Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

বাবার স্মৃতিতে ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ, আমার স্মৃতিতে সালিমা হাশমি

Published August 16, 2026 · Updated August 16, 2026 · By Linda Hernandez - banglaprabah.com

Foto : Linda Hernandez - banglaprabah.com

ফজল আহমেদ ফজল ও আমার স্মৃতিচারণ

Banglaprabah.com – ব ব র স ম ত ত - উর্দু সাহিত্যের অন্যতম স্তম্ভ ফজল আহমেদ ফজল (১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯১১-২০ নভেম্বর ১৯৮৪)। তাঁর কবিতার গভীরতা ও সৌন্দর্যের বিচারে ইকবালসহ শ্রেষ্ঠ উর্দু কবিদের তালিকায় তাঁর স্থান অবিচ্ছেদ্য। পাকিস্তানের শিয়ালকোটে জন্মগ্রহণকারী এই প্রতিভাবান লেখক উর্দু সাহিত্যের প্রায় সকল শাখায় বিচরণ করেছেন। তিনি সর্বভারতীয় প্রগতিশীল লেখক সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন। দুইবার নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন এবং ১৯৬২ সালে লেনিন শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। সাম্যবাদী এই কবি সাম্রাজ্যবাদ ও প্রতিক্রিয়াশীলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে জেল ও নির্বাসন বরণ করেন।

ইতালি ও করাচিতে প্রথম প্রদর্শনী

১৯৫৮ সালে ইতালির ফ্লোরেন্স শহরে আমি আমার জীবনের প্রথম একক শিল্প প্রদর্শনী আয়োজন করি। ওই দুই বছর অবস্থানকালে আমার অঙ্কিত ছবি ও ড্রয়িংগুলো সেখানে সংরক্ষিত হয়। ১৯৫৮ সালের শেষের দিকে ঢাকায় ফিরে আসি এবং কিছুদিন পর করাচিতে চলে যাই। সেখানে সাঈদ আহমেদের বাসায় এবং পরবর্তীতে আমেরিকান ফ্রেন্ডস অব দ্য মিডল ইস্টের পরিচালক স্ট্যানলি ওয়াটসনের ১১ নম্বর বোনাস রোডের বাসায় ছবি আঁকি। করাচি ও ইতালিতে অঙ্কিত ছবি নিয়ে আমার সেই প্রদর্শনী মে মাসে আমেরিকান ফ্রেন্ডস অব দ্য মিডল ইস্টের অফিসে প্রদর্শিত হয়। প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী হাবিবুর রহমান। আমার বাবা ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তাঁর একটি ভিজিটিং কার্ড মন্ত্রীর জন্য দান করেন। সেই কার্ডের মাধ্যমে আমার পরিচয় ঘটে। প্রদর্শনীতে আমার বাবাও উপস্থিত ছিলেন। আমি একটু উদ্বিগ্ন হই, যখন দেখলাম সেখানে মদ পরিবেশন করা হচ্ছে। আমার বাবা এটা কীভাবে গ্রহণ করবেন, তাই আমি ভাবছিলাম। এরপর আমি ঢাকায় ফিরে আসি।

লন্ডনে প্রথম সাক্ষাৎ

ইতালি থেকে ফিরে আমি যখন লন্ডনে অবস্থান করছিলাম, তখন জুন মাসে ফজল আহমেদ ফজলের সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয়। এক সন্ধ্যায় ওবেইদ জাইগিরদার তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় করিয়ে দেন। ওবেইদ তখন বিলেতে সিনেমাটোগ্রাফির ওপর লেখাপড়া করছে। ফজল ভাই আমাকে বললেন, তিনি লাহোর আর্ট কাউন্সিলের সেক্রেটারির পদ গ্রহণ করতে যাচ্ছেন এবং ডিসেম্বরের শেষে সেখানে আমার প্রদর্শনীর আয়োজন করবেন। আমি যেন প্রস্তুত থাকি।

