Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

সাপ মারতে জাপানে নেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশি বেজি, শেষ পর্যন্ত ঘটেছিল উল্টোটা

Published August 13, 2026 · Updated August 13, 2026 · By Linda Hernandez - banglaprabah.com

জাপানের দ্বীপে বেজি আনা হয়েছিল সাপ কমাতে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঘটেছিল উল্টোটা

Banglaprabah.com – স প ম রত জ প ন - ১৯৭৯ সালে জাপানের আমামি ওশিমা দ্বীপে প্রায় ত্রিশটি বেজি ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়ের উদ্দেশ্য ছিল বিষধর হাবু সাপের উপদ্রব কমানো। কিন্তু বেজিগুলো সাপ শিকার করার বদলে শুরু করল দ্বীপের বিরল সব প্রাণীকে শিকার করতে। একসময় সেই ত্রিশটি বেজির সংখ্যা দাঁড়াল প্রায় দশ হাজারে। এরপর তাদের নির্মূল করতেই জাপানের লেগে গেল কয়েক দশক। খরচ হলো কোটি কোটি টাকা। গল্পটির শুরু অবশ্য আরও আগের। আর এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের নামও।

দ্বীপের পরিবেশ ও সমস্যার উৎপত্তি

ঘটনাটি জাপানের আমামি ওশিমা দ্বীপের। প্রায় ৭১২ বর্গকিলোমিটারের এই দ্বীপ পরে ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হয়। দ্বীপটির বনভূমিতে এমন অনেক প্রাণীর বাস, যেসব পৃথিবীর অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। এর মধ্যে অন্যতম আমামি খরগোশ—একটি বিরল ও বিপন্ন প্রাণী। কিন্তু ১৯৭৯ সালে দ্বীপটির লোকজন এসব প্রাণীর ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত ছিল না। তখন তাদের বড় 'মাথাব্যথা' ছিল হাবু—বিষধর একধরনের পিট ভাইপার সাপ। হাবুর কামড় আমামি দ্বীপপুঞ্জে দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের জন্য বড় সমস্যা ছিল। ১৯৬৭ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত আমামি দ্বীপপুঞ্জের আমামি ওশিমা, টোকুনোশিমা ও আশপাশের দ্বীপগুলোতে হাবুর কামড়ের ২ হাজার ৬৭৩টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। তাই সাপ কমানোর একটি মোক্ষম উপায় খুঁজছিল কর্তৃপক্ষ।

বেজি যে সাপের শত্রু—এ তো জানা কথা। 'চরম শত্রুতা'-র বাগ্‌ধারাই হয়ে গেছে 'অহিনকুল সম্পর্ক'।

বাংলাদেশ থেকে জাপানের যাত্রাপথ

ফলে আমামি ওশিমার কর্তৃপক্ষও বেজিকেই মনে করেছিল সম্ভাব্য সমাধান। জাপানে এর আগেও বেজি নেওয়ার ইতিহাস ছিল। ১৯১০ সালে বাংলাদেশ থেকে ছোট ভারতীয় বেজি (হারপেসটেস অরোপাঙ্কট্যাটাস, বর্তমানে উরভা অরোপাঙ্কট্যাটা নামে পরিচিত) ওকিনাওয়া দ্বীপে নেওয়া হয়েছিল। পরে সেই ওকিনাওয়া থেকেই প্রায় ৩০টি বেজি ১৯৭৯ সালে আমামি ওশিমা'র আনা হয়। গবেষণায় এই বাংলাদেশ থেকে ওকিনাওয়া, আবার ওকিনাওয়া থেকে আমামি যাত্রাপথের প্রমাণও পাওয়া গেছে। ভাবনাটা ছিল সহজ—বেজি থাকবে, সাপ কমবে, মানুষ স্বস্তি পাবে। কিন্তু প্রকৃতি এত সহজ হিসাব মেনে চলল না।

সমস্যার মূল কারণ: জীবনযাপনের পার্থক্য

সমস্যার প্রথম কারণ ছিল বেজি আর হাবুর জীবনযাপনের পার্থক্য। হাবু মূলত নিশাচর। আর বেজি সক্রিয় থাকে দিনের বেলায়। অর্থাৎ যে শিকারিকে সাপ মারার জন্য আনা হয়েছিল, তার সঙ্গে শিকার হিসেবে নির্ধারিত সাপের দেখা হওয়ারই খুব বেশি সুযোগ ছিল না। জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, বেজিগুলো হাবু সাপের বদলে আমামি খরগোশসহ বহু স্থানীয় প্রাণীর ওপর শিকারি হিসেবে প্রভাব ফেলেছিল। দিনের বেলায় যখন বেজি খাবার খুঁজছিল, তখন বনের আরও অনেক প্রাণী তার সামনে সহজ শিকার হয়ে উঠছিল। আর আমামি ওশিমার পরিবেশ বেজির বংশবিস্তারের জন্য ছিল যথেষ্ট অনুকূল। খাবারের অভাব ছিল না, বড় কোনো প্রাকৃতিক শিকারিও ছিল না। ফলে ৩০টি থেকে ধীরে ধীরে গড়ে উঠল বড় এক বেজিগোষ্ঠী। ২০০০ সালের দিকে আমামি ওশিমা'র বেজির সংখ্যা পৌঁছে যায় আনুমানিক ১০ হাজারে।

