মাগুরায় শিশুধর্ষণ–হত্যায় বোনের শ্বশুর হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল
মাগুরার শিশুধর্ষণ-হত্যা মামলায় হাইকোর্ট বহাল রাখলেন মৃত্যুদণ্ড
Banglaprabah.com – ম গ র য় শ শ ধর - আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ করে হত্যাচেষ্টার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হিটু শেখের শাস্তি আরও কয়েক বছর দীর্ঘিত হলো। হাইকোর্টের একটি বিশেষ বেঞ্চ শনিবার আসামির ডেথ রেফারেন্স অনুমোদন করে, তাঁর আপিল খারিজ ও জেল আপিল নিষ্পত্তি করে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারpতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রাইয়ত দেন।
এই মামলা মাগুরা জেলায় গত বছর থেকেই ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল। শিশুটির বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েই সে ধর্ষণের শিকার হয়। ঘটনার সময় শিশুটির বোন রান্নাঘরে ছিলেন বলে আদালত নথিতে উল্লেখ আছে। এই ঘটনার পর থেকেই মাগুরা জুড়ে নারী ও শিশু নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়, আর এই মামলা দেশের আইনজগতেও বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও শিশুটির মৃত্যু
গত বছরের মার্চের শুরুর দিকে মাগুরার ওই শিশুটি বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যায়। ৬ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। সঙ্গে সঙ্গে মাগুরার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয় শিশুটিকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাত দিন কাটানোর পর ১৩ মার্চ তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু ঘটে।
শিশুটির মা ৮ মার্চ মাগুরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলাউদ্দিন, যিনি গত বছরের ১৩ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
বিচারিক আদালতের রাইয়ত ও ডেথ রেফারেন্স
গত বছরের ১৭ এপ্রিল মামলাটি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়। ২০ এপ্রিল অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয় এবং ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ঘটনার দিন থেকে গণনা করলে মাত্র ৭৩ দিনের মাথায়ই বিচারিক আদালত রাইয়ত ঘোষণা করেন।
গত বছরের ১৭ মে মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই রাইয়তে বাকি তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। এরপর ২১ মে বিচারিক আদালতের রাইয়তসহ যাবতীয় নথি হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পৌঁছায় এবং নম্বরভুক্ত হয়।
আপিল ও বিশেষ বেঞ্চের গঠন
বিচারিক আদালতের রাইয়তের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৫ জুন হাইকোর্টে আপিল করেন হিটু শেখ। এই আপিলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে শুনানি নিয়ে গত বছরের ১ জুলাই হাইকোর্ট আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। পাশাপাশি রাইয়তে আরোপিত অর্থদণ্ড স্থগিত করা হয়।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও বিবিধ বিষয়ে হাইকোর্টে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য গত ১০ জুন প্রধান বিচারপতি সুনির্দিষ্ট বেঞ্চ গঠন করেন। এই বেঞ্চ কার্যক্রম শুরু করে গত ১৪ জুন থেকে। মাগুরার এই মামলার শুনানি শুরু হয় ১১ আগস্ট, রাষ্ট্রপক্ষের পেপারবুক উপস্থাপনের মাধ্যমে। এর ধারাবাহিকতায় ২৩ ও ২৪ আগস্টও শুনানি হয়। তিন দিনের শুনানির পর ২৫ আগস্ট রাইয়তের জন্য দিন ধার্য করা হয়।
আদালতের উপস্থিতি ও রাইয়তের তাৎপর্য
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক ও সৈয়দ ইজাজ করিম। আসামিপক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান শুনানি করেন।
হাইকোর্টের এই রাইয়ত দেশের নারী ও শিশু নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকায় হিটু শেখ এখন রাষ্ট্রপক্ষের কাছে আছেন এবং তাঁর সামনে এখন শুধুই রাষ্ট্রপতির ক্ষমা বা সুপ্রিম কোর্টে আপিলের পথ থাকতে পারে। মাগুরার ওই শিশুটির পরিবারের জন্য এই রাইয়ত একটি দীর্ঘ বিচারিক যাত্রার সমাপ্তি, যদিও শিশুটির জীবন ফিরে আসেনি।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ম গ র য় শ শ ধর?ম গ র য় শ শ ধর is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ম গ র য় শ শ ধর matter?ম গ র য় শ শ ধর matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.