Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

ব্যাটসম্যানদেরই জেতানো উচিত ছিল, বলছেন তাসকিন

Published October 18, 2026 · Updated October 18, 2026 · By Jessica Brown - banglaprabah.com

Foto : Jessica Brown - banglaprabah.com

ব্যাটিং ব্যর্থতায় বড় হারের পর আত্মসমালোচনায় তাসকিন

Banglaprabah.com – ব য টসম য নদ রই জ - আবুধাবিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৭২ রানের লক্ষ্য পেয়েও বাংলাদেশ থেমেছে ১৭২ রানে। ৯৯ রানের এই হারের পর দলের ব্যাটিং বিভাগকেই প্রধান দায়ী করেছেন তাসকিন আহমেদ। তাঁর বিশ্বাস, উইকেট কিংবা প্রতিপক্ষের বোলিং এমন ছিল না যে এই লক্ষ্য ধরা সম্ভব ছিল না। বরং পরিস্থিতি সামলে একটি কার্যকর জুটি গড়তে পারলেই ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারত।

বাংলাদেশের হয়ে ম্যাচের শুরুটা ভালো করেছিলেন তাসকিন নিজেই। জিম্বাবুয়ের ইনিংসের প্রথম তিন উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলেন ডানহাতি এই পেসার। ২৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর পরও অবশ্য জিম্বাবুয়ে ঘুরে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভার খেলে তারা বাংলাদেশের সামনে ২৭২ রানের লক্ষ্য দেয়।

জবাবে বাংলাদেশের শুরু ছিল মোটামুটি আশাব্যঞ্জক। সৌম্য সরকার ও তানজিদ হাসানের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৪৭ রান। কিন্তু সেটিই হয়ে থাকে ইনিংসের সবচেয়ে বড় জুটি। পরে উইকেট পড়তে থাকায় প্রয়োজনীয় গতি ও স্থিরতা—দুটির কোনোটিই ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। নবম উইকেটে তাসকিন ও রিশাদ হোসেন ২৬ বলে ৩২ রান যোগ করলেও তখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেক দূরে চলে গেছে।

লক্ষ্যটি নাগালের মধ্যেই ছিল

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তাসকিন বলেন, পিচে বোলারদের জন্য বাড়তি সহায়তা ছিল না। বাংলাদেশি বোলারদেরও লাইন-লেংথে সামান্য ভুল হলেই রান হজম করতে হয়েছে। সেই বাস্তবতায় জিম্বাবুয়ের সংগ্রহকে অসম্ভব কোনো লক্ষ্য মনে করছেন না তিনি।

“সত্যি বলতে, আজকে যেরকম পিচ ছিল, আমরাও তো বল করেছি, একটু এদিক-ওদিক হলেই কিন্তু পানিশড হচ্ছিলাম। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে অন্তত ২৭০ অবশ্যই তাড়া করার মতো ছিল। ওদের কন্ডিশনে ওরা অস্ট্রেলিয়াকেও কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে নিয়েছে। কিন্তু এই কন্ডিশনে আমাদের আসলে তাড়া করা উচিত ছিল। আমরা আসলেই ভালো খেলিনি।”

তাসকিনের বক্তব্যে স্পষ্ট, প্রতিপক্ষকে ছোট করে দেখার সুযোগ ছিল না। নিজেদের কন্ডিশনে জিম্বাবুয়ে যে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে, সেটিও তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন। তবে ম্যাচের উইকেট ও লক্ষ্য বিবেচনায় বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব ছিল অনেক বেশি। শুরুতে রান পাওয়ার পর সেটি বড় ইনিংস কিংবা দীর্ঘ জুটিতে রূপ দিতে না পারাই দলকে চাপের মধ্যে ঠেলে দেয়।

এক দিনের ম্যাচে মাঝের ওভারগুলোতে জুটি গড়া লক্ষ্য তাড়ার অন্যতম ভিত্তি। একটি প্রান্তে উইকেট পড়ে গেলে অন্য প্রান্তে থাকা ব্যাটসম্যানের কাজ শুধু আক্রমণ নয়, ইনিংসকে স্থির করাও। বাংলাদেশের ইনিংসে সেই স্থিরতার অভাব ছিল প্রকট। ফলে প্রয়োজনীয় রানরেট সামলানোর আগেই ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যায়।

জুটির অভাবই বড় আক্ষেপ

তাসকিন মনে করেন, অন্তত একটি শক্তিশালী জুটি তৈরি হলে বাংলাদেশের লড়াই অনেক দূর পর্যন্ত গড়াত। টপ অর্ডার থেকে মিডল অর্ডার—কেউই দীর্ঘ সময় উইকেটে থাকতে পারেননি। শেষের দিকে নবম উইকেটের ৩২ রান ইনিংসের দ্বিতীয় সেরা জুটি হওয়াটাই ব্যাটিং ব্যর্থতার গভীরতা তুলে ধরে।

