Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

সাতক্ষীরায় দেড় লাখ দেশলাই কাঠিতে দুর্গাপ্রতিমা

Published August 31, 2026 · Updated August 31, 2026 · By Linda Anderson - banglaprabah.com

Foto : Linda Anderson - banglaprabah.com

দেশলাই কাঠির সারিতে জেগে উঠছে দেবীর রূপ — সাতক্ষীরার এক অসামান্য দুর্গাপূজা

Banglaprabah.com – স তক ষ র য় দ ড় - মাটির দেহের ওপর একের পর এক বসছে দেশলাই কাঠি। কোথাও সারি সোজা, কোথাও ঢেউখেলানো। কাঠির ফাঁকে ফাঁকে জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে রেশমি সুতা। দূর থেকে চোখ রাখলে মনে হবে কাপড়ের ভাঁজ আর ঝলমলে অলংকারে সাজানো হয়েছে দেবীর পোশাক। কিন্তু কাছে গিয়ে দেখলেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে — প্রতিটি রেখা, প্রতিটি নকশা তৈরি হচ্ছে দেশলাই কাঠি আর রেশমি সুতায়। এই অসামান্য শিল্পকর্মের জন্মস্থান সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের ব্রহ্মরাজপুর সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা মন্দির।

দেড় লাখ কাঠি, দশ কেজি সুতা — সংখ্যার পেছনের পরিশ্রম

এবারের দুর্গাপূজার জন্য প্রতিমাশিল্পীরা হাতে নিয়েছেন দেড় লাখের বেশি দেশলাই কাঠি এবং দশ কেজির বেশি রেশমি সুতা। দেবী দুর্গার পোশাক, অলংকার, শাড়ির কুঁচির অংশ — সবকিছুই এই দুই উপাদানে গড়া হচ্ছে। প্রতিটি কাঠির অবস্থান সামান্য এক ইঞ্চিও ভুল হলে নকশার সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই প্রতিমাশিল্পীরা প্রতিটি কাঠি বসাতে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করছেন। কাঠির মাথার অংশ দিয়ে তৈরি হচ্ছে অলংকার ও পোশাকের নকশা, আর কাঠির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে রেশমি সুতা।

পূজার দিন সামনে রেখে শিল্পীরা দিন-রাত কাজ করছেন। কখনো রাত দুই-তিনটা পর্যন্তও কাজ চলতে থাকে। প্রতিদিনই মন্দিরে ভিড় করছেন স্থানীয় লোকজন, যারা এই ব্যতিক্রমী প্রতিমা তৈরির কাজ সরাসরি দেখতে আসছেন।

ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে সাতক্ষীরার উদ্যোগ

প্রতিমাশিল্পী নবদ্বীপ সরকার এই প্রজাতির কাজ প্রথমবার দেখেন তিন বছর আগে ভারতের একটি মন্দিরে। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে অনুপ্রাণিত করে এবার সাতক্ষীরায় দেশলাই কাঠি ও রেশমি সুতায় প্রতিমা তৈরিতে হাত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে।

তিন বছর আগে ভারতের এক মন্দিরে গিয়ে এ ধরনের কাজ দেখেছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার সাতক্ষীরায় দেশলাই কাঠি ও রেশমি সুতায় প্রতিমা তৈরিতে হাত দিয়েছি। পূজার আগে কাজ শেষ করতে দিন-রাত কাজ করতে হচ্ছে। কখনো রাত দুই-তিনটা পর্যন্তও কাজ করতে হয়।

নবদ্বীপ সরকারের এই বক্তব্য প্রতিফলিত করে শিল্পীর প্রতিশ্রুতি — সময়সীমার মধ্যে একটি জটিল নকশা সম্পন্ন করা। দেশলাই কাঠির মতো একটি সাধারণ বস্তুর শিল্পমূল্য বের করে আনার এই প্রক্রিয়া বাংলা দুর্গাপূজার ঐতিহ্যবাহী মাটি-পলিশ পদ্ধতির বাইরে একটি নতুন মাত্রা যোগ করছে।