লাহোরে প্রদর্শনী ও স্থায়ী বসবাস

১৯৫৯ সালে যথারীতি ডিসেম্বরের ২২ তারিখ ঢাকায় লাহোর থেকে পাঠানো ফজল ভাইয়ের টেলিগ্রাম পেলাম। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, ২৫ তারিখ ঢাকা থেকে করাচি প্লেনে এবং করাচি থেকে লাহোর ২৭ তারিখে ট্রেনের টিকিট কাটা হয়েছে। আমি যেন ঢাকার পিআইএ অফিস থেকে টিকিট সংগ্রহ করি এবং করাচির গ্লোব ট্রাভেলস থেকে ট্রেনের টিকিট নেই। আমি লাহোরে আসি ২৮ ডিসেম্বর। করাচিতে আমার যাওয়ার পেছনে কারণ ছিল আমার বেশ কিছু ছবি ওয়াটসনের বাসায় রাখা ছিল। সেগুলো সংগ্রহ করা। লাহোরের মল রোডে আর্ট কাউন্সিলে আমার প্রদর্শনী শুরু হয় জানুয়ারির ৮ তারিখে। প্রদর্শনীতে ইতালি ও করাচির ছবি ছাড়াও ঢাকায় আঁকা ছয়টি লিথোগ্রাফ ও কয়েকটি পেইন্টিং ছিল। সেই প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন পাকিস্তানের প্রবীণ শিল্পী ওস্তাদ আল্লা বক্স। তাঁর ছবির বিষয়বস্তু হতো পাঞ্জাবের গ্রামীণ জীবন। অনেকটা রিয়ালিজম ধরনের। আমার চিন্তাধারার সঙ্গে বিরাট ফারাক। তবু একজন প্রবীণ শিল্পীকে আমি শ্রদ্ধা জানালাম আমার প্রদর্শনীর উদ্বোধন দিয়ে।

সেই প্রদর্শনী পরিদর্শনে এসেছিলেন আবদুর রহমান চুকতাই। যার কাছে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর মিনিচর পেইন্টিংয়ের শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। আমার প্রদর্শনী উপলক্ষে একটি পার্টির আয়োজন করা হয়। যেখানে লাহোরে বসবাসকারী শিল্পী শাকের আলী, শেখ সফদার, মঈন নাজমি, খালেদ ইকবাল, রাহিল আকবর জাবেদ, পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের প্রধান আন্না মুলকা, প্রফেসর সফদার মীর, যিনি পাকিস্তান টাইমসে জিনো নামে লিখতেন, উর্দু প্রগতিশীল সাপ্তাহিক লাইনুন নাহারের সম্পাদক সিবতে হাসান প্রমুখ ছাড়াও ফজল আহমেদ ফজল উপস্থিত ছিলেন। আমার প্রদর্শনী শেষ হয় জানুয়ারির ১৭ তারিখে। প্রথমদিকে লোকজনের সমাগম তেমন ছিল না। তবে শেষ দুই দিন, অর্থাৎ ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি এত লোক হয়েছিল, যাকে বলা যায় একেবারে ঠাসাঠাসি অবস্থা। আমার প্রদর্শনী আরও তিন দিন বাড়িয়ে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়। প্রদর্শনী উপলক্ষে ২১ জানুয়ারি ফজল ভাই তাঁর বাসায় শিল্পী-সাহিত্যিকদের নিমন্ত্রণ করেন। সেখানে মনস্থ করলাম, আমি ঢাকায় যাব না। এই মুহূর্তে কয়েক মাস থেকে যাব। প্রদর্শিত ছবি বিক্রি করে এক হাজার টাকার মতো পেয়েছি, তাতে বেশ কয়েক মাস স্বচ্ছন্দে থাকা যাবে। তারপর কী হবে জানি না।

আমি তখন শামনাবাদে শাকের আলীর বাসায় থাকি। লাহোরে থাকাকালীন সকালের দিকে পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন আর্টসে যেতাম। সেখানে মঈন নাজমি সঙ্গ দিত। আড্ডা দিতাম বিভাগের অধ্যাপক খালেদ ইকবালের সঙ্গে। হঠাৎ একদিন ফজল ভাই আমাকে বললেন, তুমি ঢাকায় গিয়ে কী করবে? লাহোর থেকে যাও। এখানে আর্ট কাউন্সিলে সন্ধ্যাকালীন ছবি আঁকার ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা করব। আমাকে তিনি আগস্টের শেষে সেখানে খণ্ডকালীন সম্মানিত শিক্ষকের চাকরি দিলেন। আমি ১ সেপ্টেম্বর কাজে যোগ দিলাম। আমাকে ছবি আঁকার জন্য তিনি আর্ট কাউন্সিলের চিলেকোঠার একটি ছবি আঁকার ঘর দিয়েছিলেন। সেখানে আমি ছবি আঁকতাম। পরে যখন লাহোরে পাকাপাকি করে থাকার চিন্তা করলাম, তখন শাকের আলীর বাসি ছেড়ে পুঞ্চ রোডে একটি ঘর ভাড়া নিলাম। এভাবেই লাহোরে আমার দিনকাল চলছিল, নিঃসঙ্গ। একাকী। আমার ছবিতেও এই পরিবর্তন ফুটে উঠল। হামিদুর রহমান তখন করাচিতে। সে আমাকে জানাল করাচিতে আসতে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ব ব র স ম ত ত?

ব ব র স ম ত ত is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ব ব র স ম ত ত matter?

ব ব র স ম ত ত matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.