Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

ব্যাংকিং খাত পুনরুদ্ধার প্রকল্প কতটা কঠোর হবে

Published August 10, 2026 · Updated August 10, 2026 · By James Jackson - banglaprabah.com

Foto : James Jackson - banglaprabah.com

ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে কঠোর পদক্ষেপের আশা

Banglaprabah.com – ব য ক খ ত প নর - দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকিং খাত নিয়ে চিন্তাশীল ব্যক্তিদের মধ্যে যে উদ্বেগ ও চাওয়া-চাওয়ি চলছিল, তার অনেকগুলোই পূরণ হওয়ার পথে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের দেশে খেলাপি ঋণের হার এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ এবং বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ইউক্রেন বর্তমানে প্রথম স্থানে আছে। যদি ওই দেশটি যুদ্ধবিধ্বস্ত না হতো, তবে প্রথম স্থানটি বাংলাদেশেরই হতো বলে মনে করা হয়।

২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মোট বিতরণকৃত ঋণের শতকরা ৩২.২৬ ভাগ এই খেলাপি ঋণ। প্রকৃত শ্রেণীকরণ করলে এই হার আরও বেশি হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। ডিসেম্বর ২০২৫-এর শেষের হিসাবে এই পরিমাণ ছিল সাড়ে পাঁচ লাখ কোটি টাকা। ঘোষিত খেলাপি ঋণ পাঁচ লাখ পাঁচ হাজার কোটি, পুনঃতফসিল করা দুই লাখ ছয় হাজার কোটি, উচ্চ আদালতের রায়ে স্থগিত খেলাপি এক লাখ আট হাজার কোটি এবং অবলোপন করা আশি হাজার কোটি টাকা মিলিয়ে মোট উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন দুর্দশাগ্রস্ত ঋণের পরিমাণ দশ লাখ নব্বই হাজার কোটি টাকা, যা মোট বকেয়া ঋণের প্রায় ষাট ভাগ।

ইউরোপের সাথে তুলনা ও ইউটিপি ঋণের ধারণা

বিশ্বের অন্য কোনো দেশে উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন দুর্দশাগ্রস্ত ঋণের ধারণা কিংবা এ রকম সবল উপস্থিতি আছে কি না তা স্পষ্ট নয়। ইতালিসহ ইউরোপের দেশগুলোতে একধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ আছে, যাকে বলা হয় ইউটিপি (আনলাইকলি টু পে), অর্থাৎ আদায় হওয়ার সম্ভাবনা কম, এমন ঋণ। ধরে নেওয়া হয় এ ধরনের খেলাপি ঋণ আদায়যোগ্য, তাই এসব গ্রহীতার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে ব্যাংক। ইতালির মোট মেয়াদোত্তীর্ণ ও খেলাপি ঋণের প্রায় ৫৪ ভাগই ইউটিপি শ্রেণির।

এ ধরনের ঋণকে আমাদের আর্লি অ্যালার্ট (অগ্রিম সতর্কতা) শ্রেণির ঋণের সঙ্গে তুলনা করা যায়। এসব ঋণকে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করলে ব্যাংকগুলোকে মূলধনসংকটে পড়তে হয় বলে এগুলোকে ইউটিপি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক খেলাপি ঋণকে তিন ভাগে ভাগ করে দেখায়: মেয়াদোত্তীর্ণ, ইউটিপি এবং মন্দ ঋণ। ইউটিপি ঋণ হিসাবের কিছু লক্ষণ চিহ্নিত করা হয়েছে: গ্রাহকের পরিশোধের ধরন বদলে যাওয়া এবং ঘন ঘন কিস্তি খেলাপ, ঋণ পরিশোধের তাগাদার জবাব না দেওয়া, পরিশোধের অসমর্থতার জন্য নানা অজুহাত হাজির করা, পরিশোধের সময় বাড়াবার ক্রমাগত অনুরোধ, গণমাধ্যমের বিরূপ সংবাদ ইত্যাদি। এই লক্ষণগুলোর সঙ্গে আমাদের খেলাপিদের আচরণের বেশ মিল দেখা যায়।

