Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

রাউজানে সন্ত্রাসীরাই যেন ‘রাজা’

Published August 11, 2026 · Updated August 11, 2026 · By Linda Hernandez - banglaprabah.com

রাউজানে সন্ত্রাসীরাই যেন 'রাজা': হত্যাকাণ্ড ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের গল্প

Banglaprabah.com – র উজ ন সন ত র স - চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রাউজান। পশ্চিমে হালদা নদী, দক্ষিণে কর্ণফুলী এবং পূর্বে রাঙ্গুনিয়া ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়। নদী, পাহাড় ও প্রধান সড়কের এই সংযোগ অপরাধী গোষ্ঠীগুলোকে হামলার পর পালানোর একাধিক পথ দিয়েছে। রাউজানে সন্ত্রাসীরাই যেন 'রাজা' হয়ে উঠেছে বলে স্থানীয়রা মনে করেন।

প্রথম আলোর দুই প্রতিবেদক সম্প্রতি রাউজানের গরিবউল্লাহ পাড়া থেকে শুরু করে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়া ১৫টি স্থানে গিয়েছেন। পাহাড়তলী চৌমুহনী, কদলপুরের ঈশান ভট্টের হাট ও আশরাফ শাহর মাজার, রাউজান সদর ইউনিয়নের গাজীপাড়া, পৌরসভা, অলিমিয়ার হাট, পূর্ব গুজরা, মদুনাঘাট ও নোয়াপাড়া। স্থানীয় বাসিন্দা, নিহত ব্যক্তিদের স্বজন, ব্যবসায়ী, সিএনজিচালক ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন তাঁরা।

হত্যার কৌশল ও পরিসংখ্যান

হত্যার স্থান আলাদা হলেও কৌশল প্রায় একই। অস্ত্রধারীরা মোটরসাইকেল বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় এসে প্রকাশ্যে গুলি করেন। এরপর পাহাড়ি পথ ধরে সরে যান। পড়ে থাকে লাশ, বাড়ি ছাড়া পরিবার এবং নীরব হয়ে যান প্রত্যক্ষদর্শীরা। এরপর বদলে যেতে থাকে এলাকার নিয়ন্ত্রণ।

প্রথম আলোর অনুসন্ধানে পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এ বছরের জুন পর্যন্ত রাউজানে অন্তত ২৬টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষে আহত হয়েছেন সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ। হত্যাকাণ্ডগুলোর অন্তত ১৬টির সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও রাউজানকেন্দ্রিক খুন হয়েছে ছয়টি।

গরিবউল্লাহ পাড়া: সন্ত্রাসীদের দুই পক্ষ

রাউজানের গরিবউল্লাহ পাড়ায় ঢোকার আগে সিএনজিচালকদের হিসাব করতে হয়—যাত্রী কারা, যাবেন কোন বাড়িতে, পরিচিত লোকের নাম কী। কারণ, পথে সন্ত্রাসীদের দুটি পক্ষ গাড়ি থামিয়ে চালক ও যাত্রীদের তল্লাশি করে।

এই পাড়ার ভান্ডারি কলোনিতেই গত বছরের ১৯ এপ্রিল রাতে প্রবাসফেরত যুবদল কর্মী মানিক আবদুল্লাহকে নিজ বাড়িতে গুলি করে হত্যা করা হয়। এরপর তাঁর পরিবার বাড়ি ছেড়েছে। প্রতিবেশীরা হত্যাকারীদের কয়েকজনকে চিনলেও নাম বলতে চান না।

এখানে কথা বলার মানে নিজের বিপদ ডেকে আনা।

সিএনজিচালকদের অভিজ্ঞতা

রাউজানের তিনজন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক প্রথম আলোকে বলেন, গরিবউল্লাহ পাড়ায় তাঁরা তল্লাশির শিকার হয়েছেন। সেখানে যাওয়ার কারণে গালাগালও শুনেছেন। একজন বলেন, 'যাত্রী নিয়ে গেলেও ভয় লাগত। দুই পক্ষই থামাত। ভুল লোকের নাম বললে বিপদ।'

স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, স্থানীয় রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজি ঘিরে পাড়ায় দুটি পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ। এক পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন যুবদল নেতা আরাফাত মামুন। তিনি বাগোয়ান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চান। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করার পথে বাধা হয়ে উঠেছিলেন প্রবাসফেরত যুবদল কর্মী মানিক আবদুল্লাহ।

