রাজবাড়ীতে পাওনা টাকা আদায়ে তরুণকে মারধর, হত্যার পর পেট্রল ঢেলে লাশে আগুন
র জব ড় ত প ওন ট – সোমবার সকালে রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মদাপুর গ্রামের একটি পাটখেতের পাশ থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আসাদুল ইসলামের দগ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের বিলমানুষমারি গ্রামের কৃষক শাহজাহান মণ্ডলের ছেলে ছিলেন। রোববার রাতে তাঁর সৌদিপ্রবাসী ভগ্নিপতির কাছে পাঁচ হাজার টাকা চাইয়ে বাড়ি থেকে বের হন। তাঁর ফোন বন্ধ ছিল এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না।
সোমবার রাতে তাঁর পরিবার কালুখালী থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ জানায়, এ হত্যার পিছনে পাওনা টাকা আদায়ের বিষয়টি ছিল। আসাদুল কয়েক মাস আগে একমি কোম্পানিতে চাকরি নেন। তিনি তাঁর খালু মিজান শেখের কাছ থেকে ৬৮ হাজার টাকা ধার নেন। ১৫ দিনের মধ্যে পরিশোধের কথা বলে টাকা দেওয়া হয় নি। তার পর থেকে তাঁদের মধ্যে মনোমালিন্য ঘটে।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সোমবার রাতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে মো. মিজান শেখ (২৪), আনোয়ার মণ্ডল (৪০) ও আবদুল করিম মোল্লা (৩৫) রয়েছেন। হত্যার আলামত হিসেবে মোটরসাইকেল, লোহার রড ও রক্তমাখা হেলমেট জব্দ করা হয়।
আসাদুলের চাচা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আসাদুলের মতো ভালো ছেলে এলাকায় খুব কমই আছে। অথচ তাকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যার পর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা এ ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের ফাঁসি চাই।’
তাঁদের স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল বিকেলে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সন্ধ্যার আগে তাঁর নিজ গ্রামে দাফন সম্পন্ন হয়। রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ জানান, সোমবার রাতে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর রাজবাড়ী জেলা শাখার আমির মো. নূরুল ইসলাম দাবি করেছেন, আসাদুল জামায়াতের মদাপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত সক্রিয় কর্মী ছিলেন। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি। সোমবার রাত ১১টা পর্যন্ত তিনি থানায় অবস্থান করেন।
