Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

সরাইলে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে চার গ্রামের বাসিন্দাদের

Published August 17, 2026 · Updated August 17, 2026 · By William Jones - banglaprabah.com

Foto : William Jones - banglaprabah.com

মেঘনার তীরে চার গ্রামের ধীরে ধীরে মৃত্যু

Banglaprabah.com – সর ইল ভ ঙন আতঙ ক দ - ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় পানিশ্বর ইউনিয়নের পালপাড়া, পানিশ্বর, শাখাইতি ও শোরবাড়ি—মেঘনা নদীর ঘাটে বসে থাকা এই চারটি গ্রাম এখন ভাঙনের আতঙ্কে দিনযাপন করছে। প্রতি বছরের নদীভাঙনে এক থেকে দুই কিলোমিটার ব্যাপার এলাকা ক্ষয়ের শিকার হয়। ফলে অর্ধশতাধিক পরিবার প্রতিদিনের জীবন অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে কাটাচ্ছে।

চার দশকের ধ্বংসের ইতিহাস

স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য অনুযায়ী, গত চার দশকে এই চার গ্রামের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভূমি মেঘনার গর্ভে গলিয়ে গেছে। বিশেষ করে শেষ নয়-দশ বছরে ক্ষয়ের তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মাত্র গত চার বছরে শোরবাড়ি গ্রামের দশটি, পানিশ্বরের পাঁচটি এবং শাখাইতির চৌদ্দটি চাতাল নদীতে বিলীন হয়েছে। এই ক্ষয়ের ফলে সহস্রাধিক চাতালশ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। একই সময়ে চার গ্রামে অর্ধশতাধিক পরিবার সম্পূর্ণ ভিটেছাড়া হয়ে গেছে, আর শতাধিক পরিবার আংশিক ক্ষয়ের শিকার।

এ বছরও এখনো কোনো বড় স্থাপনা নদীতে গলেনি, তবে তীরভাঙন শুরু হয়ে গেছে—এক নজরদারিই এখন গ্রামবাসীর একমাত্র আশ্রয়।

বাসিন্দাদের মুখে ক্ষয়ের গল্প

গত বুধবার সরেজমিনে গিয়ে ভাঙনকবলিত মানুষের সঙ্গে আলাপ হয়। পালপাড়া গ্রামের ধীরেন্দ্র পাল—বয়স নব্বইয়ের ওপরে—আক্ষেপে প্রথম আলোকে বলেন:

‘বাবা-জেঠাদের আমলে আমাদের বসতবাড়িটি ছিল তিন কানি (৩০ শতকে এক কানি), এখন আছে ৩ শতক। যেভাবে ভাঙতেছে মনে অই জন্মভিটা মরতেও ফারুম না।’

ধীরেন্দ্র পাল জানান, পালপাড়ার মাঝখানে একসময় ১৭ কানির একটি পুকুর ছিল। পুকুরের চারদিকে ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি ছিল। আজ সে সব শুধু স্মৃতি—ভাঙন সব ধুয়ে নিয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, গত ৪০-৪৫ বছরে এলাকার ৫০০-৬০০ পরিবার গ্রাম ত্যাগ করেছে। বর্তমানে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫টি পরিবার বসবাস করছে। বাঁধ না হলে তাদেরও একই পরিণতি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করেন।

শাখাইতি গ্রামের ওসমান গণি চৌধুরী (৭৪) ও সাবেক ইউপি সদস্য মোস্তফা মিয়া (৪৫) প্রথম আলোকে জানান, গত তিন-চার বছরে নদীভাঙনে ২৫ থেকে ৩০টি চাতাল, একটি মসজিদ, মাজার, কবরস্থান, কৃষিজমিসহ বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। আরও কিছু বসতবাড়ি বিলনের পথে। ভাঙন রোধ না হলে অচিরেই পানিশ্বর বাজার, পানিশ্বর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, শাখাইতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শোরবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মেঘনার গর্ভে গলিয়ে যাবে বলে তাঁদের ভয়।

সরকারি ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি

পানিশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তৌহিদ মিয়া অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর ভাঙন চললেও তা রোধে স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। গ্রামগুলো রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি তিনি তুলে ধরেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা জানিয়েছেন, গ্রাম চারটি রক্ষার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন:

‘আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুত ছিল সেখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে দেওয়া। এ জন্য গত মার্চে পানিসম্পদমন্ত্রীর কাছে ডিও (আধা সরকারি পত্র) লেটার দিয়েছি। বাঁধ না হওয়া পর্যন্ত আমার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আকাশ দত্ত জানান, পানিশ্বর এলাকার নদীভাঙন রোধে আপাতত ৮৫ লাখ টাকা মূল্যের ১৯ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। এছাড়া পালপাড়া থেকে শোরবাড়ি পর্যন্ত ১ দশমিক ৩৫০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের জন্য ৬০ কোটি টাকার একটি প্রস্তাব পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে আগামী শুষ্ক মৌসুমে কাজ শুরু করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is সর ইল ভ ঙন আতঙ ক দ?

সর ইল ভ ঙন আতঙ ক দ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does সর ইল ভ ঙন আতঙ ক দ matter?

সর ইল ভ ঙন আতঙ ক দ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.