Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

মাটির পণ্যে নান্দনিকতা, ফিরছে পালদের হারানো মৃৎশিল্প

Published September 18, 2026 · Updated September 18, 2026 · By James Jackson - banglaprabah.com

Foto : James Jackson - banglaprabah.com

আধুনিক যন্ত্রে নতুন প্রাণ পাচ্ছে সাতক্ষীরার মৃৎশিল্প

Banglaprabah.com – ম ট র পণ য ন ন - সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মাঝিয়াড়া গ্রামে মাটির তৈরি থালা, বাটি কিংবা ফুলদানি দেখলে প্রথমে অনেকেরই বোঝা কঠিন হয়—এসবের উপাদান আসলে কাদামাটি। কারখানার নানা প্রান্তে সাজানো আছে নকশাদার কাপ-পিরিচ, মগ, জগ, বোতল, টব ও টেরাকোটার সামগ্রী। কোথাও রোদে শুকোচ্ছে সদ্য গড়া পণ্য, কোথাও চুল্লিতে পোড়ানোর প্রস্তুতি চলছে। ভেতরে মেশিনের ঘূর্ণন, কারিগরদের হাতের কাজ এবং রঙের প্রলেপে ব্যস্ত এক কর্মযজ্ঞ।

উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন প্রচেষ্টার কারিগরি সহায়তায় এই কারখানায় আধুনিক ছাঁচ ও যন্ত্র ব্যবহার করে মাটির বিভিন্ন ব্যবহার্য ও সাজসজ্জার পণ্য তৈরি হচ্ছে। একসময় পাল সম্প্রদায়ের বহু পরিবারের প্রধান জীবিকা ছিল মৃৎশিল্প। কম দামের বিকল্প পণ্য, বদলে যাওয়া বাজার এবং উৎপাদনের সীমাবদ্ধতায় সেই পেশা থেকে সরে গিয়েছিলেন অনেকে। এখন মাঝিয়াড়ার এই উদ্যোগে তাঁদের একাংশ আবার পুরোনো দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন।

মাটি থেকে নকশাদার পাত্র

কারখানার উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় খালবিলের মাটি সংগ্রহের পর যন্ত্রে ছেঁকে ব্যবহারযোগ্য করা হয়। পরে মাটিকে ছোট ছোট দলে প্রস্তুত করে নির্দিষ্ট ছাঁচে বসানো হয়। জিগার মেশিনের ঘূর্ণনের সাহায্যে থালা বা অন্য পাত্রের কাঙ্ক্ষিত গড়ন তৈরি করা হয়। শুকিয়ে গেলে পণ্যে রঙের প্রলেপ দেওয়া হয়, এরপর চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে চুল্লিতে পোড়ানো হয়।

মেশিনে তৈরি মাটির পাত্রের আকারে একরকম সামঞ্জস্য থাকে, আবার ছাঁচের কারণে একই ধরনের নকশার পণ্য তুলনামূলক দ্রুত তৈরি করা যায়। এই পদ্ধতি ঐতিহ্যগত হাতের কাজকে পুরোপুরি বাদ দেয়নি; বরং কারিগরের অভিজ্ঞতা, রঙের ব্যবহার ও শেষ পর্যায়ের ফিনিশিং এখনো পণ্যের সৌন্দর্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।

একটি ঘুরন্ত যন্ত্রে থালার আকার দিচ্ছিলেন কারুশিল্পী কামরুল ইসলাম। তিনি জানান, কারখানায় ছয়টি জিগার মেশিন রয়েছে এবং তিন বছর ধরে কাজ করতে করতে তিনি সব ধাপ রপ্ত করেছেন।

“এই ঘুরতে থাকা যন্ত্রকে জিগার মেশিন বলে। এখানে ছয়টা জিগার মেশিন আছে। আমি তিন বছর ধরে এখানে কাজ করি। এখন সব কাজ শিখে গেছি।”

শুকনো থালায় তরল মিশ্রণ ডুবিয়ে রঙের আবরণ দিচ্ছিলেন অর্চনা পাল। তাঁর ভাষ্য, দেখে দেখেই তিনি কাজটি শিখেছেন। রঙের ওই মিশ্রণে খয়ের, সোডা, রংমাটি ও পানি ব্যবহার করা হয়।

“কাজ আমি দেখে দেখে শিখেছি। মিশ্রণে খয়ের, সোডা, রংমাটি আর পানি আছে।”

ঐতিহ্যের পেশায় ফেরার সুযোগ

মৃৎশিল্পী নমিতা পাল বলেন, আগে মাটি প্রস্তুত করতে হাত-পায়ের পরিশ্রম বেশি লাগত। এখন যন্ত্র ব্যবহারে সময় ও কষ্ট দুটিই কমেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন নকশার ছাঁচে পণ্য তৈরির ফলে কাজের মান ও ফিনিশিং উন্নত হয়েছে, আর দামও তুলনামূলক ভালো পাওয়া যাচ্ছে।

“আগে হাত-পা দিয়ে মাটি প্রস্তুত করতাম। এখন মেশিনে করছি। বিভিন্ন ডিজাইনের ছাঁচে পণ্য উৎপাদনে সময় কম লাগে। পরিশ্রমও কম। সবচেয়ে বড় কথা, পণ্যের ফিনিশিং ভালো হচ্ছে। দামও ভালো পাচ্ছি।”

