Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

বলিউডে কেন বারবার ফিরে আসে দেশভাগের গল্প

Published August 14, 2026 · Updated August 14, 2026 · By Michael Martin - banglaprabah.com

Foto : Michael Martin - banglaprabah.com

১৯৪৭-এর দেশভাগের কাহিনি কেন বলিউডে বারবার ফিরে আসে

Banglaprabah.com – বল উড ক ন ব রব র - বৃহস্পতিবার সিনেমাঘরে প্রবেশ করছে 'বাটারফ্লাইজ ১৯৪৭'। এর আগে 'মা ওয়াপাস আউঙ্গা' ছবিটি দর্শকদের মনে করিয়ে দিয়েছিল সেই সময়ের আঘাত। 'গরম হাওয়া', 'তমস', 'ট্রেন টু পাকিস্তান', 'আর্থ', 'পিঞ্জর' থেকে 'গদর'—এই তালিকায় দেশভাগের গল্প কতবার ফিরে এসেছে। শুধু ইতিহাসের টান নাকি এই ক্ষত এখনো জীবন্ত? বলিউডে দেশভাগের গল্প নতুন কিছু নয়; বরং ১৯৪৭ ভারতীয় উপমহাদেশের সেই ইতিহাস, যার কাছে হিন্দি সিনেমা বারবার ফিরে আসে।

কখনো প্রেমের গল্প হয়ে, কখনো পরিবারের বিচ্ছেদের কাহিনি হয়ে, কখনো রাজনৈতিক সহিংসতার নির্মম দলিল হয়ে, আবার কখনো জাতীয়তাবাদী আবেগের বড় প্রদর্শনী। এই তালিকায় এবার যুক্ত হচ্ছে 'বাটারফ্লাইজ ১৯৪৭'। রাজকুমার সন্তোষীর পরিচালনায় এই ছবিতে অভিনয় করেছেন সানি দেওল, প্রীতি জিনতা, শাবানা আজমি, করন দেওল, আলী ফজল ও অভিমন্যু সিং। আমির খান প্রযোজিত ছবিটি ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মুক্তি পাচ্ছে।

লাহোরের হাভেলিতে নতুন গল্প

ছবির কেন্দ্রে দেশভাগের সময়ের লাহোর। দেশভাগের পর একটি মুসলিম পরিবার একটি পুরোনো হাভেলিতে এসে ওঠে। কিন্তু সেখানে থেকে গেছেন এক বৃদ্ধ হিন্দু নারী, যিনি বাড়িটিকে নিজের পূর্বপুরুষের সম্পত্তি বলে দাবি করেন। দুই পরিবারের এই সংঘাত ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে দেশভাগের বৃহত্তর বাস্তবতার প্রতীক—একই ঘর, অথচ বদলে গেছে পরিচয়, অধিকার ও সম্পর্কের অর্থ।

প্রীতি জিনতার জন্যও ছবিটি বিশেষ। দীর্ঘ বিরতির পর পর্দায় ফিরেছেন তিনি। ছবিতে তাঁর চরিত্র হামিদা, একজন গৃহবধূ, দেশভাগের ভয়াবহতার মধ্যে যাকে পরিবার ও সন্তানদের রক্ষার জন্য লড়াই করতে হয়। অভিনেত্রী বলেছেন, সেই সময়ের নারীদের সামনে নিজের জীবন বেছে নেওয়ার সুযোগই ছিল খুব সীমিত।

৭৯ বছর পরও কেন এই গল্প?

প্রশ্ন হলো, ৭৯ বছর আগের একটি ঘটনা নিয়ে বলিউড এতবার ছবি বানাচ্ছে কেন? যে ইতিহাস এখনো শেষ হয়নি। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত ভাগ হয়ে ভারত ও পাকিস্তান তৈরি হওয়ার সময় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অভিবাসনগুলোর একটি ঘটে। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, এক কোটির বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে সীমান্ত পেরিয়েছিলেন; সহিংসতায় প্রাণ হারান আনুমানিক ১০ লাখ বা তারও বেশি মানুষ।

অসংখ্য পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়, বদলে যায় প্রজন্মের পর প্রজন্মের পরিচয় ও বসতভিটা। এই কারণেই দেশভাগ কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়। এটি ব্যক্তিগত স্মৃতি। কারও দাদার ফেলে আসা বাড়ি, কারও নানির বলা ট্রেনের গল্প, কারও হারিয়ে যাওয়া আত্মীয়, কারও জন্মভূমির নাম—সবকিছু মিলিয়ে দেশভাগ ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষের পারিবারিক স্মৃতির অংশ হয়ে আছে।

দেশভাগের গল্পে ইতিহাস আছে, আবার ঘরসংসারও আছে। রাজনীতি আছে, আবার প্রেমও আছে। মৃত্যু আছে, আবার ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষাও আছে।

