বাঘের থাবা থেকে ছেলে জিয়ারুলকে বাঁচাতে প্রাণ দিয়েছিলেন বাবা
ব ঘ র থ ব থ ক – সুন্দরবনের গহিন জঙ্গলে সেদিন এক কিশোর ছাড়া অনেক কিছু নয়, সন্তানের জীবন রক্ষা করতে মরিয়া এক বাবারও সঙ্গে বাঘ লড়াই করেছিল। কিশোর জিয়ারুল গাজীকে বাঘের মুখ থেকে ছিনিয়ে আনতে খালি হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তাঁর বাবা জিন্নাহ গাজী। দীর্ঘক্ষণ বাঘের সঙ্গে লড়াই করে ছেলেকে বাঁচাতে পারলেও শেষ পর্যন্ত নিজেকে হারিয়ে যান জিন্নাহ।
ঘটনাটি প্রায় ৩০ বছর আগে ঘটেছিল। কিন্তু সেই ভয়াল দুপুরের স্মৃতি আজও জিয়ারুল গাজীর বুকের ভেতর কাঁটার মতো বিঁধে আছে। সুন্দরবনঘেঁষা জনপদের বহু পরিবারের মতো জিয়ারুলদের পরিবারেও বাঘের আক্রমণের স্মৃতি গভীর ক্ষত হয়ে আছে। এ অঞ্চলে অনেক বনজীবী তাঁদের বাবা, ভাই, চাচা বা স্বজন বাঘের মুখে খেয়েছেন। তবু জীবিকার তাগিদে তাঁদের বারবার ফিরতে হয় সুন্দরবনে, ফিরেছেন জিয়ারুলও।
জীবনসংগ্রাম চলছে বছরের পর বছর
মাছ, কাঁকড়া আর মধু নির্ভরশীল এসব মানুষের জীবনসংগ্রাম বছরের পর বছর ধরে চলছে। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে তিন দিক কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদী দ্বারা বেষ্টিত। অন্য পাশে সুন্দরবন ঘেঁষা। দূর থেকে দেখলে মনে হয় এই ইউনিয়নটি সুন্দরবনের বুকের ভেতর ছোট্ট একটি দ্বীপ। প্রায় ৩০ বর্গকিলোমিটার আয়তনে এই এলাকায় সরকারি হিসাবে জনসংখ্যা প্রায় ৪২ হাজার। কিন্তু কাজের সংকট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দারিদ্র্যের কারণে প্রতিবছরই অনেকে এলাকা ছেড়ে চলে যান। কেউ যাচ্ছেন অন্য জেলায়।
গাবুরার চাঁদনিমোখা গ্রামে কয়েক পুরুষ ধরে বসবাস করে জিয়ারুলদের। তিনি বলেন, ‘৪৫ বছর বয়সী আমি বনজীবী হিসাবে কাজ করি। কখনো সুন্দরবনের নদীতে মাছ বা কাঁকড়া ধরি, কখনো মধু সংগ্রহ করি।’
সেদিন বাঘ ঝাঁপ দিয়ে পড়ে মৌয়ালের ওপর। কী করলেন সঙ্গীদের কথা জিয়ারুল বলেন, ‘১৯৯৬ সালে সুন্দরবনের বুড়িগোয়লিরী স্টেশন থেকে পাস কুরে কয়েক দিন আগে ছয় ব্যক্তি জঙ্গলে ঢুকেছিল। বুড়িগোয়লিরী গণে ভালো মাছ পুড়ত। আমি, ব
