Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

সন্তান বিক্রির টাকায় আইফোন কেনার অভিযোগ, বাবাকে আটক

Published August 31, 2026 · Updated August 31, 2026 · By Linda Anderson - banglaprabah.com

Foto : Linda Anderson - banglaprabah.com

পাঁচ বছরের সন্তানকে লাখ টাকায় হস্তান্তরের অভিযোগ: পটুয়াখালীতে বাবাকে আটক, শিশু উদ্ধার

Banglaprabah.com – সন ত ন ব ক র র - ঢাকার রাজমিস্ত্রি কাজে নিয়োজিত এক তরুণ নিজের পাঁচ বছরের ছেলেকে প্রায় এক লাখ টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে হস্তান্তর করেছেন বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি অনুযায়ী এই টাকার উদ্দেশ্য ছিল একটি নতুন আইফোন কেনা। ঘটনার পর পটুয়াখালী জেলার দশমিনা থানা-পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করেছে এবং শিশুটিকে গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

বাংলাদেশে শিশু বিক্রি বা হস্তান্তর আইনত গুরুতর অপরাধ। শিশু অধিকার সুরক্ষা আইন এবং শিশু আইনের আওতায় এমন কাজের জন্য জেল ও জরিমানা নির্ধারিত। তবে বাস্তবে গ্রামীণ ও আধুনিক শহুরে দুই প্রান্তেই দারিদ্র্য, ঋণের চাপ এবং পারিবারিক বিভাজনের ফলে শিশুদের এমন পরিস্থিতিতে পৌঁছানোর ঘটনা বিরল নয়। এই ঘটনা সেই ধারার একটি নতুন উদাহরণ হিসেবে সামাজিক আলোচনায় উঠে এসেছে।

ঘটনার ধারা ও পুলিশের পদক্ষেপ

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর বরাত দিয়ে জানা যায়, গত রোববার রাত ১১টার দিকে ঢাকা থেকে অভিযুক্ত মারুফ মুন্সিকে দশমিনা থানায় আনা হয়। একই সময়ে জেলার গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ তদন্তে নামে।

মারুফ মুন্সি (২২) দশমিনা উপজেলার বো গোপালদী গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে। তিনি ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। তাঁর স্ত্রী বৃষ্টি আক্তারের সঙ্গে কিছুদিন আগে থেকেই পারিবারিক কলহ চলছিল এবং তাঁরা আলাদা বসবাস শুরু করেছিলেন। এই সময়ে শিশুটিকে দেখাশোনা করছিলেন মারুফের দাদি মাহফুজা বেগম।

পরিবারের অভিযোগ ও শিশুর হস্তান্তরের বিবরণ

মাহফুজা বেগমের বর্ণনা অনুযায়ী, গত শনিবার সকালে মারুফ শিশুটিকে ভালো জামাকাপড় পরিয়ে ঘুরতে নিয়ে যান। সন্ধ্যা হওয়া সত্ত্বেও বাসায় ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ শুরু করেন। পরে জানতে পারেন, ঢাকায় মারুফের সহকর্মী ইমরান হোসেনের শ্বশুর মহিবুল টাকার বিনিময়ে নাতিকে নিয়েছেন। মহিবুলের নিজের কোনো ছেলেসন্তান নেই।

পরিবারের দাবি, শিশুটির জন্য এক লাখ টাকা দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৫২ হাজার টাকা অগ্রিম হিসেবে দেওয়া হয় এবং লিখিতভাবে শিশু হস্তান্তর সম্পন্ন করা হয়। মাহফুজা বেগমের অভিযোগ, ওই টাকার সঙ্গে নিজের পুরোনো আইফোন এবং অতিরিক্ত টাকা যোগ করে মারুফ একটি নতুন আইফোন কিনেছেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে পুলিশকে জানানো হয়।

মারুফের প্রতিরোধ ও আইনি জটিলতা

মারুফ সন্তান বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পুলিশ হেফাজতে রোববার রাতে তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে তাঁর ধারদেনা ছিল। এই ঋণ শোধের জন্য সহকর্মী ইমরান ও তাঁর শ্বশুরের কাছে সন্তানকে লালন-পালনের জন্য দিয়েছেন। এ জন্য তাঁদের কাছ থেকে ৫২ হাজার টাকা নিয়েছেন।

"স্থানীয়ভাবে তাঁর ধারদেনা ছিল। এ কারণে সহকর্মী ইমরান ও তাঁর শ্বশুরের কাছে সন্তানকে লালন-পালনের জন্য দিয়েছেন। এ জন্য তাঁদের কাছ থেকে ৫২ হাজার টাকা নিয়েছেন।"

তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ থানায় দায়ের করা হয়নি। ওসি আতিকুল ইসলাম স্বীকার করেছেন, এই অভাবের কারণে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসন এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।

প্রেক্ষাপট ও পাঠকের জন্য প্রাসঙ্গিক তথ্য

বাংলাদেশে শিশুকে অর্থের বিনিময়ে অন্যের কাছে দেওয়া বা বিক্রি শিশু আইন-২০১০ এবং শিশু অধিকার সুরক্ষা আইন-২০১৩-এর আওতায় দণ্ডনীয় অপরাধ। শিশুর বয়স, অভিভাবকের অনুমোদন, লিখিত চুক্তির ধরন এবং টাকার পরিমাণ—সবকিছু মিলিয়ে তদন্তে দেখা হবে এটি কি সত্যিই 'বিক্রি' নাকি ঋণের জামানত হিসেবে শিশু হস্তান্তর।

পারিবারিক বিভাজনের পর শিশুর অভিভাবকতা কার কাছে থাকে, তা নির্ধারণে মহিলা ও শিশুবিষয়ক অধিদপ্তর এবং উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘটনায় শিশুটি উদ্ধার হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সে নিরাপদ পরিবেশে আছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে শিশুর মানসিক সুস্থতা, পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার এবং অভিভাবকের আইনি দায়বদ্ধতা—এই তিনটি দিক নিয়ে কাজ করতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ছড়িয়ে পড়া পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। তবে অনলাইনে ছড়ানো তথ্যের সত্যতা যাচাই ছাড়াই জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বা বিচার-বিবেচনা তৈরি হতে পারে। তাই তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রতি ন্যায়বিচারের সুযোগ নিশ্চিত করাও অপরিহার্য।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is সন ত ন ব ক র র?

সন ত ন ব ক র র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does সন ত ন ব ক র র matter?

সন ত ন ব ক র র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.