Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

বুলডোজারের পর কৃত্রিম দাবানল—দক্ষিণ লেবাননে যেভাবে বসতি ও ইতিহাস মুছে দিচ্ছে ইসরায়েল

Published August 13, 2026 · Updated August 13, 2026 · By Elizabeth Smith - banglaprabah.com

Foto : Elizabeth Smith - banglaprabah.com

ব লড জ র র পর কৃত্রিম দাবানল—দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা

Banglaprabah.com – ব লড জ র র পর ক - দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত দাবানল সৃষ্টির তীব্র অভিযোগ উঠেছে। ব লড জ র র পর এই অঞ্চলে কৃত্রিম আগুন লাগানোর ঘটনাগুলো দেশটির দীর্ঘদিনের পরিবেশ ধ্বংসের অভিসন্ধির অংশ বলে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো দাবি করছে। স্থানীয় বাসিন্দা, জরুরি সেবা বিভাগ এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন।

খিয়ামে ফ্লেয়ার নিক্ষেপ ও ড্রোন হামলা

গত মঙ্গলবার দক্ষিণ লেবাননের খিয়াম এলাকার বাইরের একটি বনাঞ্চলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ফ্লেয়ার বা অগ্নিগোলক নিক্ষেপ করলে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। লেবাননের নাবাতিয়েহ অঞ্চলের সিভিল ডিফেন্সের প্রধান হুসেইন ফাকিহ জানান, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা যখন সেই আগুন নেভানোর চেষ্টা করছিলেন, তখন তাঁদের খুব কাছে একটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখান থেকে পিছু হটতে বাধ্য হন।

আমাদের এখনকার বেশির ভাগ অভিযানই আগুন নেভানোর কাজের সঙ্গে যুক্ত। বিশাল এলাকার বন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমার কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে সীমান্ত বা যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি এলাকাগুলোর ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ জমি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

যুদ্ধবিরতির পর ক্রমাগত আগুন

গত ১৭ জুন লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর দুই পক্ষের লড়াই অনেকটাই কমে এসেছে। তবে প্রথম সারির উদ্ধারকারীদের দেওয়া সাক্ষ্য ও ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী, এ দুই মাসের মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননজুড়ে, বিশেষ করে জলপাইবাগান ও কৃষিজমিতে ক্রমাগত আগুন লাগিয়ে চলেছে।

দাবানল সৃষ্টির এসব ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য জানতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। হুসেইন ফাকিহ বলেন, যুদ্ধবিরতির পরপরই তারা এ কাজ শুরু করেছে। এখন প্রতিদিন সেখানে অগ্নিবোমা ফেলা হচ্ছে। ছোট ছোট ড্রোন এসে ওপর থেকে দাহ্য পদার্থ ছুঁড়াচ্ছে, বনাঞ্চল লক্ষ্য করে সাদা ফসফরাস শেল নিক্ষেপ করা হচ্ছে। এমনকি দিনের বেলাতেও তারা ইলুমিনেশন ফ্লেয়ার বা আলো উৎপাদনকারী অগ্নিগোলক ফেলছে, যাতে গাছপালা সহজে আগুন ধরে যায়।

কাফরশুবা ও জেজ্জিনে ভয়াবহ দাবানল

গত শুক্রবার ইসরায়েলি গোলাগুলি ঘন বনাঞ্চল পরিবেষ্টিত দুটি বড় এলাকায় ভয়াবহ দাবানল সৃষ্টি হয়। এর একটি সীমান্তসংলগ্ন কাফরশুবা এলাকার এবং অন্যটি জেজ্জিন ও পশ্চিম বেকা উপত্যকার মধ্যবর্তী অঞ্চলে। কাফরশুবা এলাকার সিভিল ডিফেন্স স্টেশন প্রধান সমীর হারদান বলেন, গত শুক্রবার বিকেলে একটি বনাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন থেকে গোলাবারুদ ফেলার পর আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সারা রাত লড়াই করে গত শনিবার সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

