Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

মামলা, গ্রেপ্তার, অবসর ও এএসডির চাপে পুলিশ

Published August 9, 2026 · Updated August 9, 2026 · By Mark Gonzalez - banglaprabah.com

Foto : Mark Gonzalez - banglaprabah.com

পুলিশের শাস্তির আওতায়: মামলা থেকে অবসর পর্যন্ত

Banglaprabah.com – ম মল গ র প ত র - জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানোর অভিযোগে পুলিশের মোট ১ হাজার ৪৯০ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এই সংখ্যার মধ্যে ৬৮ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং ৫৭ জন এখনো পলাতক। এছাড়াও ১৪১ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। ওএসডি বা বিভিন্ন ইউনিটে সংযুক্ত করা হয়েছে আরও ১৪২ জনকে। পলায়নের অভিযোগে সামরিক বরখাস্ত হয়েছেন ৯৩ জন।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা

মামলার আসামি হওয়া, গ্রেপ্তার, পলাতক, সামরিক বরখাস্ত, ওএসডি এবং বাধ্যতামূলক অবসরের কারণে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সাবেক মহাপরিদর্শক, অতিরিক্ত আইজিপি, মহানগর পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মতো পদে থাকা কর্মকর্তারাও আছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গণ-অভ্যুত্থানের পর সারা দেশে ১৩৭ জন পুলিশ সদস্য কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। পর্যায়েক্রমে তাঁদের মধ্যে ৮০ জন কর্মস্থলে ফিরেছেন। পলাতকদের মধ্যে ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, এএসপি, পরিদর্শক, এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল আছেন।

পলাতকদের বিরুদ্ধে সরকারি সিদ্ধান্ত

পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, পলাতক পুলিশ সদস্যদের মধ্যে যাঁদের চাকরির বয়স ২৫ বছরের কম, তাঁদের বিভাগীয় মামলার মাধ্যমে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর যাঁদের চাকরির বয়স ২৫ বছরের বেশি, তাঁদের সরাসরি চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাধ্যতামূলক অবসরের তালিকা

গণ-অভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন পদমর্যাদার ১৪১ জন পুলিশ সদস্যকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৩ জুলাই পুলিশের ১৭ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত ৫৬ জন এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠনের পর আরও ৮৫ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।

একই সময়ে জুলাই অভ্যুত্থান ঘিরে হওয়া মামলায় এখন পর্যন্ত ৬৮ জন পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েকজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাও বর্তমানে কারাগারে আছেন। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, এসব কর্মকর্তার বড় অংশের বিরুদ্ধেই ফৌজদারি মামলা রয়েছে।

নির্দোষদের শাস্তির অভিযোগ

শাস্তির আওতায় আসা পুলিশ সদস্যদের একটি অংশের অভিযোগ, অনেক পুলিশ কর্মকর্তার প্রকৃত সম্পৃক্ততা যাচাই না করেই মামলার আসামি করা হয়েছে। কেউ ঘটনাস্থলেই ছিলেন না, কারও ডিউটি রোস্টারে নাম ছিল না, আবার কেউ তখন অন্য ইউনিটে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এরপরও তাঁদের মামলা হয়েছে।

এই অংশের দাবি, পুলিশের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেও কেউ কেউ মামলার আসামি হয়েছেন। এতে প্রকৃত অপরাধীদের পাশাপাশি নির্দোষ কর্মকর্তারাও শাস্তির মুখে পড়ছেন। অন্যদিকে পুলিশের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, অতীতে ক্ষমতার অপব্যবহার, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগে জড়িত কর্মকর্তাদের বিচার করা জরুরি। তবে তাঁদের ক্ষেত্রেও যথাযথ তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তাঁরা।

যেসব মামলায় পুলিশ সদস্যদের কারাদণ্ড হয়েছে, তাঁদের নামে রেড নোটিশ জারির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।

— খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক, ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস

ওএসডি ও সামরিক বরখাস্তের বিস্তারিত

এদিকে বিভিন্ন পদমর্যাদার আরও ৮২ জনকে ওএসডিসহ ১৪২ জনকে বিভিন্ন ইউনিটে সংযুক্ত করা হয়েছে। পলায়নের অভিযোগে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী ৯৩ জনকে সামরিক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৭ জন ডিআইজি, ১২ জন অতিরিক্ত ডিআইজি, ৩২ জন পুলিশ সুপার, ২৫ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ১৭ জন এএসপি রয়েছেন।

এ ছাড়া গণ-অভ্যুত্থান ঘিরে হওয়া মামলায় পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত আরও ২৬ জনকে সামরিক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত বছরের ৭ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিজ কর্মস্থল থেকে পলায়নের অভিযোগে ডিআইজি থেকে পরিদর্শক পদমর্যাদার ৪০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। তাঁদের বিপিএম ও পিপিএম পদকও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

তবে এই শাস্তির প্রক্রিয়া নিয়ে পুলিশে বিতর্ক রয়েছে। শাস্তির আওতায় আসা কয়েকজন কর্মকর্তার অভিযোগ, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তাঁদের অনেকেই ঘটনাস্থলে ছিলেন না। কারও ডিউটি রোস্টারে নাম ছিল না। কেউ ছিলেন অন্য ইউনিটে। তাঁদের অভিযোগ, তৎকালীন প্রভাবশালী কিছু পুলিশ কর্মকর্তা ও একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতার প্রভাবে অনেক নির্দোষ কর্মকর্তাও মামলায় জড়িয়েছেন। মামলা হওয়ার পর তাঁদের সামরিক বরখাস্ত, ওএসডি, সংযুক্ত বা বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ধারাবাহিকতা শুরু হয়।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ম মল গ র প ত র?

ম মল গ র প ত র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ম মল গ র প ত র matter?

ম মল গ র প ত র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.