Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

বিদেশে সম্পদ পাচারকারীর জব্দ ব্যাংক হিসাব থেকে কর আদায়ের উদ্যোগ

Published September 14, 2026 · Updated September 14, 2026 · By Charles Hernandez - banglaprabah.com

Foto : Charles Hernandez - banglaprabah.com

জব্দ সম্পদ থেকে শুল্ক-কর আদায়ে উচ্চপর্যায়ের কমিটি

Banglaprabah.com – ব দ শ সম পদ প চ - বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আদালত জব্দ বা ক্রোক করা ব্যাংক হিসাব থেকে সরকারের পাওনা শুল্ক ও কর আদায়ের উপায় নির্ধারণে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেলকে এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। উপসচিব আফরোজা আক্তার রিবা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পরই কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

কী কাজ করবে কমিটি

কমিটির মূল দায়িত্ব হবে বিদেশে পাচার করা সম্পদের বিপরীতে আদালতের নির্দেশে জব্দ বা ক্রোক হওয়া হিসাব থেকে সরকারের প্রাপ্য রাজস্ব আদায়ে আইনগত এবং প্রশাসনিক করণীয় নিরূপণ করা। এ ধরনের অর্থ বা সম্পদ থেকে শুল্ক ও কর কীভাবে আদায় করা সম্ভব, সে বিষয়ে বাস্তবসম্মত প্রক্রিয়া নির্ধারণের দায়িত্বও তাদের দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ তৈরি করে সরকারকে দেবে কমিটি। অর্থাৎ কেবল আইনি ব্যাখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে কোন সংস্থা কী ভূমিকা পালন করবে, কী ধরনের সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে এবং বিদ্যমান ব্যবস্থায় কোথায় করণীয় রয়েছে—এসব বিষয়ও সুপারিশে উঠে আসার সুযোগ রয়েছে।

বিদেশে অবস্থানরত বা বিদেশে জব্দ থাকা সম্পদের ক্ষেত্রে রাজস্ব আদায়ের বিষয়টি স্বাভাবিক ব্যাংক হিসাব থেকে কর আদায়ের চেয়ে ভিন্ন। এখানে আদালতের আদেশ, তদন্ত-সংক্রান্ত তথ্য, অর্থপাচার প্রতিরোধ কার্যক্রম, ব্যাংকিং নথি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সম্পদ-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া একসঙ্গে বিবেচনায় আসতে পারে। এ কারণেই আইন, রাজস্ব, আর্থিক গোয়েন্দা ও অপরাধ তদন্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটিতে কারা আছেন

অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বাধীন কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। রাজস্ব ও তদন্ত-সম্পর্কিত তথ্য সমন্বয়ে এ পদটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের মানি লন্ডারিং বিভাগের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রধান কর্মকর্তা, এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের সংগঠিত অপরাধ বিভাগের উপমহাপরিদর্শক বা ডিআইজি।

এই সদস্যদের দায়িত্বের ক্ষেত্র ভিন্ন হলেও সম্পদ পাচার, আর্থিক লেনদেন যাচাই, কর নির্ধারণ, অর্থপাচার তদন্ত এবং অপরাধ অনুসন্ধানের সঙ্গে তাঁদের কাজের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ফলে জব্দ সম্পদ থেকে সরকারের দাবি আদায়ে আইনি ও আর্থিক দিকগুলো একসঙ্গে পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হবে।

জব্দ ও ক্রোকের অর্থ কী

আদালতের নির্দেশে কোনো ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হলে সাধারণত ওই হিসাবের অর্থ লেনদেন বা স্থানান্তর সীমিত হয়ে যায়। আর ক্রোকের ক্ষেত্রে সম্পদ বা হিসাবকে আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় এনে তার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই দুই ধরনের ব্যবস্থাই তদন্ত, মামলা বা রাষ্ট্রের দাবির সঙ্গে যুক্ত সম্পদ সুরক্ষায় ব্যবহৃত হতে পারে।

তবে জব্দ করা অর্থ থাকলেই তাৎক্ষণিকভাবে শুল্ক বা কর আদায় সম্ভব হয় না। সম্পদের মালিকানা, মামলার অবস্থা, আদালতের নির্দেশ, সরকারের দাবি এবং প্রযোজ্য আইনি প্রক্রিয়া বিবেচনা করতে হয়। নতুন কমিটির সুপারিশ এ ধরনের জটিলতা মোকাবিলায় একটি নির্দিষ্ট পথনির্দেশনা দিতে পারে।

জব্দ সম্পদের পরিমাণ

গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবার এবং ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর দেশে ও বিদেশে মোট ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ আদালতের মাধ্যমে জব্দ করা হয়েছে। গত জুলাই মাসে এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন।

শেখ হাসিনার পরিবার ও ১০ শিল্পগোষ্ঠীর সম্পদের মধ্যে দেশে জব্দ করা হয়েছে ৫৭ হাজার কোটি টাকা। বিদেশে জব্দ করা হয়েছে বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকার সম্পদ।

দেশের বাইরে থাকা জব্দ সম্পদের পরিমাণ ১৯ হাজার কোটি টাকা হওয়ায় এ অংশটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে থাকা হিসাব বা সম্পদের ওপর সরকারের রাজস্ব দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন, ব্যাংকিং প্রক্রিয়া এবং আদালত-সম্পর্কিত বিষয় বিবেচনায় আসতে পারে। কমিটির দায়িত্বের মধ্যে এসব পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা চিহ্নিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।

রাজস্ব আদায়ে সম্ভাব্য গুরুত্ব

সরকারের পাওনা শুল্ক ও কর আদায়ের প্রশ্নটি শুধু রাজস্ব সংগ্রহের বিষয় নয়; এটি জব্দ সম্পদের ব্যবস্থাপনা ও রাষ্ট্রের আর্থিক দাবির সঙ্গেও যুক্ত। জব্দ অর্থের উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কর দায় এবং আদালতের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পদক্ষেপ নিতে হলে সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।

কমিটির সুপারিশের মাধ্যমে এ ধরনের সম্পদ থেকে কর ও শুল্ক আদায়ের একটি সুস্পষ্ট কাঠামো তৈরি হলে ভবিষ্যতে একই ধরনের মামলায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর করণীয় নির্ধারণ সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ অক্ষুণ্ন রেখে রাজস্ব আদায়ের প্রশ্নে কোন পর্যায়ে কী অনুমোদন বা আইনি উদ্যোগ দরকার, তা পরিষ্কার হওয়ার সুযোগ থাকবে।

প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কমিটি তাৎক্ষণিক কার্যকারিতা পাওয়ায় জব্দ ও ক্রোক করা হিসাবের সঙ্গে যুক্ত রাজস্ব দাবিগুলো পর্যালোচনার কাজ শুরু হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। এখন তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার কী ধরনের আইনি বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে, সেটিই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ব দ শ সম পদ প চ?

ব দ শ সম পদ প চ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ব দ শ সম পদ প চ matter?

ব দ শ সম পদ প চ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.