গত বছরের ধান-প্রতিমা থেকে এবারের কাঠি-প্রতিমা

ব্রহ্মরাজপুরে দুর্গাপূজার আয়োজনে নতুন কিছু করার প্রবণতা নতুন নয়। গত বছর এই একই মন্দিরে একশো কেজি চিনিগুঁড়া ধান দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল দুর্গাপ্রতিমা। সেই প্রতিমা দেখতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এসেছিলেন। সেই সাফল্যের পর পূজা উদ্‌যাপন কমিটি এবারও নতুন কিছু করার পরিকল্পনা নেয়।

কমিটির উপদেষ্টা কানাইলাল জানান, গত বছর ধানের প্রতিমা তৈরি শেষেই আরও আকর্ষণীয় কিছু করার ভাবনা জেগে ওঠে। সেই ভাবনা থেকেই এবার দেশলাই কাঠি ও রেশমি সুতায় প্রতিমা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত বছর ধানের প্রতিমা তৈরির পর থেকেই এবার আরও আকর্ষণীয় কিছু করার চিন্তা ছিল। সেই ভাবনা থেকেই দেশলাই কাঠি ও রেশমি সুতায় প্রতিমা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বছর প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছিল। এবার সব মিলিয়ে ব্যয় হবে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা।

আর্থিক হিসাব ও শিল্পীদের পারিশ্রমিক

আয়োজকদের হিসাব অনুযায়ী, শুধু প্রতিমা তৈরির শিল্পীদের পারিশ্রমিক বাবদ ব্যয় হচ্ছে প্রায় এক লাখ ত্রিশ হাজার টাকা। পূজার অন্যান্য খরচসহ এবারের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। গত বছরের তিন লাখ টাকার তুলনায় এবারের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি — কারণ দেশলাই কাঠির সারিবদ্ধ বিন্যাস ও রেশমি সুতার জটিল বুনন সাধারণ মাটি-পলিশ কাজের চেয়ে অনেক বেশি সময়সাপেক্ষ ও দক্ষতা-নির্ভর।

স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা ও জেলা পর্যায়ের প্রশংসা

প্রতিমা তৈরির কাজ দেখতে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মধ্যে একজন কল্পনা রানী, যিনি আশা করছেন এবারও গতবারের মতো সবাই দেশলাই কাঠি ও রেশমি সুতায় তৈরি দুর্গাপ্রতিমা দেখে মুগ্ধ হবেন।

সাতক্ষীরা জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ এই উদ্যোগকে প্রশংসিত করেছেন।

এবার দেশলাই কাঠিতে শিল্পীরা দেবী দুর্গার পোশাক ও অলংকারে যে নান্দনিকতা ফুটিয়ে তুলছেন, তা প্রশংসনীয়। আশা করছি এবারও সাতক্ষীরার বাইরে থেকেও দর্শনার্থীরা প্রতিমা দেখতে আসবেন।

ঐতিহ্যের সীমানা পেরোয়া

বাংলা দুর্গাপূজার শতাব্দী-প্রাচীন ঐতিহ্যে মাটি, পলিশ, কাপড়, রঙ — এই উপাদানগুলোই ছিল প্রতিমা তৈরির মূল ভিত্তি। ধান, চিনি, দেশলাই কাঠি — এই অসংখ্যক উপাদান ব্যবহারের প্রবণতা গত কয়েক বছরে গ্রামীণ ও উপজেলা পর্যায়ে ধীরে ধীরে বেড়ে চলেছে। এর পেছনে রয়েছে দর্শনার্থীর নজর কাড়া, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া, এবং স্থানীয় শিল্পীদের সৃজনশীলতা প্রদর্শনের প্রয়োজন। ব্রহ্মরাজপুরের এই মন্দির সেই প্রবণতার একটি স্পষ্ট উদাহরণ — যেখানে দেড় লাখ দেশলাই কাঠি আর দশ কেজি রেশমি সুতা মিলে তৈরি হচ্ছে একটি দেবীর রূপ, যা পূজার দিন শেষে ভাঙার পরেও স্থানীয় স্মৃতিতে টিকে থাকবে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is স তক ষ র য় দ ড়?

স তক ষ র য় দ ড় is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does স তক ষ র য় দ ড় matter?

স তক ষ র য় দ ড় matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.