“দুর্ভাগ্যবশত আমরা একটাও জুটি গড়তে পারিনি। একটা জুটি হলেই খেলাটা বের হয়ে যেত। আমাদের ব্যাটিংয়ে প্রায়ই ভুল করা হয়। বোলিংয়ে তাও তো একটা ধারাবাহিকতা আছে। আসলে ব্যাটসম্যানদের (আজ) জেতানো উচিত ছিল, কিন্তু পারে নাই।”

বোলিং নিয়ে তাসকিনের মন্তব্যে দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা উঠে এসেছে। বোলিং বিভাগ নিয়মিতভাবে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে সক্ষম হলেও ব্যাটিংয়ে সেই চাপকে ম্যাচ জেতার অবস্থানে নেওয়া যাচ্ছে না সব সময়। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শুরুতে তিন উইকেট নেওয়ার পর প্রতিপক্ষকে বড় স্কোরে যেতে না দেওয়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু তারা ৫০ ওভার ব্যাট করে প্রতিযোগিতামূলক সংগ্রহ গড়ে। এরপর ব্যাটসম্যানদের সামনে ছিল রান তোলার দায়িত্ব, যেখানে দল সফল হয়নি।

চাপ সামলানোই এখন প্রধান পরীক্ষা

বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে চাপের মুহূর্তে দ্রুত ভেঙে পড়ার বিষয়টি নতুন নয়—তাসকিনও সেটি এড়িয়ে যাননি। তবে তিনি ব্যাটসম্যানদের সামর্থ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেননি। তাঁর ধারণা, মূল ঘাটতি ম্যাচের অবস্থান বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে। স্কিল থাকার পরও পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী খেলা না গেলে বড় ম্যাচে ক্ষতি বাড়ে।

“ম্যাচ পরিস্থিতি বুঝতে পারার ঘাটতিটা একটু বেশি। কারণ স্কিল কিন্তু সবার আছে। আপনারা যাঁরা ক্রিকেট খেলা দেখেন, প্রতিটি ব্যাটসম্যানই কিন্তু প্রমাণ করেছে, তারা ভালো ব্যাট করতে পারে। মাঝে মাঝে আমরা দল হিসেবে দেখবেন, চাপে পড়লে খুব দ্রুত ভেঙে পড়ি। এই জিনিসটাই আমাদের আসলে বের হয়ে আসতে হবে। বড় দল হতে চাইলে যেকোনোভাবে বের হয়ে আসতে হবে। আমি শিওর, এটা নিয়ে আমরা সবাই মিলে কাজ করছি, কীভাবে দ্রুত ঠিক করা যায়।”

এই বক্তব্যের গুরুত্ব কেবল একটি ম্যাচের হারেই সীমিত নয়। বড় দল হওয়ার পথে ধারাবাহিকতা, চাপের সময়ে শান্ত থাকা এবং ইনিংস গঠনের দক্ষতা সমান জরুরি। প্রতিটি ব্যাটসম্যান আলাদাভাবে সক্ষম হলেও দল হিসেবে সেই সক্ষমতার প্রতিফলন না ঘটলে কঠিন লক্ষ্য তাড়া করা সম্ভব হয় না।

বাংলাদেশের সামনে এখনো একটি ম্যাচ আছে। সেটিতে ভালো ফল করলে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ফেরার সুযোগ থাকবে। তাই পরের ম্যাচটি শুধু পয়েন্ট বা ফলের জন্য নয়, আত্মবিশ্বাস পুনর্গঠনেরও একটি পরীক্ষা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারের পর দলকে দ্রুত ভুলগুলো চিহ্নিত করতে হবে—বিশেষ করে উইকেট হারানোর পর কীভাবে ইনিংস পুনর্গঠন করা যায়, সেটি নিয়ে।

তাসকিনও শেষ ম্যাচকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

“এখনো একটা ম্যাচ বাকি আছে। আমরা চাইব যে ভালোভাবে লড়াই করে ফিরে এসে যেন ফাইনাল খেলতে পারি।”

বোলিংয়ে শুরুর চাপ তৈরি করেও জয় না পাওয়া বাংলাদেশের জন্য হতাশার। কিন্তু সেই হতাশা কাটিয়ে উঠতে হলে ব্যাটিংকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। বড় জুটি, সঠিক সিদ্ধান্ত এবং চাপের মধ্যে ধৈর্য—শেষ ম্যাচে ফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখার জন্য এই তিনটি বিষয়ই হয়ে উঠবে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ব য টসম য নদ রই জ?

ব য টসম য নদ রই জ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ব য টসম য নদ রই জ matter?

ব য টসম য নদ রই জ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.