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব শেফিল্ডে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির সুযোগ।

এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে নেত্রকোনার মদন উপজেলার চানগাঁও গ্রামের চকপাড়া থেকে শুরু হওয়া এক দীর্ঘ যাত্রা। ডাকনাম সম্রাট—নামের সঙ্গে তাঁর জীবনপথের কোনো মিল নেই, বরং সেখানে আছে অসংখ্য বাধা-বিঘ্নের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাশক্তি।

হাওরবেষ্টিত গ্রামে শৈশব

১৯৯১ সালের ৩ জুন মাতুলালয় চকপাড়াতে জন্ম নেয় মো. শামসুল আলম। পৈতৃক নিবাস একই উপজেলার গোবিন্দশ্রী গ্রামে। বছরের প্রায় ছয় মাস হাওরের জলরাশিতে গ্রামটি দ্বীপের মতো আলাদা হয়ে যায়। বর্ষাকালে নৌকা ছাড়া চলাচল প্রায় অসম্ভব। বিদ্যুৎসহ নাগরিক সুবিধার অভাবে রাতের দিন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন রকমের।

পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থাও সহজ ছিল না। প্রাকৃতিক দুর্যোগে টানা বছরগুলোতে বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সংসারে সামাজিক চাপ সৃষ্টি করত। তবে সন্তানদের শিক্ষা নিয়ে কোনো আপস করা হয়নি। ব্যবসায়ী মো. হারুন অর রশিদ ও গৃহিণী মমতা আক্তারের দুই সন্তানের মধ্যে বড় শামসুল। ছেলের ভালো শিক্ষার সুবিধার্থে পিতা আলাদাভাবে উপজেলা সদরে, মাতুলালয়ের কাছে স্থানান্তরিত হন।

শিক্ষা-পথের ধাপগুলো

গোবিন্দশ্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনার হাতেখড়ি। এরপর তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি জাহাঙ্গীরপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রাথমিক শেষে জাহাঙ্গীরপুর টি আমিন পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি। ২০০৭ সালে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি—জিপিএ ৪.৩৮। ২০০৯ সালে নেত্রকোনা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি, জিপিএ-৫। কলেজের প্রায় সব পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন তাঁকে দিন দিন আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলে। তখনই জীবনের লক্ষ্য স্পষ্ট হয়—প্রকৌশলী হওয়া।

চুপেটে প্রকৌশল ও গবেষণা

২০১৪ সালে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুপেট) থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন। একাডেমিকের বাইরে গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, সাংবাদিকতা ও সাংগঠনিক কাজে সক্রিয়। চুপেট সাংবাদিক সমিতির সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন। শিক্ষার্থীদের গবেষণা-সংগঠন অ্যান্ড্রোমিডা স্পেস অ্যান্ড রোবোটিকস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (আসরো)-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা। বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির প্রেস সেক্রেটারিও।

প্রযুক্তি-উদ্ভাবনে তাঁর কাজের তালিকা দীর্ঘ: বাংলা ভাষায় নির্দেশনা দেওয়া যাওয়া রোবট, তাপমাত্রা-নিয়ন্ত্রিত বৈদ্যুতিক ফ্যান ও বাতি, ডিজিটাল থার্মোমিটার, ফ্লুইড ভেলোসিটি মিটার, পরিবেশ পর্যবেক্ষণকারী রোবট। এসব প্রকল্পে একাধিকবার স্বীকৃতি। ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আয়োজিত 'ডিজিটাল আইটি মেলা'-তে তাঁর সহপাঠীদের সঙ্গে গঠিত স্টল প্রথম স্থান লাভ করে। ভেলোসিটি মিটার প্রকল্পটি চুপেটের পুরকৌশল বিভাগের একাডেমিক ল্যাবে অধ্যাপক আরিশা আখতারের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘদিন ব্যবহারিক কাজে প্রয়োগিত। ২০১৪ সালে বাংলা ভাষায় নির্দেশনা অনুযায়ী চলাচলকারী উদ্ধারকারী বাই পেডাল রোবট তৈরি—প্রথম আলোতে সেটির প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। গবেষণাপত্র বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত এবং বহুবার সাইটেশন পেয়েছে।

দেশের সেবায় প্রত্যাবর্তন

স্নাতক শেষে অধিকাংশ সহপাঠী বিদেশে উচ্চশিক্ষা বা কর্মের পথে পাশা খুঁজছিলেন। শামসুল আলম ভিন্ন পথে যান—শেখা জ্ঞান দেশের কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত। নানা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মকাল পার করে ২০১৯ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডে এক্সিকিউটিভ ট্রেইনি (সহকারী ব্যবস্থাপক প্রবেশনার সমতুল্য) পদে যোগদান। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দায়িত্ব।

২০২০ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে জুনিয়র স্পেশালিস্ট হিসেবে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রেরণ করে। সেখানে রূপপুর কেন্দ্রের যন্ত্রপাতির উৎপাদন ও মান পর্যবেক্ষণে কাজ। রাশিয়ার স্টেট নিউক্লিয়ার কর্পোরেশন (রোসাটম), আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ), বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনসহ দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়কর্ম। এরপর বিসিএস গণপূর্ত ক্যাডারে দায়িত্ব পালন।

তিন বৃত্তি, এক নির্বাচন

২০২৪ সালে একই বছরে কমনওয়েলথ স্কলারশিপ, ইরাসমاس মুন্ডাস স্কলারশিপ ও প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ—তিনটি বৃত্তির অধিকারী হন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে বেছে নেন কমনওয়েলথ স্কলারশিপ। এখন শেফিল্ডের স্নাতকোত্তর ডিগ্রির প্রস্তুতি তাঁর সামনে। হাওরের নীরব সন্ধ্যায় বই হাতে বসে ছিলেন সেই কিশোর; আজ তাঁর পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত এক বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is হ ওর থ ক য ক তর?

হ ওর থ ক য ক তর is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does হ ওর থ ক য ক তর matter?

হ ওর থ ক য ক তর matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.