Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

সড়কে বাস পার্কিং কেন, পুলিশ বলল, ‘আপনি নাইম্যা বাস সরায়া দ্যান’

Published September 4, 2026 · Updated September 4, 2026 · By Michael Martin - banglaprabah.com

Foto : Michael Martin - banglaprabah.com

বঙ্গবাজার–গুলিস্তান করিডোর: বাসের সারিতে ডুবে যাওয়া রাজধানীর রক্তনালী

Banglaprabah.com – সড়ক ব স প র ক ক - ঢাকার সবচেয়ে ব্যস্ত বাণিজ্য-যাতায়াত করিডোরগুলোর একটি আজ কার্যত প্যার্কিং লটে পরিণত। বঙ্গবাজার মোড় থেকে গুলিস্তান মোড় পর্যন্ত প্রায় ৭০০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সড়কের উভয় পাশে প্রতিদিন শত শত মানুষের চলাচলের জায়গা বাসের সারিতে হারিয়ে যায়। ফলাফল একটাই — যানজট তীব্র, পথচারী হতাশ, আর প্রশাসনিক উদ্যোগের অভাবের দীর্ঘ ইতিহাস।

একটি প্রশ্ন, একটি অসহায় উত্তর

গত ৩১ আগস্ট দুপুরে মোটরসাইকেলে বসে এগিয়ে যাচ্ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। সামনে দুই পাশে সারিবদ্ধ বাসের দেয়াল, চলাচলের লেন সংকুচিত। তিনি দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্যকে জিজ্ঞেস করেন — রাস্তায় বাস পার্কিং কেন হচ্ছে। উত্তর আসে অপ্রত্যাশিত রূপে:

আমরা পারি না, আপনি একটু বাইক থেকে নামিয়া বাসগুলো সরান দেন।

শিক্ষার্থী তানজীর হোসাইন পরে বলেন, বাস পার্কিংয়ের কারণেই যানজট তৈরি হচ্ছে, অথচ তা নিয়ে পুলিশের এমন গা-ছাড়া বক্তব্যে তিনি হতাশ। ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদকও।

৭৪টি বাস, একজন লাইনম্যানের 'নিয়ন্ত্রণ'

২ সেপ্টেম্বর দুপুরে সরেজমিনে যা দেখা যায় তা আরও চিত্রকে পরিষ্কার করে। মেয়র মোহাম্মদ হানিফ আন্ডারপাসের নিচে বঙ্গবাজার মোড় থেকে গুলিস্তান মোড় পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশের লেনে অন্তত ৭৪টি বাস পার্ক করা অবস্থায় পাওয়া যায়। কোন বাস কোথায় দাঁড়াবে — তা নির্ধারণ ও 'নিয়ন্ত্রণ' করছেন কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের স্থানীয়ভাবে লাইনম্যান বলা হয়। বিভিন্ন পরিবহন প্রতিষ্ঠানের বাস পার্কিংয়ের জন্য তাঁদের সেখানে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।

এভাবে ব্যস্ত সড়কের জায়গা বাসের সারিতে ভরে গেলে যান চলাচলের লেন সংকুচিত হয়ে পড়ে। দিনের পিক আওয়ারে বঙ্গবাজার ও গুলিস্তান এলাকার যানজট আরও তীব্র আকার নেয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দিনের পর দিন এই অবস্থা চলছে, অথচ তা বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

চার মাসের নির্দেশ, বছরের পর বছরের অবহেলা

ঢাকার যানজট কমাতে গত ১৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর ফুলবাড়িয়া–গুলিস্তান বাস টার্মিনাল স্থানান্তর করে কেরানীগঞ্জে নেওয়ার নির্দেশ দেন। এটি প্রথমবার নয় — এর আগেও টার্মিনালটি সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল সরকারের পক্ষ থেকে, কিন্তু সেটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।

ডিএমপির (ট্রাফিক) লালবাগ বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার এহসানুল কামরান তানভীর বিষয়টি স্বীকার করে বলেন:

বাস পার্কিংয়ের কারণে এই এলাকার যানজটের সৃষ্টি হয়। মাঝে ডিসি স্যার এটা বন্ধ করেছিলেন। তবে আবার বাস পার্কিং শুরু হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সরকার ওই এলাকার বাস টার্মিনাল আগামী চার মাসের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে সমস্যার সমাধান হবে।

মোটরসাইকেল রাখার জন্য গালিগালাজ

গুলিস্তান মোড়ের সামনে আন্ডারপাসের নিচে তুলনামূলক সরু একটি জায়গায় মোটরসাইকেল রেখেছিলেন বেসরকারি সংস্থার কর্মী শাহাদাত হোসেন। কিছুক্ষণ পর সেখানে আসেন বাস পার্কিংয়ের লাইনম্যান খাইরুল। শাহাদাতের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি মোটরসাইকেল রেখে কাছের একটি টয়লেটে গিয়েছিলেন। ফিরে আসার পর লাইনম্যান খাইরুল তাঁর সঙ্গে বাগবিতণ্ডার শুরু করেন। পরে আরও একজন সেই ব্যক্তির সঙ্গে যোগ দেন। একপর্যায়ে তাঁরা মারমুখী আচরণে আশ্রয় নেন।

আমি বাইকটি রেখে তিন মিনিটের মতো হবে টয়লেটে গিয়েছিলাম। ফিরে আসার পর তাঁরা আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে এবং বাইক রাখার জন্য টাকা চান। আমি পরিচয় দিলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তাঁরা বলে, 'এটা আমাদের বাস পার্কিংয়ের জায়গা।'

শাহাদাত প্রশ্ন তোলেন — ব্যস্ত একটি সড়কের জায়গা কীভাবে একটি গোষ্ঠী নিজেদের সম্পত্তি বানিয়ে পার্কিংয়ের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, আর তা দেখার কেউই থাকে না?

গুলিস্তান শুধু টার্মিনাল নয় — বাণিজ্যের হৃদয়

গুলিস্তান রাজধানীর অন্যতম বড় পাইকারি বাণিজ্যকেন্দ্র। ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল দিয়ে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ১৭ জেলার মানুষ যাতায়াত করেন। পদ্মা সেতু চালুর পর এই অঞ্চলের বাসের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অন্যদিকে গুলিস্তান পাইকারি পণ্যের বড় বাজার হওয়ায় ব্যবসায়ীদের চাপও তীব্র। ফলে যাত্রী-চাপ ও বাণিজ্য-চাপের সমন্বয়ে এলাকাটিতে যানজট স্বাভাবিকভাবেই সৃষ্টি হয়। এই চাপের মধ্যে সড়কের দুই পাশে বাস পার্কিং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

ফুলবাড়িয়ার জাকের সুপার মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী হোসেনুর আলী বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা তাঁদের মার্কেটে কাপড় কিনতে আসেন। কিন্তু মার্কেটের সামনের সড়কে বাস পার্কিং করে রাখা এই চাপ তাঁদের ব্যবসাকেও প্রভাবিত করছে।

পাশের প্রভাব ও পথের অভাব

বাস টার্মিনাল স্থানান্তর যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে এই করিডোরের যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন। তবে চার মাসের সময়সীমা যে বাস্তবায়িত হবে কি না — সেই প্রশ্ন এখনও খোলা। বছরের পর বছর ধরে এই অব্যবস্থাপনার চাপ বহন করছেন পথচারী, যাত্রী, ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় বাসিন্দা। সড়কের দুই পাশে বাসের সারি থামানো একটি প্রশাসনিক নির্দেশের ব্যাপার, কিন্তু সেই নির্দেশ বাস্তবে নামানোর ইচ্ছা ও ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is সড়ক ব স প র ক ক?

সড়ক ব স প র ক ক is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does সড়ক ব স প র ক ক matter?

সড়ক ব স প র ক ক matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.