আন্তর্জাতিক তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান

আমাদের দেশে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য একমাত্র ব্যাংকের ওপরই নির্ভরশীল। অথচ দীর্ঘমেয়াদি শিল্পঋণের জন্য তাদের যাওয়া উচিত বন্ড বাজারে কিংবা পুঁজিবাজারে। তাই এক হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণের জন্য ব্যাংকঋণের পরিবর্তে বন্ড ইস্যু করার মতো পদক্ষেপ সরকারের বিবেচনায় আছে বলে জানা যায়।

যাহোক, আমাদের পরিস্থিতির সঙ্গে ইউরোপের তুলনা করা যায় না। এমনকি তুলনা করা যায় না আমাদের কাছাকাছি অর্থনীতির দেশগুলোর সঙ্গেও। ১৯৯৯ সালে ভারতের খেলাপি ঋণের হার ছিল ১৪.৭ শতাংশ, ২০২৫ সালে যা নেমে এসেছে ২ শতাংশের ঘরে। শ্রীলঙ্কার এই হার ১১.৯ শতাংশ, নেপালে ৫.৬ শতাংশ। এমনকি নানা সমস্যা কণ্টকিত আমাদের হালের মিত্রদেশ পাকিস্তানেও এই হার ৫.৮ শতাংশ, ২০১১ সালে যা ছিল ১৬.৭ শতাংশ। দেশটির ব্যাংকগুলোর গড় মূলধন পর্যাপ্ততার হার ২০.৮ শতাংশ, যা স্থানীয় বিধির ন্যূনতম হারের চেয়ে বেশি। লজ্জার বিষয়, বাংলাদেশে এই হার -২.৬৪ শতাংশ, অর্থাৎ শূন্যের চেয়ে কম। আর একটু বাইরের দিকে দৃষ্টি দিলে, তৈরি পোশাক রপ্তানিতে আমাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনামেও খেলাপি ঋণের হার ৫ শতাংশের নিচে।

ব্যাংকিং সংস্কারের দাবি ও প্রস্তাবনা

এই হতাশাজনক চিত্রের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে জেনে আশার একটা ক্ষীণ আলোর আভাস দেখা যাচ্ছে। আমাদের দীর্ঘদিনের কয়েকটি দাবি ছিল, যেমন খেলাপি গ্রহীতাদের ছবিসহ নামের তালিকা প্রকাশ করে প্রচার ও প্রদর্শন করার ব্যবস্থা করা, খেলাপি ঘোষণা না করার জন্য রিটের বেলায় অনাদায়ী ঋণের একটা নির্দিষ্ট অংশ জমা দেওয়ার বিধান করা, পুরো ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা এবং ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পুঁজিবাজার ও বন্ডের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহের বিধান যুক্ত করা ইত্যাদি।

তবে খেলাপিদের তালিকা প্রকাশের সময় ছবি ও নামের সাইজ উল্লেখ করে দিতে হবে, তা না হলে একটা স্ট্যাম্প সাইজের ছবি এবং ১০ পয়েন্টের টাইপে নাম প্রকাশ করে দিলে সেঁটে দিলে আইন মানা হবে, কিন্তু উদ্দেশ্য সফল হবে না। বর্তমানে নগদ ঋণ নেওয়ার সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেওয়া আছে ঋণদাতা ব্যাংকের মূলধনের ১৫ শতাংশ। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণকারী বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এভাবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঋণ বের করে নিতে পারে। এই প্রবণতা রোধ করার জন্য ভারতে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ পরিমাণ ঋণ গ্রহণের সীমা বেঁধে দিয়ে চালু করেছিল ম্যাক্সিমাম পারমিসিবল ব্যাংক ফাইন্যান্স (এমপিবিএফ)। এই হিসাব করা হতো বিভিন্ন ব্যাংক থেকে সেই প্রতিষ্ঠানের গৃহীত মোট ঋণকে বিবেচনায় এনে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ব য ক খ ত প নর?

ব য ক খ ত প নর is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ব য ক খ ত প নর matter?

ব য ক খ ত প নর matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.