Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

স্রোতে তলিয়ে যাচ্ছিলেন পাঁচজন, ঝাঁপ দিয়ে দুজনকে উদ্ধার করে মারা গেলেন তরুণ

Published September 12, 2026 · Updated September 12, 2026 · By William Jones - banglaprabah.com

Foto : William Jones - banglaprabah.com

শীতলক্ষ্যার স্রোতে উদ্ধার করতে গিয়ে প্রাণ দিলেন স্থানীয় তরুণ

Banglaprabah.com – স র ত তল য় য চ - নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার লাখপুর গ্রামে শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসলের সময় একই পরিবারের কয়েকজন সদস্য স্রোতে বিপদে পড়লে তাঁদের উদ্ধারে ঝাঁপ দেন স্থানীয় তরুণ মো. সৌরভ মিয়া। শিশুসহ এক নারীকে নিরাপদে তীরে তুলতে সক্ষম হলেও অন্যদের বাঁচানোর চেষ্টায় তিনি নিজেই নদীতে তলিয়ে যান। প্রায় ১৯ ঘণ্টা পর আজ শনিবার সকালে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এই ঘটনায় আরও একজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। তিনি গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার ভঙ্গাল এলাকার সৌদিপ্রবাসী ওবায়দুল্লাহ (৩৮)। তাঁর স্বজন শান্তা আক্তার (২৫) এবং মো. শান্ত মিয়া (২৪) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার বেলা একটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁদের সন্ধানে উদ্ধারকাজ চলছিল।

শুক্রবার বিকেলে ঘটনার শুরু

ঘटनাটি ঘটে শুক্রবার বিকেলে শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের লাখপুর গ্রামসংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদীতে। ওবায়দুল্লাহ দুপুর ১২টার দিকে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে লাখপুরে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন। পরে বেলা দুইটার দিকে পরিবারের ছয়জন নদীতে গোসল করতে যান।

গোসলের একপর্যায়ে শান্তা আক্তার স্রোতের মধ্যে ডুবে যেতে শুরু করেন। তাঁকে ধরে রাখার চেষ্টা করেন তাঁর বোন শাহীনুর আক্তার। কিন্তু প্রবল স্রোতে তিনিও নিজের শিশুসন্তানসহ হাবুডুবু খেতে থাকেন। তাঁদের বাঁচাতে এগিয়ে গেলে ওবায়দুল্লাহ ও শান্তও বিপদের মধ্যে পড়ে যান। অল্প সময়ের ব্যবধানে নদীতে থাকা একাধিক ব্যক্তি তলিয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়।

নদীতে এমন বিপদে স্থানীয়দের দ্রুত সাড়া দেওয়ার গুরুত্ব এই ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে। পানিতে ডুবে যাওয়া কাউকে বাঁচাতে গিয়ে অনভিজ্ঞ ব্যক্তি নিজেও ঝুঁকিতে পড়তে পারেন, বিশেষ করে স্রোত বেশি থাকলে। তবে সেদিনের মুহূর্তে অন্যদের বিপদ দেখে ঝাঁপিয়ে পড়েন লাখপুর গ্রামের বাসিন্দা সৌরভ মিয়া।

শিশুসহ নারীকে তীরে আনেন সৌরভ

সৌরভ নদীতে নেমে শাহীনুর আক্তার ও তাঁর শিশুসন্তানকে টেনে পাড়ে তুলতে পারেন। তাঁদের উদ্ধার করার পরও নদীতে থাকা অন্যদের বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়ে যান তিনি। সেই চেষ্টার মধ্যেই সৌরভ স্রোতে হারিয়ে যান। আশপাশের লোকজনও নদীতে নেমে নিখোঁজদের খোঁজ করেন, কিন্তু কাউকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

“শান্তা তলিয়ে যাচ্ছিল দেখে টেনে ধরে রাখতে চেয়েছিলাম। পরে নিজেও তলিয়ে যাচ্ছিলাম। আমার স্বামী ও ভাগনে আমাদের বাঁচাতে গিয়ে ডুবে যায়। সৌরভ নামের ছেলেটি ঝাঁপ দিয়ে বাচ্চাসহ আমাকে পাড়ে তোলে। আমাদের বাঁচানোর পর অন্যদের বাঁচাতে আবার নদীতে নামে সে। পরে সে–ও ডুবে যায়।”

বেঁচে ফেরা শাহীনুর আক্তারের এই বর্ণনায় ঘটনার দ্রুততা ও ভয়াবহতা উঠে এসেছে। কয়েক মিনিটের মধ্যে একটি পারিবারিক গোসলের আয়োজন পরিণত হয় উদ্ধার তৎপরতা ও শোকের ঘটনায়। সৌরভের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে শাহীনুর ও তাঁর শিশুসন্তান বেঁচে গেলেও অন্যদের উদ্ধারের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত তাঁর নিজের জীবন কেড়ে নেয়।

সন্ধ্যা পর্যন্ত মেলেনি চারজনের সন্ধান

খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শিবপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত তাঁরা নদীতে তল্লাশি চালান, তবে নিখোঁজ চারজনের কাউকে পাওয়া যায়নি। শীতলক্ষ্যার তীব্র স্রোত উদ্ধারকাজকে কঠিন করে তোলে।

শিবপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আবুল কাশেম জানান, প্রবল স্রোতের কারণে প্রথম দিনের অভিযান পুরোপুরি চালানো সম্ভব হয়নি। শনিবার ভোর থেকে নতুন করে তল্লাশি শুরু হয়। ভৈরব থেকে আসা ডুবুরি দল সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে অভিযানে যোগ দেয়।

সকাল ১০টার দিকে ডুবুরিরা ওবায়দুল্লাহ ও সৌরভ মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করেন। এরপর শান্তা আক্তার ও মো. শান্ত মিয়াকে খুঁজে বের করার কাজ অব্যাহত থাকে। নদীর স্রোত, পানির গভীরতা এবং সময় গড়িয়ে যাওয়ায় এমন অভিযানে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন হয়।

মরদেহ ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি

শিবপুর থানার উপপরিদর্শক নাদিম হাসান জানান, উদ্ধার হওয়া দুই ব্যক্তির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছিল। নিখোঁজ অন্য দুজনের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান বন্ধ করা হয়নি।

শীতলক্ষ্যার মতো স্রোতপূর্ণ নদীতে গোসল বা পানিতে নামার সময় শিশু ও দুর্বল সাঁতারুদের প্রতি বিশেষ নজর রাখা জরুরি। স্রোতের অবস্থান দ্রুত বদলে যেতে পারে এবং একজনকে বাঁচাতে গিয়ে অন্যরা একসঙ্গে বিপদে পড়ে যেতে পারেন। এ ঘটনায় পরিবারটির জন্য যেমন গভীর শোক নেমে এসেছে, তেমনি সৌরভ মিয়ার সাহসী মানবিক উদ্যোগও স্থানীয় মানুষের মনে দাগ ফেলেছে।

দুজনকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তীরে তুলেছিলেন সৌরভ। অন্যদের বাঁচাতে তিনি আবার নদীতে নামেন এবং আর ফিরতে পারেননি। নিখোঁজ শান্তা আক্তার ও মো. শান্ত মিয়ার সন্ধান পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তাঁদের স্বজনেরা।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is স র ত তল য় য চ?

স র ত তল য় য চ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does স র ত তল য় য চ matter?

স র ত তল য় য চ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.