Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

মোদির জন্মদিন উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গে ২০ দিনের নজিরবিহীন আয়োজন, সমালোচনা

Published September 13, 2026 · Updated September 13, 2026 · By Elizabeth Smith - banglaprabah.com

Foto : Elizabeth Smith - banglaprabah.com

মোদির জন্মদিন ও প্রশাসনিক জীবনের ২৫ বছর উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গে ২০ দিনের কর্মসূচি

Banglaprabah.com – ম দ র জন মদ ন উপলক - ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৫তম জন্মদিন এবং প্রশাসক হিসেবে তাঁর ২৫ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি একটি সরকারি আয়োজন নেওয়া হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ নামে এই কার্যক্রম। রাজ্যজুড়ে জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রতিযোগিতা, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা উদ্যোগ, শোভাযাত্রা এবং আলোকসজ্জার পরিকল্পনা এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রাজ্যের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি মন্ত্রী ও বিধায়কদের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরেন। পশ্চিমবঙ্গে এর আগে এত দীর্ঘ সময় ধরে কোনো প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন ও কর্মজীবনকে ঘিরে এমন উদ্‌যাপনের নজির নেই বলেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে শুরুতেই এ উদ্যোগকে ঘিরে বিতর্কও তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে স্কুলশিক্ষার্থী ও সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সম্পৃক্ত করার বিষয়টি নিয়ে।

প্রদীপ জ্বালিয়ে সূচনা

রাজ্য সচিবালয় নবান্নের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর সূর্যাস্তের পর ‘আশীর্বাদো কি দিয়া’ কর্মসূচির মাধ্যমে অভিযান শুরু হবে। পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা এলাকাতেই প্রদীপ প্রজ্বালনের বিশেষ আয়োজন থাকবে। প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় অন্তত ২৫ হাজার প্রদীপ জ্বালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। ফলে ওই সন্ধ্যায় রাজ্যজুড়ে ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে ৭০ লাখের বেশি প্রদীপ জ্বলে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

নবান্ন, রাজ্য সচিবালয়, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ও কালীঘাট মন্দিরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী স্থান প্রদীপের আলোয় সাজানোর কথাও রয়েছে। প্রধান অনুষ্ঠান গঙ্গার তীরবর্তী এলাকায় হওয়ার কথা। এই আয়োজনের প্রতীকী দিকটি গুরুত্বপূর্ণ—একযোগে আলো জ্বালানোর মাধ্যমে জন্মদিনের শুভেচ্ছা এবং ২০৪৭ সালের বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে অঙ্গীকার প্রকাশের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বিদ্যালয় ও পরিবারকে যুক্ত করার পরিকল্পনা

প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত রাজ্যের ৮০ হাজারের বেশি বিদ্যালয়কে এই বৃহৎ কর্মযজ্ঞে যুক্ত করা হয়েছে। জেলা স্কুল পরিদর্শকদের বিধানসভাভিত্তিক শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত তালিকা প্রস্তুত করে তা সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত তালিকা অনুসারে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটি করে প্রদীপ দেওয়া হবে। প্রদীপ কেনার জন্য মাথাপিছু দুই টাকা বরাদ্দের কথাও জানানো হয়েছে।

১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাতটায় শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাড়িতে প্রদীপ জ্বালানোর কথা। কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো এবং বিকশিত ভারতের জন্য সংকল্প গ্রহণের বিষয়টি রাখা হয়েছে। শুধু পড়ুয়ারাই নয়, সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পান এমন অভিভাবকদেরও এতে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই অংশটিই সমালোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। শিক্ষা ও পরিবারের ব্যক্তিগত পরিসরকে সরকারি উদ্‌যাপনের সঙ্গে যুক্ত করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উদ্‌যাপনে সাধারণ স্কুলপড়ুয়া ও তাদের অভিভাবকদের এক রাজনৈতিক বা সামাজিক সমীক্ষায় শামিল করা হচ্ছে। সরকারি সুবিধার উপভোক্তাদের এভাবে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে বাধ্য করা অনুচিত।

প্রতিযোগিতা, যাত্রা ও উদ্ভাবন কর্মসূচি

১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ অক্টোবরের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সামাজিক ও সৃজনশীল নানা প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা আছে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা ‘স্বপ্নের ভারত’ বিষয়কে কেন্দ্র করে অঙ্কন, কুইজ, তাৎক্ষণিক বক্তৃতা এবং বিতর্কে অংশ নিতে পারবে। স্কুলশিক্ষা দপ্তর ‘নমো সেবা নাটক’ মঞ্চায়নের নির্দেশনাও দিয়েছে।

উচ্চশিক্ষা দপ্তরের ‘বিকশিত ভারত সংকল্প যাত্রা’ কর্মসূচিতে পশ্চিমবঙ্গের ২৫ জন প্রতিনিধিকে উত্তর প্রদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সংখ্যক শিক্ষার্থী উত্তর প্রদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে আসবে। সফর ও বিনিময় কর্মসূচির মাধ্যমে তারা বিভিন্ন বিষয়ে কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালাবে।

ক্রীড়া দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’, ‘সেবা সেতু অভিযান’ এবং আলপনা প্রতিযোগিতার কথাও রয়েছে। আইআইটি খড়গপুর বা আইআইএম কলকাতার মতো প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় ‘রাষ্ট্রীয় ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’ আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যুবসমাজকে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করতে মোটরবাইক ও সাইকেল মিছিল, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, স্বাস্থ্য শিবির এবং রক্তদান কর্মসূচি রাখা হয়েছে।

উৎসবের সময়ে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ

আয়োজনকে আরও দৃশ্যমান করতে প্রাকৃতিক রং দিয়ে ১০৮ মিটার দীর্ঘ ‘ভারত মণ্ডল’ রঙ্গোলি বা রঙিন আলপনা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এমন বৃহৎ জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি উৎসবের আবহে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে আয়োজকদের প্রত্যাশা। কিন্তু পূজার সময় এই দীর্ঘ অনুষ্ঠানপর্ব চললে খুচরা ব্যবসায় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কিছু দোকানি। তাঁদের উদ্বেগ, উৎসবকে কেন্দ্র করে সাধারণত যে সময় বিক্রি বাড়ে, সেই সময়ে নানা কর্মসূচি ও চলাচল ব্যবস্থার কারণে ক্রেতাদের স্বাভাবিক বাজারমুখিতা কমে যেতে পারে।

কর্মসূচির ঘোষিত লক্ষ্য হলো কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুফল মানুষের সামনে তুলে ধরা। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত, জল জীবন মিশন এবং পিএম কিষান সম্মাননিধির মতো প্রকল্পের মাধ্যমে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের বার্তা প্রচারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

২০ দিনের এই আয়োজন তাই শুধু জন্মদিন উদ্‌যাপন নয়; এটি জনসংযোগ, সামাজিক কর্মসূচি, শিক্ষা-সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক বিতর্কেরও একটি বড় ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। এর বাস্তবায়নে ছাত্রছাত্রী, পরিবার, সরকারি দপ্তর, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে অংশ নেয়, সেই দিকেই এখন নজর থাকবে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ম দ র জন মদ ন উপলক?

ম দ র জন মদ ন উপলক is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ম দ র জন মদ ন উপলক matter?

ম দ র জন মদ ন উপলক matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.