Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

সরকারি নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ছে, সরকারের যুক্তি কী, ঝুঁকি যেখানে

Published September 9, 2026 · Updated September 9, 2026 · By Charles Hernandez - banglaprabah.com

Foto : Charles Hernandez - banglaprabah.com

সরকারি নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার গুরুত্ব বাড়ানোর উদ্যোগ

Banglaprabah.com – সরক র ন য় গ ম খ - সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগের পরীক্ষাপদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছে। নতুন প্রস্তাবে লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি মৌখিক পরীক্ষার নম্বরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হলো নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায় কমানো, যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন দপ্তরের পরীক্ষাব্যবস্থায় একটি অভিন্ন কাঠামো তৈরি করা।

এ উদ্দেশ্যে ‘মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ও ইহাদের আওতাধীন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, দপ্তর এবং সংস্থাসমূহের ১১-২০তম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষার মান বণ্টন (বিশেষ বিধান) বিধিমালা, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত খসড়া বিধিমালা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং সেটি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

গ্রেডভেদে নতুন নম্বর কাঠামো

প্রস্তাবিত বিধিমালায় ১১ ও ১২তম গ্রেডের পদের জন্য মোট পরীক্ষার নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষার জন্য থাকবে ১০০ নম্বর এবং মৌখিক পরীক্ষার জন্য ৫০ নম্বর। লিখিত অংশে বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং পদসংশ্লিষ্ট কারিগরি বিষয় বা সাধারণ জ্ঞানের জন্য ২৫ নম্বর করে রাখা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে কমপক্ষে ৩৫ শতাংশ এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে।

১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডে মোট নম্বর হবে ১০০। লিখিত পরীক্ষার জন্য বরাদ্দ ৬০ নম্বর, আর মৌখিক পরীক্ষার জন্য ৪০ নম্বর। বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও প্রাসঙ্গিক টেকনিক্যাল বা সাধারণ জ্ঞানে ১৫ নম্বর করে থাকবে। এই স্তরে লিখিত ও মৌখিক—দুই পরীক্ষাতেই পাসের হার ৪০ শতাংশ ধরা হয়েছে।

১৭ থেকে ২০তম গ্রেডে পরীক্ষার মোট নম্বর থাকবে ৫০। লিখিত ও মৌখিক অংশে ২৫ নম্বর করে ভাগ করা হবে। লিখিত পরীক্ষায় চারটি বিষয়ের প্রতিটিতে ৫ নম্বর থাকবে—বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল জ্ঞান বা সাধারণ জ্ঞান। এ ক্ষেত্রেও উভয় ধাপে পাস করতে ৪০ শতাংশ নম্বর লাগবে।

কোনো পদের জন্য ব্যবহারিক পরীক্ষা প্রয়োজন হলে লিখিত পরীক্ষায় পাস করাই যথেষ্ট হবে না। প্রার্থীকে নির্ধারিত ব্যবহারিক পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হতে হবে। অর্থাৎ নতুন কাঠামোয় লিখিত, মৌখিক এবং প্রয়োজন অনুসারে ব্যবহারিক—সব ধাপ পেরিয়েই চূড়ান্ত নির্বাচনের সুযোগ থাকবে।

বর্তমান ব্যবস্থার সঙ্গে পার্থক্য

এখন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও তাদের অধীন প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের পদের পরীক্ষার নিয়ম একরকম নয়। সংযুক্ত অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও দপ্তরের ‘কমন পদ’ নিয়োগ বিধিমালার অধীনে উচ্চমান সহকারীসহ সমপর্যায়ের কিছু পদের জন্য লিখিত পরীক্ষায় ৭০ এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৩০ নম্বর নির্ধারিত আছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ সচিবালয়ের ক্যাডার-বহির্ভূত গেজেটেড কর্মকর্তা ও নন-গেজেটেড কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালায় ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং অফিস সহকারীর মতো পদের ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষার নম্বর ১০০ হলেও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর মাত্র ১০। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে গ্রেড অনুসারে এই ভিন্নতা কমে আসবে এবং মৌখিক পরীক্ষার ভূমিকা আগের চেয়ে অনেক বেশি হবে।

সরকারের যুক্তি: অসদুপায় ঠেকানো ও অভিন্নতা আনা

নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী পাঠানো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা নেওয়া এবং ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহারসহ নানা ধরনের অনিয়মের ঝুঁকি বেড়েছে—এমন বিবেচনা থেকেই পরিবর্তনের উদ্যোগ। লিখিত পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করে কেউ এগিয়ে গেলেও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীর জ্ঞান, যোগাযোগক্ষমতা, কাজের উপযোগিতা ও ব্যক্তিগত সক্ষমতা যাচাইয়ের সুযোগ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

সরকারি চাকরিতে মেধা, যোগ্যতা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং নিয়োগ পরীক্ষায় সামঞ্জস্য আনার লক্ষ্যেই নতুন নম্বর বণ্টনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, দপ্তর ও সংস্থার নিয়োগপদ্ধতি পর্যালোচনা করে সুপারিশ তৈরির জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়। এতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের প্রতিনিধিরা ছিলেন। কমিটি গত ৪ আগস্ট তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ কোথায়

মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, লিখিত পরীক্ষায় প্রার্থীদের ফলের ব্যবধান কম হলে মৌখিক পরীক্ষার উচ্চ নম্বর চূড়ান্ত মেধাক্রমে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সে ক্ষেত্রে পছন্দের কাউকে এগিয়ে দেওয়া বা অন্য কাউকে পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

বিশেষত ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর সমান হওয়ায় সাক্ষাৎকার বোর্ডের মূল্যায়ন চূড়ান্ত ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ১১ ও ১২তম গ্রেডেও ৫০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা প্রার্থীদের অবস্থান বদলে দিতে পারে। তাই এই ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা রক্ষায় নিরপেক্ষ বোর্ড, স্পষ্ট মূল্যায়ন সূচক এবং জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

প্রস্তাবিত বিধিমালা সব সরকারি নিয়োগে প্রযোজ্য হবে না। শৃঙ্খলা বাহিনী, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, ব্যাটালিয়ন আনসার, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, র‍্যাব এবং অন্যান্য বাহিনীর নিয়োগ এর বাইরে থাকবে। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের অধীন পদগুলোর ক্ষেত্রেও এ বিধিমালা কার্যকর হবে না।

নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত হলে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের বিপুলসংখ্যক পদে নিয়োগের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে একই সঙ্গে মানসম্মত কাঠামো ও নতুন বিতর্ক—দুইয়েরই প্রভাব দেখা যেতে পারে। লিখিত পরীক্ষার স্বচ্ছতার সঙ্গে মৌখিক পরীক্ষার নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা গেলে উদ্যোগটি যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে সহায়ক হতে পারে; আর সেই সুরক্ষা দুর্বল হলে বাড়তি মৌখিক নম্বরই প্রশ্নের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is সরক র ন য় গ ম খ?

সরক র ন য় গ ম খ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does সরক র ন য় গ ম খ matter?

সরক র ন য় গ ম খ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.