Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

সংরক্ষিত বনভূমিতে তরমুজখেত, ৫০০ ঝাউগাছ উপড়ে ফেলার অভিযোগ

Published October 19, 2026 · Updated October 19, 2026 · By William Jones - banglaprabah.com

Foto : William Jones - banglaprabah.com

রাঙ্গাবালীর সংরক্ষিত এলাকায় তরমুজখেতের প্রস্তুতি, ঝাউগাছ উপড়ে ফেলার অভিযোগ

Banglaprabah.com – স রক ষ ত বনভ ম ত - পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার কাউখালীর চরসাইনবোর্ড এলাকায় সংরক্ষিত বনভূমি নিয়ে নতুন করে বিরোধ দেখা দিয়েছে। বন বিভাগের অভিযোগ, তরমুজ চাষের জমি তৈরির উদ্দেশ্যে সেখানে খননযন্ত্র ব্যবহার করে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ ঝাউগাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে। গাছ অপসারণের পর মাটি কেটে বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং জমির চারদিকে সীমানা তৈরির কাজও করা হয়।

ঘটনার পর বন বিভাগ রাঙ্গাবালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে। অভিযুক্ত হিসেবে আরিফ মীর, মানিক মোল্লা ও সাব্বির মীরের নাম এসেছে; তাঁদের সঙ্গে আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের দাবি, উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া বন্দোবস্তের ভিত্তিতেই তাঁরা ওই জমিতে চাষাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

৩০ হেক্টরের ঝাউবাগানে ক্ষতির অভিযোগ

কাউখালীর চরসাইনবোর্ডের ওই এলাকায় বন বিভাগ ২০২২ সালে ৩০ হেক্টর জমিতে ঝাউগাছ লাগিয়েছিল। উপকূলীয় অঞ্চলে এমন বাগান মাটি ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত শনিবার বিকেলে কয়েকজন ব্যক্তি ওই বাগানে প্রবেশ করে যন্ত্র দিয়ে গাছগুলো তুলে ফেলেন। পরে তরমুজখেত গড়ার জন্য জমি কাটার কাজ শুরু হয়।

কাউখালী বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জালাল আহমেদ খান বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে যান এবং কাজ বন্ধ করতে বলেন। তাঁর বক্তব্য, বাধা দেওয়ার পরও অভিযুক্তরা মাটি কাটা চালিয়ে যান।

“গত শনিবার বিকেলে তারা খননযন্ত্র দিয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ ঝাউগাছ উপড়ে ফেলে। পরে মাটি কেটে বেড়িবাঁধ তৈরি করে তরমুজ চাষের প্রস্তুতি নেয়। বাধা দেওয়ার পরও মাটি কাটা বন্ধ করেনি।” — জালাল আহমেদ খান, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কাউখালী বন বিভাগ

বন বিভাগের জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়ে শনিবার রাতেই এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এখন জমির মালিকানা, বন্দোবস্তের বৈধতা এবং গাছ ধ্বংসের অভিযোগ—সব কটি বিষয় প্রশাসনিক যাচাইয়ের মধ্যে আসছে।

আগের ঘটনায় মামলা এখনো চলমান

এই বনাঞ্চলকে ঘিরে আগেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ উঠেছিল। ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর একই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে খননযন্ত্র ব্যবহার করে প্রায় ২৫ হাজার ঝাউগাছ নষ্ট করার অভিযোগ আনে বন বিভাগ। তখনও মাটি কেটে বেড়িবাঁধ তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়।

সেই ঘটনার পর রাঙ্গাবালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করা হয়, যাতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। মামলাটি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। বন বিভাগ মনে করছে, নতুন অভিযোগটি চলমান বিরোধেরই আরেকটি ধাপ এবং এতে সংরক্ষিত এলাকার ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঝাউগাছ কেবল একটি বাগানের গাছ নয়; উপকূলীয় চরাঞ্চলে এসব গাছের উপস্থিতি জমির স্থিতিশীলতা ও প্রাকৃতিক সুরক্ষার সঙ্গে যুক্ত। ফলে কোনো জমি কৃষির জন্য ব্যবহারযোগ্য কি না, সেটি নির্ধারণের আগে জমিটির আইনগত অবস্থান স্পষ্ট হওয়া জরুরি বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য।

বন্দোবস্ত নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন অবস্থান

আরিফ মীর বন বিভাগের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যে জমিকে বন বিভাগ সংরক্ষিত বনভূমি হিসেবে দাবি করছে, সেটি তাঁরা উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে বন্দোবস্ত নিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, বৈধ বন্দোবস্তের ভিত্তিতেই মাটি কেটে তরমুজ চাষের ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং বন বিভাগ অযথা তাঁদের বাধা দিচ্ছে।

এই বিতর্কের পেছনে ভূমি প্রশাসনের একটি আগের সিদ্ধান্তও রয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে রাঙ্গাবালী উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের তহশিলদার জাহিদুল ইসলাম ওই এলাকাকে খাসজমি উল্লেখ করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেন। এরপর তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব দাশ পুরকায়স্থ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকার সময় জমিটি খাস দেখিয়ে অভিযুক্তদের নামে বন্দোবস্ত দেন।

বন বিভাগ এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছে। তহশিলদার জাহিদুল ইসলামসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও করা হয়েছে। বন বিভাগের অবস্থান হলো, যে জমিতে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে, সেটি প্রকৃতপক্ষে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

বন্দোবস্ত বাতিলের আবেদন ও নতুন যাচাই

পটুয়াখালী উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান বন্দোবস্ত বাতিলের অনুরোধ জানিয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কাছে দুটি লিখিত চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠি দুটি পাঠানো হয় গত ৩ আগস্ট ও ১৫ অক্টোবর। তাঁর ভাষ্য, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা বন বিভাগকে জানানো হয়নি।

“বন্দোবস্ত বাতিলের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে আমরা দুইবার চিঠি দিয়েছি। এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা আমাদের জানানো হয়নি।” — জাহিদুর রহমান, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, পটুয়াখালী উপকূলীয় বন বিভাগ

রাঙ্গাবালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেছেন, বন বিভাগ, ভূমি কার্যালয়ের কর্মকর্তা এবং বনাঞ্চল ধ্বংসের অভিযোগে জড়িতদের নিজেদের দাবির সমর্থনে থাকা নথিপত্র নিয়ে তাঁর কার্যালয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। নথি যাচাইয়ের পর জমিটি বন বিভাগের হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

“সব পক্ষকে তাদের কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। যাচাই শেষে জমিটি বন বিভাগের হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” — নাজমুল হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, রাঙ্গাবালী

জেলা প্রশাসক চৌধুরী আশরাফুল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবদুল কাইয়ুম বলেন, বন বিভাগের পাঠানো চিঠিটি তাঁর হাতে পৌঁছেছে। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের পর জমিটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এখন মূল প্রশ্ন হলো, বিতর্কিত জমিটির প্রকৃত আইনগত পরিচয় কী এবং বন্দোবস্ত দেওয়ার সময় সব নথি সঠিকভাবে যাচাই হয়েছিল কি না। এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে প্রশাসনের নথি যাচাই, তদন্ত এবং চলমান আইনি প্রক্রিয়ার ওপর।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is স রক ষ ত বনভ ম ত?

স রক ষ ত বনভ ম ত is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does স রক ষ ত বনভ ম ত matter?

স রক ষ ত বনভ ম ত matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.