বিদ্যালয়ের নারকেলগাছ থেকে পড়ে গুরুতর আহত শিক্ষার্থী, বরিশালে চলছে চিকিৎসা
Banglaprabah.com – ব দ য লয় র ন রক – বরগুনা সদর উপজেলার দক্ষিণ মনসাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি নারকেলগাছ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী দুর্জয় রায়। তার মাথা ও মুখমণ্ডলে আঘাত লেগেছে, একটি পা ভেঙে গেছে এবং চোখেও জটিলতা দেখা দিয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। বর্তমানে সে বরিশালের একটি বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন।
ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে। পরিবার জানিয়েছে, আহত দুর্জয়ের পায়ে রোববার সন্ধ্যায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সহকারী শিক্ষক আবদুল জব্বার মিয়া দুর্জয়কে ডাব পাড়ার জন্য গাছে উঠতে বলেছিলেন। অভিযোগটি ঘিরে ক্ষুব্ধ কয়েকজন অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের সাময়িকভাবে বিদ্যালয়ে পাঠানো বন্ধ রেখেছেন।
দ্বিতীয় পালার পাঠদানের সময় দুর্ঘটনা
শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় অভিভাবকদের বক্তব্য থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালের পালার ক্লাস শেষে দুপুর ১২টার দিকে দ্বিতীয় পালার পাঠদান শুরু হয়। এর কিছু সময় পর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের চিৎকার শোনা যায়। তারা জানায়, দুর্জয় নারকেলগাছ থেকে নিচে পড়ে গেছে।
দুর্ঘটনার পর সহকারী শিক্ষক আবদুল জব্বার মিয়া আহত শিশুটিকে কোলে করে বিদ্যালয়ের ভেতরে নিয়ে আসেন। সে সময় দুর্জয়ের শরীর থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। পরে দেখা যায়, পড়ে যাওয়ার আঘাতে তার একটি পা ভেঙে গেছে। দ্রুত তাকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে বরিশালের একটি বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
দুর্জয় রায় সদর উপজেলার গৌরিচন্না ইউনিয়নের ভূতমারা গ্রামের বাসিন্দা বিপুল রায়ের ছেলে। দুর্ঘটনার পর তার পরিবারের দুশ্চিন্তা বেড়েছে। শিশুটির বাবা জানান, ছেলের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা নিয়ে পরিবার উদ্বিগ্ন।
“শিক্ষকেরা আমার ছেলেকে দিয়ে ডাব পাড়তে গাছে উঠিয়েছিলেন। সেখান থেকে পড়ে গিয়ে তার পা ভেঙেছে। এখন যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। ওরা পায়ে অপারেশন হয়েছে। ওর চোখেও সমস্যা হয়েছে।”
অভিভাবকদের ক্ষোভ, উপস্থিতি কমেছে
দক্ষিণ মনসাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ৩৫৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে রোববার বিদ্যালয়ে উপস্থিতির চিত্র ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় কম। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, অর্ধেকেরও কম শিক্ষার্থী সেদিন ক্লাসে এসেছে। অনেক অভিভাবক জানিয়েছেন, ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে চান না।
ভূতমারা গ্রামের অভিভাবক দিলীপ শিকদার বলেন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে পাঠানো হয় পড়াশোনার জন্য; গাছে উঠে ডাব পাড়ার মতো কাজের জন্য নয়। তাঁর ভাষ্য, ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার হওয়া দরকার এবং অভিভাবকদের উদ্বেগ দূর না হওয়া পর্যন্ত সন্তানদের পাঠানো নিয়ে তাঁরা সিদ্ধান্তে অনড় থাকবেন।
“আমাদের এলাকার একটি ছেলেকে দিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা ডাব পাড়ানোর জন্য গাছে ওঠান, সেখান থেকে পড়ে ওই ছেলের পা ভেঙে গেছে। আমরা ছেলেমেয়েকে বিদ্যালয় শিক্ষা গ্রহণের জন্য পাঠাই। সেখানে এমন ন্যক্কারজনক আচরণ করা ঠিক হয়নি। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের ছেলেমেয়েকে ওই বিদ্যালয় পাঠাব না।”
বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শিক্ষক ও কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। পাঠদানের সময় কিংবা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হলে তার প্রভাব কেবল আহত শিক্ষার্থীর ওপরই পড়ে না; অন্য শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সমাজের মধ্যেও অনাস্থা তৈরি হতে পারে। এ ঘটনায় উপস্থিতি কমে যাওয়া সেই উদ্বেগেরই প্রতিফলন।
শিক্ষকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষক আবদুল জব্বার মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে দুর্জয়কে গাছে উঠতে বলা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসা. আসমা আক্তার ডেইজি জানান, বৃহস্পতিবার দিবা শিফটের পাঠদান শুরুর সময় সহকারী শিক্ষক আবদুল জব্বার আহত দুর্জয়কে কোলে করে নিয়ে আসেন। তখন শিশুটির নাক দিয়ে প্রচুর রক্ত পড়ছিল। তবে কোন শিক্ষক তাকে ডাব পাড়ার উদ্দেশ্যে গাছে উঠতে বলেছিলেন, তা তিনি নিশ্চিতভাবে জানেন না।
তিনি আরও জানান, আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার দায়িত্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা নিয়েছেন। ঘটনার পর রোববার বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতি অর্ধেকের নিচে নেমে আসে। এ অবস্থায় অভিভাবকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং শিশুটির চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে উঠেছে।
তদন্তের নির্দেশ
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু জাফর মো. ছালেহ জানিয়েছেন, নারকেলগাছ থেকে পড়ে শিক্ষার্থীর পা ভেঙে যাওয়ার ঘটনা তাঁর জানা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে লিখিত প্রতিবেদন দিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেখানে কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন—এসব বিষয় স্পষ্ট হওয়ার কথা।
দুর্জয়ের চিকিৎসা এখন পরিবারের প্রধান উদ্বেগ। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের পরিবেশকে আবারও নিরাপদ ও স্বাভাবিক করে তোলার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তদন্তের ফল এবং সংশ্লিষ্টদের পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন আহত শিক্ষার্থীর পরিবার, সহপাঠী এবং এলাকার অভিভাবকেরা।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ব দ য লয় র ন রক?
ব দ য লয় র ন রক is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ব দ য লয় র ন রক matter?
ব দ য লয় র ন রক matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