এদিকে ওদের শিকারের তালিকায় চলে এসেছে আমামি খরগোশ, বিরল ব্যাঙ, স্থানীয় ইঁদুরসহ নানা প্রজাতি। এমন অনেক প্রাণীও ছিল, যাদের বিবর্তনের ইতিহাসে এ ধরনের শিকারি প্রাণীর সঙ্গে তেমন পরিচয়ই ছিল না। অর্থাৎ যে প্রাণীকে একটি সমস্যা সমাধানের জন্য দ্বীপে আনা হয়েছিল, সেটিই হয়ে উঠল নতুন এবং আরও বড় পরিবেশগত সমস্যা। এক কথা—'বোঝার ওপর শাকের আঁটি' কিংবা 'খাল কেটে কুমির আনা'!

নির্মূল অভিযানের কঠিন যাত্রা

১৯৯০-এর দশকে বেজি ধরার উদ্যোগ নিল স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তত দিনে পরিস্থিতি অনেক বদলে গেছে। শুরুতে ৩০টি প্রাণীকে ধরে ফেলা যতটা সহজ হতো, এখন কাজটি তার চেয়ে বহুগুণ কঠিন। বেজিগুলো তত দিনে দ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। ২০০০ সালে শুরু হলো বড় আকারের নির্মূল অভিযান। ফাঁদ পাতা হলো, টোপ ব্যবহার করা হলো, ক্যামেরা দিয়ে নজরদারি শুরু হলো। পরে বেজির গন্ধ শনাক্ত করার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষিত কুকুরও কাজে নামানো হয়। ২০০৫ সালে গড়ে তোলা হয় 'আমামি মঙ্গুজ বাস্টার্স' নামে বিশেষজ্ঞদের একটি দল। কাজটি যত এগোতে লাগল, ততই কঠিন হতে থাকল। কারণ, শুরুতে যেসব বেজি সহজে ফাঁদে ধরা পড়ত, সেসব একে একে কমে গেল। বেঁচে থাকা বেজিগুলো ছিল আরও সতর্ক এবং ছড়িয়ে পড়েছিল দুর্গম এলাকায়। জাপানকে একসময় দ্বীপজুড়ে ৩০ হাজারের বেশি ফাঁদ এবং ৩০০টির বেশি ক্যামেরা ব্যবহার করে নজরদারি করতে হয়েছে। এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা ছিল, ৯৯ শতাংশ বেজি ধরে ফেললেও কাজ শেষ নয়। কোথাও কয়েকটি বেজি, বিশেষ করে প্রজননক্ষম একটি স্ত্রী বেজি বেঁচে থাকলেও আবার বংশবিস্তার শুরু হতে পারে। তাই নির্মূল অভিযানে সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো শেষ কয়েকটিকে খুঁজে বের করা।

৪৫ বছরের পর চূড়ান্ত সাফল্য

২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে একটি বেজি ফাঁদে ধরা পড়ে। এরপর আর কোনো বেজির সন্ধান পাওয়া যায়নি। কিন্তু জাপান তখনই ঘোষণা করেনি যে দ্বীপটি বেজিমুক্ত। কারণ, কোনো প্রাণীকে একটি বিশাল এলাকায় পুরোপুরি নির্মূল করা হয়েছে—এ কথা বলা যতটা সহজ, প্রমাণ করা ততটাই কঠিন। তাই ফাঁদ বসানো চলল। ক্যামেরা চলল। প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে অনুসন্ধান চলল। বিজ্ঞানীরা বছরের পর বছর খুঁজতে থাকলেন, কোথাও কোনো বেজি লুকিয়ে আছে কি না। অবশেষে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় ঘোষণা করল, হ্যাঁ, আমামি ওশিমা থেকে বেজি নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, নির্মূলের সম্ভাবনা ছিল ৯৮.৯ থেকে ৯৯.৭ শতাংশ। ১৯৭৯ সালে শুরু হওয়া সমস্যাটির চূড়ান্ত সমাধান করতে তাই লেগে গেল প্রায় ৪৫ বছর!

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is স প ম রত জ প ন?

স প ম রত জ প ন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does স প ম রত জ প ন matter?

স প ম রত জ প ন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.