গরম হাওয়া: শুরুটা যে ছবি দিয়ে

দেশভাগ নিয়ে হিন্দি সিনেমার আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নামগুলোর একটি 'গরম হাওয়া'। এম এস সত্যুর ১৯৭৩ সালের এই ছবি দেশভাগের পর ভারতে থেকে যাওয়া এক মুসলিম পরিবারের চোখ দিয়ে দেখেছিল ইতিহাসকে। বলরাজ সাহনির অভিনয়ে সালিম মির্জা হয়ে ওঠেন এমন একজন মানুষ, যিনি দেশভাগের পরও নিজের জন্মভূমি ছেড়ে যেতে চান না। কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতা, সামাজিক সন্দেহ, অর্থনৈতিক সংকট—সবকিছু মিলে ধীরে ধীরে তাঁর চারপাশের পৃথিবী বদলে যায়।

'গরম হাওয়া'-র বড় শক্তি ছিল, দেশভাগকে কেবল ভারত বনাম পাকিস্তানের গল্প না বানিয়ে মানুষের ওপর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রভাব হিসেবে দেখা। পরিচালক সত্যুর উদ্দেশ্যও ছিল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মানবিক মূল্য দেখানো।

তমস: অন্ধকারের ভেতর মানুষ

ভীসম সাহনির উপন্যাস অবলম্বনে গোবিন্দ নিহালনির 'তমস' ১৯৮০-এর দশকে দেশভাগের আরেক নির্মম চিত্র হাজির করেছিল। টেলিভিশনের জন্য নির্মিত এই কাজ দেখিয়েছিল, কীভাবে গুজব, রাজনৈতিক উসকানি ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ খুব অল্প সময়ের মধ্যে পাশাপাশি থাকা মানুষকে পরস্পরের শত্রুতে পরিণত করতে পারে। 'তমস' দেশভাগকে শুধু সীমান্ত আঁকার ঘটনা হিসেবে না দেখে এটি দেখেছিল সাম্প্রদায়িক মনস্তত্ত্বের বিস্ফোরণ হিসেবে।

ট্রেন টু পাকিস্তান: গ্রামের গল্পে পুরো দেশভাগ

খুশবন্ত সিং-এর একই নামের বিখ্যাত উপন্যাস অবলম্বনে পামেলা রুকসের ১৯৯৮ সালের ছবিটি দেশভাগের আরেক উল্লেখযোগ্য কাজ। গল্পের কেন্দ্র পাঞ্জাবের সীমান্তবর্তী কাল্পনিক গ্রাম মানো মাজরা। সেখানে শিখ ও মুসলিমরা দীর্ঘদিন পাশাপাশি বসবাস করে। কিন্তু ১৯৪৭-এর রাজনৈতিক উত্তেজনা একসময় সেই স্বাভাবিক জীবনকে ধ্বংস করে দেয়। একটি ট্রেন এসে যেন পুরো গ্রামের ভাগ্য বদলে দেয়।

ছবিটি দেশভাগের বিপুল ইতিহাসকে একটি ছোট গ্রামের মানুষের সম্পর্কের মধ্যে নামিয়ে আনে। প্রেম, বন্ধুত্ব, বিশ্বাস—সবকিছুর ওপর রাজনৈতিক বিভাজনের ছায়া পড়ে।

আর্থ: প্রেমের গল্প যখন ঘৃণার গল্প হয়ে যায়

দীপা মেহতার '১৯৪৭: আর্থ' দেশভাগকে আরও ব্যক্তিগত জাগরণ নিয়ে যায়। বাপসি সিধও-এর উপন্যাস 'ক্র্যাকিং ইন্ডিয়া' অবলম্বনে নির্মিত ছবিতে একটি শিশুর চোখ দিয়ে দেখা হয় কীভাবে রাজনৈতিক বিভাজন ধীরে ধীরে মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও বন্ধুত্বকে ভেঙে দেয়। আমির খান, নন্দিতা দাস ও রাহুল খান্না অভিনীত ছবিটি দেখায় যে মানুষগুলো একসঙ্গে হাসত, আড্ডা দিত, প্রেম করত; তারাই কীভাবে পরিচয়ের রাজনীতির কারণে বদলে যেতে পারে।

ছবিটির ২৫ বছরের বেশি সময় পরও নন্দিতা দাস বলেছিলেন, 'আর্থ'-এর মতো ছবির গুরুত্ব সময়ের সঙ্গে আরও বড় এবং তিনি চেয়েছিলেন নতুন প্রজন্মের কাছে ছবিটি আরও সহজলভ্য হোক।

পিঞ্জর: দেশভাগের সবচেয়ে বড় শিকার কারা?

অমৃতা প্রীতমের উপন্যাস অবলম্বনে চন্দ্রপ্রকাশ দ্বিবেদীর 'পিঞ্জর'(২০০৩) দেশভাগের গল্পকে নারীর শরীর ও পরিচয়ের প্রশ্নে নিয়ে যায়।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is বল উড ক ন ব রব র?

বল উড ক ন ব রব র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does বল উড ক ন ব রব র matter?

বল উড ক ন ব রব র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.