সমীর হারদান আরও জানান, এরপর গত রোববার আরেকটি ড্রোন এসে ওই এলাকাকে নতুন করে আগুন লাগিয়ে দেয়। এমন পরিস্থিতিতে আগুন নেভানোর কাজও কঠিন হয়ে পড়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের যেকোনো অভিযানের আগে লেবানন সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করতে হয়। সেনাবাহিনী এ অনুরোধ ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীসহ গঠিত একটি 'ডি-কনফ্লিকশন' বা সংঘাত নিরসন কমিটির কাছে পাঠায়। সেখান থেকে অনুমতি পাওয়ার পরই শুধু ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করতে পারেন।

পরিবেশবাদীদের মতে 'ইকোসাইড'

লেবাননের বিশাল বনাঞ্চলজুড়ে আগুন জ্বলতে থাকলেও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের মাত্র দুটি সুনির্দিষ্ট জায়গায় আগুন নেভানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। পরিবেশবাদী সংগঠন ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এ আগুন লেবাননের পরিবেশের ওপর ইসরায়েলি আক্রমণের একটি ধারাবাহিক রূপ। এটি দেশটির বনাঞ্চল এবং এর ওপর নির্ভরশীল জীববৈচিত্র্যকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

এগুলো বহু বছরের পুরোনো প্রাচীন বন। সেখানে ওকগাছের পাশাপাশি মূলত বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনশীল পাইনগাছের প্রাধান্য রয়েছে। এই বনাঞ্চল পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়া এ বিশাল এলাকাটি পরিযায়ী পাখিদের যাতায়াত ও বিশ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

লেবাননের পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক সংগঠন গ্রিন সাউদার্নার্সের প্রতিষ্ঠাতা হিশাম ইউনেস বলেন, এ ইসরায়েলি হামলাকে 'ইকোসাইড' বা 'পরিবেশগত হত্যা' হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, গোলাবারুদ, আগুন ও রাসায়নিক ব্যবহার করে দক্ষিণ লেবাননের বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেম ধ্বংস করার যে পদ্ধতিগত সামরিক ছক ইসরায়েলের রয়েছে, এটি তারই অংশ। এটি শুধু কোনো একটি একক আগুন বা হামলার ঘটনা নয়, বরং ধ্বংসযজ্ঞের এমন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যা ধীরে ধীরে পরিবেশকে ধ্বংস করে চলেছে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

১. দক্ষিণ লেবাননে কৃত্রিম দাবানল কেন সৃষ্টি হচ্ছে? ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী যুদ্ধবিরতির পরও ড্রোন, ফ্লেয়ার এবং ফসফরাস শেল ব্যবহার করে বনাঞ্চল ও কৃষিজমিতে কৃত্রিম আগুন লাগাচ্ছে। পরিবেশবাদীদের মতে এটি 'ইকোসাইড' বা পরিবেশগত হত্যার অংশ।

২. ব লড জ র র পর দাবানল সৃষ্টির ঘটনাগুলো কতটা ব্যাপক? সীমান্ত বা যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি এলাকাগুলোর ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ জমি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাফরশুবা ও জেজ্জিনসহ একাধিক এলাকায় ভয়াবহ দাবানল হয়েছে।

৩. আগুন নেভানোর কাজে কী বাধা হচ্ছে? ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের যেকোনো অভিযানের আগে লেবানন সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করতে হয়। সেনাবাহিনী এ অনুরোধ 'ডি-কনফ্লিকশন' কমিটির কাছে পাঠায়। অনুমতি পাওয়ার পরই শুধু ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করতে পারেন।

৪. ইসরায়েলি বাহিনীর কৃত্রিম দাবানল সৃষ্টির অভিযোগের কোনো সাড়া পাওয়া গেছে? দাবানল সৃষ্টির এসব ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য জানতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

৫. দক্ষিণ লেবাননের বনাঞ্চল কী ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে? বহু বছরের পুরোনো প্রাচীন বনে ওকগাছ ও পাইনগাছের প্রাধান্য রয়েছে। এই বনাঞ্চল পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়া এ বিশাল এলাকাটি পরিযায়ী পাখিদের যাতায়াত ও বিশ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ব লড জ র র পর ক?

ব লড জ র র পর ক is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ব লড জ র র পর ক matter?

ব লড জ র র পর ক matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.