মিসরে ইবনে খালদুন: এক বহুমাত্রিক জীবনের শেষ অধ্যায়
মিসরীয়দের প্রকৃতি ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি
ম সর ইবন খ লদ ন – মুসলিম ইতিহাসে বিশেষ স্থান অধিকার করে এমন সমাজবিজ্ঞানী ওলিউদ্দিন আবু জাইদ আবদুর রহমান ইবনে খালদুন আল-হাদরামি মিসরীয় সমাজের অদ্ভুত নিশ্চিন্ততার ও আনন্দ প্রতিফলন করে লিখেছিলেন যে, সেখানকার মানুষের মেজাজে সবসময় ভবিষ্যৎ ও আনন্দের অদ্ভুত সম্পর্ক রয়েছে। তিনি মিসরকে তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ আল–মুকাদ্দিমা দ্বারা বিশ্বের উদ্যান ও মানবজাতির মিলনমেলা হিসেবে প্রকাশ করেছিলেন। এটা ছিল সমাজতাত্ত্বিক চিন্তার সার্থক প্রকাশ।
কায়রোতে তাঁর অবতরণ এবং রাজনৈতিক পরিবেশ
৭৮৪ হিজরিতে (১৩৮২ খ্রি.) ইবনে খালদুন উত্তর আফ্রিকা ও আন্দালুসের রাজনৈতিক সংঘাতের পর মিসরে আশ্রয় গ্রহণ করেন। কায়রোতে তাঁর জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে মামলুক সুলতান জাহির বারকুক তাঁকে সম্মান দিয়ে আল-আজহার কলেজে শিক্ষাদানের স্থান অর্পণ করেন। পরে তিনি মিসরের মালেকি ফিকহের প্রধান মাদ্রাসা আল-মাদরাসাতুল ক্বমহিয়্যা এর শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। তাঁর সংখ্যালঘু সমাজবিজ্ঞানের প্রতি এক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বও গ্রহণ করেন।
ইবনে খালদুন তখন একটা ক্ষমা-প্রার্থনামূলক কাসিদা রচনা করে বোঝান যে তলোয়ারের মুখে জিম্মি হয়েই তাঁকে স্বাক্ষর করতে হয়েছিল। আর বারকুক তাঁকে ক্ষমা করে আগের পদে ফিরিয়ে দেন।
সমাজবিজ্ঞান ও রাজনৈতিক বিতর্ক
সামাজিক চিন্তাধারার জন্য ইবনে খালদুন ছাত্র ইবনে হাজার আল-আসকালানি লিখেছিলেন, ইবনে খালদুন বহুবার বলেছিলেন, ‘মিসরের রাজত্বের জন্য একমাত্র আশঙ্কার কারণ ইবনে উসমান।’ কিন্তু এখানে বিশেষ জনপ্রিয় উসমানীয় সুলতান প্রথম বায়েজিদকে বোঝানো হয়েছে, যিনি তখন অঞ্চলের জন্য হুমকি ছিলেন।
আসকালানি, রাফউল ইস্র আন কুদাতি মিসর , কায়রো: আল-হাইয়াতুল মিসরিয়্যা, ১৯৯৮
গৃহীত পদ্ধতি এবং মধ্যযুগীয় বিতর্ক
মাকরিজি তাঁর গ্রন্থে ইবনে খালদুনের সমাজবিজ্ঞানের অনন্য মূল্য স্বীকৃত করেছিলেন, যেখানে স্পষ্ট করে বলেছিলেন যে কোনো বিকল্প পৃথিবীতে তাঁর বিখ্যাত কাজের অনুরূপ নেই। তবে মধ্যযুগে তাঁর ঐতিহাসিক পদ্ধতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এক বিশেষ রাজনৈতিক বিতর্কের কথা সত্য হলেও সংখ্যালঘু মতামত হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
জাইনুদ্দিন আবদুল বাসিত ইবনে শ
