চার ভাইয়ের মৃত্যুর খবর দুই দিন পর মা পেয়েছেন
ব চ থ ক সহ দর পড় – ১৩ মে মধ্যপ্রাচ্যের ওমানে একটি গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার হয় চার ভাইয়ের মরদেহ। তাঁদের মা খদিজা বেগম আগে পর্যন্ত সেই খবর জানতেন না। আজ বুধবার সকালে মরদেহ তাঁদের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সেখানে কফিনবন্দী মরদেহগুলো দেখে মা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন।
গতকাল রাত নয়টার দিকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কফিনবন্দী মরদেহগুলো পৌঁছে। এর আগে চার ভাইয়ের মৃত্যু হলেও তাঁদের মাকে জানানো হয়নি। বাড়িতে নিয়ে আসার পর মা বন্ধরাজপাড়ায় তাঁদের কফিন দেখে কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন।
লালানগরে গিয়ে চার ভাইয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় বেলা ১১টার দিকে। সেখানে ইমামতি করেন বেঁচে থাকা একমাত্র ভাই হাফেজ মুহাম্মদ এনাম। জানাজায় কয়েক হাজার মানুষ উপস্থিত হয়। সামাজিক কবরস্থানে চার ভাই পাশাপাশি শায়িত করা হয়।
স্বজনের সূত্রে জানা গেছে
পরিবার সূত্রে জানা গেছে ভাইদের মধ্যে দুজনের গত শুক্রবার দেশে ফেরার কথা ছিল। তাই চার ভাই একটি গাড়ি নিয়ে বিয়ের কেনাকাটার জন্য বের হয়েছিলেন। এর মধ্যে গাড়িতে তাঁদের মৃত্যু হয়। রয়্যাল ওমান পুলিশের ধারণা গাড়ির এসি থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে শ্বাস গ্রহণের ফলে মৃত্যু হয়েছে।
‘ঘরে কারও কথা বলার মতো অবস্থাই নেই। একসঙ্গে চার ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। তাঁদের মাকে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো ভাষাও কেউ খুঁজে পাচ্ছে না।’ বলেন সাফিয়া বেগম, এলাকার একজন নারী।
গত বুধবার চার ভাইয়ের মৃত্যু হলেও মা তাঁদের বাড়িতে এত দিন জানানো হয়নি। আজ সকালে তাঁদের কফিন দোতলা বাড়ির নিচতলায় রেখে মা কে জানানো হয়। এরপর মা দোতলায় তাঁর কক্ষ থেকে নিচে নেমে ছেলেদের মরদেহ দেখতে পান।
চট্টগ্রাম সমিতি ওমানের সভাপতি মো. ইয়াসিন চৌধুরী জানান, ওই দিন সন্ধ্যায় চার ভাই ওমানের বারকা এলাকায় ছিলেন। পরে সেখান থেকে মুলাদ্দাহ এলাকায় রওনা দেন। রাত আটটার পর একজন স্বজন ভয়েস মেসেজ দিয়ে জানান যে তাঁরা খুবই অসুস্থ। গাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। লোকেশনও পাঠান হয়। পুলিশ গাড়িটি দেখে চার ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করে।
