মুহুর্মুহু বিস্ফোরণ, আতঙ্ক—মেহেরপুরে উদ্ধার ৯৬টি মাইন যেভাবে ধ্বংস করা হলো
মেহেরপুরে ৯৬টি মাইন ধ্বংসের পরেও আতঙ্ক
Banglaprabah.com – ম হ র ম হ ব স - গত সোমবার বিকেলে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মধুগাঁও গ্রামের মাথাভাঙ্গা নদীর পাড়ে চার ধাপে মুহূর্তে মুহূর্তে বিস্ফোরণের শব্দে কাঁপে পুরো এলাকা। যশোর সেনানিবাসের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ওই বিস্ফোরণে ৯৬টি মাইন ধ্বংস করে। প্রথম চারটি বিস্ফোরণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়। প্রতিটি বিস্ফোরণে মাঠের মাটি উড়ে যায় এবং ভীতি ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের মানুষের মধ্যে। অনেকেই ছুটোছুটি শুরু করেন।
মাটির নিচ থেকে উদ্ধারের গল্প
গত শনিবার দুপুরে বেতবাড়িয়া গ্রামে নিজের জমিতে মাটি কাটতে গিয়ে নুরুজ্জামান কালু নামের এক ব্যক্তি মাইনগুলোর সন্ধান পান। কোদালের কোপে ছয়টি ধাতব বস্তু বেরিয়ে আসে। সেগুলোর গায়ে লেখা ছিল 'পি ডি এফ জি এল ৬৩, লট ৩৭, মাইন ১৯৬৭'। খবর পেয়ে পুলিশ ও বিজিবি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জায়গাটি ঘিরে রাখে। দুই দিন পর সেই জায়গা খুঁজে সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল মোট ৯৬টি মাইন উদ্ধার করে।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফার ধারণা, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সম্ভবত মাইনগুলো মাটির নিচে পুঁতে রেখেছিল।
বিস্ফোরণের দিনের ঘটনা
গতকাল দুপুরে যশোর সেনানিবাসের ১৯ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে যায়। মেজর তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ওই দল মাইনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। মাথাভাঙ্গা নদীর পাড়ে পাঁচটি বড় গর্ত খোঁড়া হয়। মাইনগুলো বস্তায় ভরে গর্তে নামানোর পর ওপরে বালু ও মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। এরপর ইলেকট্রিক তারের সংযোগ দিয়ে সেনাসদস্যরা ৫০০ মিটার দূরে সরে যান।
বিস্ফোরণের সময় সেনাসদস্যরা মাটিতে শুয়ে পড়েন। বিকট শব্দে বিস্ফোরণের সমস্ত মাঠের মাটি উড়ে যায়।
প্রথমে আমরা মনে করেছিলাম যে এই জিনিস খালি বাক্স। বিস্ফোরণের শব্দে আমরা ভয় পেয়ে গেছি।
বেতবাড়িয়া গ্রামের কৃষক হানা মিঞা, বাহাদুর, মিরন ও লালু ভয়ভাবের এই অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে এমন কথা বলেন।
স্থানীয় নির্মাণশ্রমিক মামুন মিঞা বলেন, হাতে নিয়ে জিনিসগুলো নেড়েচেড়ে দেখার কথা তিনি জানিয়েছেন। বিস্ফোরণের আগে তিনি ভাবতেই পারেননি এগুলো এত মারাত্মক হতে পারে। এখন পুরো এলাকার মানুষ ভয়ের মধ্যে আছেন, আরও মাইন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে কি না, সেই চিন্তায়।
উদ্ধার করা মাইনগুলোর মধ্যে ১৭টি ট্যাংক-বিধ্বংসী এবং ৭৯টি মানববিধ্বংসী ছিল। সেনাসদস্যরা নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেগুলো সফলভাবে ধ্বংস করেছেন। গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাদ্দিদ মোরশেদ জানান, ওই এলাকার আরও কোনো বিস্ফোরক দ্রব্য রয়েছে কি না, তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে সন্দেহজনক কোনো বস্তু চোখে পড়লে অবিলম্বে পুলিশকে জানানোর জন্য সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানান তিনি।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ম হ র ম হ ব স?ম হ র ম হ ব স is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ম হ র ম হ ব স matter?ম হ র ম হ ব স matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.