Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

রাষ্ট্র পুনর্গঠনে আলেমদের সম্পৃক্ত করতে হবে: সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম

Published October 9, 2026 · Updated October 9, 2026 · By William Jones - banglaprabah.com

Foto : William Jones - banglaprabah.com

রাষ্ট্র পুনর্গঠনে আলেমদের অংশগ্রহণের আহ্বান চরমোনাই পীরের

Banglaprabah.com – র ষ ট র প নর গঠন - জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র পুনর্গঠনের উদ্যোগে উলামায়ে কেরামকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। তাঁর বক্তব্যে রাষ্ট্রীয় নীতি, জনদুর্ভোগ এবং ধর্মীয় নেতৃত্বের অংশগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ আয়োজিত ন্যাশনাল ওলামা সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি। সেখানে তিনি বলেন, দেশের পুনর্গঠন ও রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় ধর্মীয় আলেমদের দূরে রাখলে তার ফল ইতিবাচক হয় না।

রাষ্ট্র সংস্কার ও পুনর্গঠনের কাজে ওলামায়ে কেরামকে সম্পৃক্ত করতে হবে। অতীতে আলেমদের উপেক্ষা করে যে পথ নেওয়া হয়েছে, তার পরিণতি ভালো হয়নি।

রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলাম প্রতিষ্ঠার সুযোগ কাজে লাগানোর তাগিদ

মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলাম প্রতিষ্ঠার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, সেটিকে সবাইকে মিলিতভাবে ব্যবহার করতে হবে। তাঁর ভাষ্যে, সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় নৈতিকতা, জবাবদিহি এবং জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।

তিনি মনে করেন, রাষ্ট্র পুনর্গঠনের আলোচনা কেবল প্রশাসনিক কাঠামো বা রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। মানুষের মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্নও এই প্রক্রিয়ার অংশ হওয়া দরকার। এ ক্ষেত্রে আলেম, মাশায়েখ ও ইমামদের মতামত এবং জনসম্পৃক্ততাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

দেশের ধর্মীয় নেতারা মসজিদ, মাদ্রাসা ও স্থানীয় সমাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকেন। ফলে জনজীবনের নানা সমস্যা, পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধ, নৈতিক উদ্বেগ এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা সম্পর্কে তাঁদের অভিজ্ঞতা রাষ্ট্রীয় আলোচনায় সহায়ক হতে পারে—এমন বক্তব্যও তাঁর বক্তব্যের মূল সুরে উঠে আসে।

ডেঙ্গু, হাম ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে উদ্বেগ

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চরমোনাই পীর জনস্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু ও হামে শত শত মানুষের মৃত্যু হলেও সরকারের তৎপরতা যথেষ্ট দৃশ্যমান নয়।

ডেঙ্গু ও হামে মানুষের মৃত্যু ঘটলেও সরকারের মধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। জনদুর্ভোগ কমানোর ক্ষেত্রেও উদাসীনতা লক্ষ করা যায়।

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একের পর এক পণ্যের দাম বাড়ার চাপ সাধারণ মানুষের ওপর পড়ছে। সংকটের ভার নাগরিকদের ওপর ঠেলে না দিয়ে সমস্যার মূল জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেলে নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে ওঠে। খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতের মতো প্রয়োজনীয় খাতে চাপ তৈরি হয়। তাই জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় মানুষের বাস্তব পরিস্থিতিকে বিবেচনায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তাঁর বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়।

ডেঙ্গু ও হাম প্রসঙ্গে জনসচেতনতা, সময়মতো চিকিৎসা এবং কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নাগরিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে স্থানীয় পর্যায়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতনতা এবং প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

২০২৭-২৮ সেশনের নতুন কমিটি ঘোষণা

চরমোনাই পীরের বক্তব্য শেষে জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের ২০২৭-২৮ সেশনের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ।

কমিটিতে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন আ ফ ম খালিদ হোসাইন। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মুফতি রেজাউল করীম আবরার। জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী।

সংগঠনটির নতুন নেতৃত্বের সামনে ধর্মীয় নেতা, ইমাম ও আলেমদের বিভিন্ন মতামত সমন্বয় করার দায়িত্ব থাকবে। পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তাদের অবস্থান তুলে ধরা, ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং সামাজিক সচেতনতা তৈরির ক্ষেত্রেও কমিটির ভূমিকা থাকতে পারে।

সামিটে দেওয়া বক্তব্যে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে বৃহত্তর অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তাঁর আহ্বান ছিল, রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় দেশের আলেমসমাজকে উপেক্ষা না করে তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হোক।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is র ষ ট র প নর গঠন?

র ষ ট র প নর গঠন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does র ষ ট র প নর গঠন matter?

র ষ ট র প নর গঠন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.