কারখানার খোলা জায়গায় শুকানোর কাজ করছিলেন ললিতা পাল। তাঁর পরিবারের সঙ্গে মৃৎশিল্পের সম্পর্ক পুরোনো হলেও একসময় সেই ধারাবাহিকতা থেমে গিয়েছিল। এখন কারখানায় কাজ করার মাধ্যমে তিনি আবার পারিবারিক পেশার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।

“আমরা আবার আমাদের পাল সম্প্রদায়ের পুরোনো পেশা ফিরে পেয়েছি। আমার ঠাকুরদা মাটির জিনিসপত্র বানাতেন। তাঁর মৃত্যুর পর বাড়ির আর কেউ এই পেশায় ছিলেন না। এখন আমি আবার এখানে এসে মাটির জিনিসপত্র বানাচ্ছি।”

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম সরদারও আধুনিক পদ্ধতিতে মাটির পণ্য তৈরির বিষয়টি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তাঁর চোখে, হাতে গড়া পুরোনো মৃৎশিল্পের সঙ্গে যন্ত্রের সংযোগ পণ্যের সৌন্দর্য ও উৎপাদনক্ষমতা বাড়িয়েছে।

“মাটির থালা-বাটি বানাতেও যে মেশিন হয়, এটা কল্পনাও করিনি। পাল বংশের লোকজন আগে হাতে তৈরি করত। এখন মেশিনে আরও সুন্দর হচ্ছে।”

চুল্লির আগুনে শেষ রূপ

কারখানার আঙিনায় মাটি ও ইটের তৈরি বড় গোলাকার চুল্লি রয়েছে। সেখানে শুকনো পণ্য সাজিয়ে পরদিন সকালে প্রথমে হালকা আগুন দেওয়া হয়। কারিগরদের কাছে এই প্রাথমিক আগুনের নাম ‘তাওনা’। এরপর ধাপে ধাপে তাপমাত্রা বাড়ানো হয়। একটি চালানে পণ্য পোড়াতে সাধারণত ৯ থেকে ১২ ঘণ্টা সময় লাগে।

কারখানাটিতে নারীরাও কাজ করছেন। এক নারী শ্রমিক জানান, তাঁদের অনেকের মাসিক আয় প্রায় ছয় হাজার টাকা। এই অর্থ সংসারের ব্যয় মেটাতে সহায়তা করে। ফলে মৃৎশিল্পের পুনরুজ্জীবন কেবল ঐতিহ্য ধরে রাখার বিষয় নয়, স্থানীয় পরিবারের আয়ের সুযোগ তৈরির সঙ্গেও যুক্ত।

বাজারে বাড়ছে আগ্রহ

সাতক্ষীরা শহর থেকে পণ্য দেখতে আসা আহসান রাজীবের মতে, দেশভাগের আগে কলকাতার বাজারেও সাতক্ষীরার মাটির পণ্যের পরিচিতি ছিল। পরে সেই বাজারের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। এখন ঘর সাজানো ও উপহার হিসেবে মাটির তৈরি সামগ্রীর প্রতি মানুষের আগ্রহ আবার বাড়ছে।

“শুনেছি দেশভাগের আগে কলকাতার বাজারে সাতক্ষীরার মাটির পণ্যের পরিচিতি ছিল। পরে সেই বাজার হারিয়ে যায়। এখন মানুষের আগ্রহ আবার বাড়ছে। মাটির এসব পণ্য ঘর সাজানো ও উপহার দেওয়ার জন্যও সুন্দর। মাটির জিনিসপত্রের প্রতি আমার আলাদা আকর্ষণ আছে, এখান থেকেই কিনে নিই।”

কারখানার সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা চন্দ্র শেখর দাশ বলেন, আধুনিক বাজারের চাহিদার সঙ্গে উৎপাদন ও বিপণনের সমন্বয় না হওয়ায় পাল সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী কাজটি সংকটে পড়েছিল। বর্তমানে যন্ত্র ও ছাঁচ ব্যবহার করে নানা ধরনের পণ্য তৈরি হচ্ছে; দেশের বিভিন্ন স্থানে তা পাঠানো হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বিদেশেও যাচ্ছে। চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে, কখনো কখনো অর্ডার অনুযায়ী সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

উন্নয়ন প্রচেষ্টার পরিচালক শেখ ইয়াকুব আলী জানান, ২০২১ সালে বিশ্বব্যাংকের একটি প্রকল্পের সহায়তায় কার্যক্রম শুরু হয়। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও কাজ অব্যাহত আছে। সাতক্ষীরা, খুলনা ও যশোরের একাংশের প্রায় ৬০০ পালকে সংগঠিত করে আধুনিক পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাল সম্প্রদায়ের বাইরে অন্য সম্প্রদায়ের মানুষও এখন এ কাজে যুক্ত হয়েছেন। পণ্য বিক্রির আয় ও লভ্যাংশ থেকেই শ্রমিকদের মজুরি দেওয়া হচ্ছে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ মাঝিয়াড়ার কারখানাটি পরিদর্শন করেছেন। তাঁর মতে, হারিয়ে যেতে বসা এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে কারিগররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। কাদামাটি থেকে নান্দনিক তৈজসপত্র তৈরির এই উদ্যোগে প্রয়োজন হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার কথাও তিনি জানিয়েছেন।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ম ট র পণ য ন ন?

ম ট র পণ য ন ন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ম ট র পণ য ন ন matter?

ম ট র পণ য ন ন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.