রাজনৈতিক সংযোগ ও নিয়ন্ত্রণ

ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম হত্যা মামলায় আরাফাত মামুন গত বছরের ৪ মার্চ গ্রেপ্তার হন। এর পরের মাসে খুন হন মানিক আবদুল্লাহ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে মনে করেন, মানিক হত্যার মামুনের অনুসারীদের ভূমিকা রয়েছে।

মানিকের পাশের বাড়ির বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলমসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে বোঝা যায়, হত্যাকাণ্ডের পরও এলাকার ভয় কাটেনি। মানিকের পরিবার বাড়ি ছেড়েছে। তাদের ঘরটি ফাঁকা পড়ে আছে।

পরিত্যক্ত ওই বাড়িতে গেলে পাশের একটি খুপরি থেকে 'কে? কে?' বলে একজন চিৎকার করে উঠলেন। পরে সেখান থেকে বের হয়ে এক যুবক প্রথম আলোর প্রতিবেদকদের সঙ্গে কথা বলেন। নাম জানালেন হৃদয় আহমেদ ওরফে শাওন। দাবি করলেন, তিনি মামুনের মুক্তির জন্য কাজ করছেন। তিনিও চাঁদাবাজির একটি মামলায় গ্রেপ্তার ছিলেন। কিছুদিন আগে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

মানিক খারাপ লোক ছিলেন, তাই খুন হয়েছেন। তবে এতে মামুন জড়িত নন।

এলাকার ইতিহাস ও বর্তমান পরিস্থিতি

হত্যার পর দক্ষিণ রাউজানের নিয়ন্ত্রণ জসিম গ্রুপের হাতে। মানিকের ছোট ভাই সাকিল আহমেদ বলেন, ২০১০ সালের ২৬ মার্চ তাঁদের বড় ভাই যুবদল কর্মী রাশেদুল ইসলামকে গাড়ি থেকে নামিয়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল।

১৫ বছর আগে এক ভাইকে খুন করেছে আওয়ামী লীগের লোকজন। এবার আরেক ভাই (মানিক) খুন হন নিজের দলের মানুষের হাতে।

সরেজমিন দেখা গেছে, খুন এখানে শুধু প্রতিপক্ষকে সরানোর ঘটনা নয়; বাজারের চাঁদাবাজি, বালুমহাল, নির্মাণসামগ্রীর ব্যবসা এবং এলাকাভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠারও হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। এসব ঘিরে রাউজানে তৈরি হয়েছে এক অদৃশ্য শাসনব্যবস্থা, ভয় সংস্কৃতি।

নোয়াপাড়ার এক বাসিন্দার ভাষ্য, 'এখানে মানুষ প্রজার মতো। সন্ত্রাসীরাই রাজা।'

ঈশান ভট্টের হাটে স্ত্রী-সন্তানের সামনে যুবদল নেতা মো. সেলিমকে, পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে শত শত মানুষের সামনে মাসুদুল হক চৌধুরীকে, গাজীপাড়ায় মুহাম্মদ ইব্রাহিম ও পশ্চিম রাউজানে আলমগীর আলমকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহত ব্যক্তিদের সবাই যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

এর বাইরে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বা তাদের সম্পর্কে খোঁজখবর রাখেন—এমন আট ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তাঁদের ভাষ্য, রাউজানের সন্ত্রাসীরা আশপাশের এলাকা এবং চট্টগ্রাম নগরেরও বিভিন্ন ঘটনায় জড়িত। এ ক্ষেত্রে সন্ত্রাসী মোহাম্মদ রাহানের নাম সবচেয়ে বেশি এসেছে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

রাউজানে কতগুলো হত্যাকাণ্ড হয়েছে? ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে জুন পর্যন্ত রাউজানে অন্তত ২৬টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

রাউজানের সন্ত্রাসীরা কারা? রাউজানের সন্ত্রাসীরা মূলত যুবদল ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে বিরোধের কারণে সক্রিয়। সন্ত্রাসী মোহাম্মদ রাহানের নাম সবচেয়ে বেশি উল্লেখিত।

গরিবউল্লাহ পাড়ায় কেন সন্ত্রাসীরা দুই পক্ষে ভাগ হয়েছে? স্থানীয় রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজি ঘিরে পাড়ায় দুটি পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ। এক পক্ষের নেতৃত্বে যুবদল নেতা আরাফাত মামুন।

রাউজান থেকে কত দূরে চট্টগ্রাম শহর? চট্টগ্রাম শহর থেকে রাউজান প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is র উজ ন সন ত র স?

র উজ ন সন ত র স is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does র উজ ন সন ত র স matter?

র উজ ন সন ত র স matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.