যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক হামলা চালালে পরদিন সকালে বিশ্বজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলো দখল করা হবে
পারমাণবিক হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সব ঘাঁটি দখল হবে: ইরানি জেনারেল
Banglaprabah.com – য ক তর ষ ট র প - ইরানের একজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক হামলা চালায়, তবে পরদিন সকালেই বিশ্বজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলো দখল করা হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই সময়কালটি ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ২০২৯ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত ট্রাম্পের ক্ষমতায় থাকার কথা রয়েছে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি এই তথ্যটি প্রকাশ্যে জানান। তিনি মোজতবা আলী খামেনির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপের মাধ্যমে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হচ্ছে। ইরানের ওপর হামলা চালানোর জন্য একটি 'কঠোর মূল্য' পরিশোধ করতে হবে বলে জেনারেল নাকদি উল্লেখ করেন। পিবিএস–কে দেওয়া বিরল সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই সংঘাত যতদিন চলবে, আমাদের অভিজ্ঞতাও তত বাড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কীভাবে লড়াই করতে হয়, সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য এর আগে আমরা কখনো এমন আসল যুদ্ধ দেখিনি। তবে গত পাঁচ মাসে আমরা সেই কৌশল খুব ভালোভাবেই শিখে নিয়েছি।
পারমাণবিক হামলার পর সব ঘাঁটি দখল হবে
চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আইআরজিসির জেনারেল হুঁশিয়ারি দেন। এটি শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য একটি 'মস্ত বড় ভুল' হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। জেনারেল নাকদি বলেন, তারা পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করার ঠিক পরদিন সকালেই বিশ্বজুড়ে যত সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, তার সব কটি দখল করে নেওয়া হবে।
আজকের পরিস্থিতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো নয়। বর্তমান বিশ্বের মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন। পৃথিবীর কোনো মানুষই এমন জঘন্য অপরাধ মেনে নেবে না। কারণ, তারা জানে, পরবর্তী সময়ে এ একই ঘটনার শিকার তারাও হতে পারে।
ফেব্রুয়ারি হামলার পরিস্থিতি ও লক্ষ্য
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। সেই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের এক বড় অংশ নিহত হন। জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনা এবং অন্যান্য সম্পদের ওপর পাল্টা হামলা শুরু করে।
ট্রাম্প ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়া পর্যন্ত এ যুদ্ধ টেনে নিয়ে যাওয়াই ইরানের একমাত্র লক্ষ্য কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জেনারেল নাকদি বলেন, আমাদের এমন এক প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেন (ভবিষ্যতে) শত্রু কখনো আমাদের ওপর হামলা চালানোর সাহস না পায় এবং আমরা পুরোপুরি নিরাপদে বসবাস করতে পারি। এর অন্যতম উপায় হলো, আগামী (মার্কিন) প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্যন্ত এ যুদ্ধকে টেনে নিয়ে যাওয়া এবং শত্রুকে ক্ষয়িষ্ণু করে ফেলা। ফলে পরে অন্য কেউ যদি ইরানের ওপর হামলার কথা ভাবে, তবে তারা ভালো করেই জানবে যে এর জন্য কত বড় মূল্য গুনতে হবে।
পারমাণবিক বোমার প্রয়োজন নেই
ইরান নিজেরা পারমাণবিক বোমা তৈরির কোনো পরিকল্পনা বা সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে কি না, জানতে চাইলে এ জেনারেল স্পষ্ট করে জানান, এর কোনো 'প্রয়োজনই নেই'। নিজের দেশের শক্তির উৎস ব্যাখ্যা করে খামেনির এই সহযোগী বলেন, আমাদের আসল পারমাণবিক বোমা হলো, বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়; যা আমরা জুলুমের বিরুদ্ধে লড়াই করে জোগ করেছি। তাই আমাদের পারমাণবিক বোমার কোনো প্রয়োজন নেই। কোনো ধরনের গণহত্যারও প্রয়োজন আমাদের নেই।
ইরানিদের 'যুক্তরাষ্ট্র নিপাত যাক' (ডেথ টু আমেরিকা) স্লোগানটির তীব্র সমালোচনা করেন মার্কিন রাজনীতিকেরা। এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ইরানি জেনারেল জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের সঙ্গে তাঁদের 'কোনো শত্রুতা নেই'। স্লোগানটির প্রকৃত অর্থ স্পষ্ট করে জেনারেল নাকদি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র নিপাত যাক' বলতে মূলত মার্কিন নেতৃত্ব বা প্রশাসনের ধ্বংস বোঝায়। কারণ, এই কুখ্যাত নেতৃত্ব একটি পরাশক্তি হওয়ার পর এ পর্যন্ত বিশ্বের ৭০টির বেশি দেশে সামরিক আগ্রাসন বা আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করেছে।
ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও বিশ্বাসের ওপর নির্ভরতা
ইরানি জেনারেল দাবি করেন, তেহরান প্রতিদিন যত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে, তার চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক প্রতিদিন নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। জেনারেল নাকদি উল্লেখ করেন, তাঁরা শুধু ইরানের তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ওপরই নির্ভর করেন। নিজেদের বাহিনীর শক্তির দর্শন তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ওপর নির্ভরশীল নই। আমরা যদি শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হই, তবে তা আমাদের বিশ্বাসের জোরেই হবে। তবে মার্কিন ও জাওনবাদীরা (ইসরায়েলিরা) সব সময় আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা গুনতেই ব্যস্ত থাকে।
যদি কখনো এমন দিন আসে, যখন ইরানের কাছে আর একটিও ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট থাকবে না, ঠিক তখন আমরা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও বেশি বিপজ্জনক ও মারাত্মক হয়ে উঠব।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
ইরানি জেনারেলের মতে পারমাণবিক হামলার পর কী ঘটবে? জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি জানান, যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করার ঠিক পরদিন সকালেই বিশ্বজুড়ে মার্কিন সব সামরিক ঘাঁটি দখল করে নেওয়া হবে।
ইরান কি নিজেরা পারমাণবিক বোমা তৈরি করছে? না, জেনারেল নাকদি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের নিজেরা পারমাণবিক বোমা তৈরির কোনো পরিকল্পনা নেই। তাদের মতে, বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ই তাদের আসল পারমাণবিক বোমা।
ফেব্রুয়ারি হামলায় কে কে নিহত হয়েছিলেন? ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের এক বড় অংশ নিহত হন।
ইরানিদের 'যুক্তরাষ্ট্র নিপাত যাক' স্লোগানের প্রকৃত অর্থ কী? জেনারেল নাকদি ব্যাখ্যা করেন, এই স্লোগানটি মার্কিন সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে নয়, বরং মার্কিন নেতৃত্ব ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে। কারণ, এই নেতৃত্ব বিশ্বের ৭০টির বেশি দেশে সামরিক আগ্রাসন চালিয়েছে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is য ক তর ষ ট র প?য ক তর ষ ট র প is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does য ক তর ষ ট র প matter?য ক তর ষ ট র প matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.