Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

বনরুটির দাম বাড়ল ৫ টাকা, শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট বেড়েছে

Published September 15, 2026 · Updated September 15, 2026 · By Michael Martin - banglaprabah.com

Foto : Michael Martin - banglaprabah.com

বেকারি পণ্যের নতুন দামে বাড়তি চাপ শ্রমজীবী মানুষের

Banglaprabah.com – বনর ট র দ ম ব ড়ল - রাজধানীতে সাধারণ নাশতার খরচ আবারও বেড়েছে। খোলা পাউরুটি বা বনরুটির প্রতিটি পিসে ৫ টাকা পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির কারণে রিকশাচালক, দিনমজুর ও নিম্নআয়ের বহু মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় নতুন করে হিসাব করতে হচ্ছে। এক কাপ চা ও একটি বনরুটি—অনেকের জন্য যে খাবারটি কাজের ফাঁকে দ্রুত শক্তি জোগানোর সহজ উপায়, সেটিই এখন আগের চেয়ে ব্যয়বহুল।

মোহাম্মদপুরের কাটাসুর এলাকায় পায়ে চালানো রিকশা চালান মো. আলমগীর। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা রিকশা চালানোর সময় তিনি দিনে তিন বা চারবার হালকা নাশতা করেন। প্রতিবার এক পিস বনরুটি ও এক কাপ দুধ চা খেতেই আগে তাঁর ২০ টাকা লাগত। বনরুটি ১০ টাকা এবং চা ১০ টাকা। তবে গত রোববার থেকে একই নাশতায় তাঁকে খরচ করতে হচ্ছে ২৫ টাকা।

“দুইডা খেপ (ভাড়া) মাইরা একটা রুটি, একটা চা খাওনই লাগে। না হয় শরীরে বল (শক্তি) পাই না। কিন্তু এহন খরচ ৫ টেয়া বাড়ছে।”

শুধু আলমগীর নন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খোলা বনরুটি ও কেকের নতুন দাম ক্রেতাদের চোখে পড়ছে। মোহাম্মদপুর, মিরপুর, তেজগাঁও, কারওয়ান বাজার, মগবাজার ও খিলগাঁওয়ের খুচরা দোকানগুলোতে বাড়তি দামে এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে। ঢাকার বাইরে অবশ্য সব জায়গায় একই সময়ে মূল্য পরিবর্তন হয়নি। খুলনা, চট্টগ্রাম, সাভার ও রাজশাহীর কয়েকটি এলাকায় রোববার পর্যন্ত আগের দামেই বনরুটি ও কেক বিক্রি হতে দেখা গেছে।

দাম বাড়ল, কোথাও কমল ওজন

কাঁচামাল ও জ্বালানির ব্যয় বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ ব্রেড বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি গত শনিবার থেকে রুটি, বিস্কুট ও অন্য বেকারি পণ্যের দাম ও ওজনে সমন্বয় করেছে। বিভিন্ন পণ্যে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে। হাতে তৈরি সাধারণ বেকারি বিস্কুটের কেজিপ্রতি দাম গড়ে ২০ টাকা বেড়েছে। যে বিস্কুট আগে ১৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতো, তার বর্তমান মূল্য ১৫০ টাকা।

কিছু পণ্যে সরাসরি দাম না বাড়িয়ে ওজন কমানো হয়েছে। আগে ৪০ গ্রাম ওজনের বনরুটি ও মাফিন কেক যে দামে বিক্রি হতো, সেগুলোর ওজন কমিয়ে ৩৫ গ্রাম করা হয়েছে। আবার ১০ বা ১২ টাকার বনরুটির মূল্য বাড়িয়ে ১৫ টাকা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বনরুটির আকার কিছুটা বড় করা হয়েছে বলে ব্যবসায়ীদের বক্তব্য। অর্থাৎ ক্রেতারা কোথাও বেশি টাকা দিচ্ছেন, আবার কোথাও একই টাকায় আগের তুলনায় কম পরিমাণ পণ্য পাচ্ছেন।

মূল্য সমন্বয়ের আগে বেকারি মালিকেরা উৎপাদন ব্যয় নিয়ে চাপের কথা জানান। দাম বাড়ানোর দাবিতে রাজধানীর কয়েকটি বেকারি কারখানায় বুধবার ও বৃহস্পতিবার উৎপাদন বন্ধ ছিল। দুই দিন পর শনিবার সকাল থেকে নতুন দামের পণ্য বাজারে সরবরাহ শুরু হয়।

কাঁচামাল ও গ্যাসের ব্যয় বেড়েছে

বনরুটি, কেক ও বিস্কুট তৈরিতে প্রধানত ময়দা, ভোজ্যতেল, ডালডা, চিনি এবং গ্যাস প্রয়োজন হয়। বেকারি ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, গত ছয় মাসে এসব উপকরণের প্রতিটির মূল্যই বেড়েছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের তথ্য বলছে, ছয় মাসের ব্যবধানে খুচরা বাজারে খোলা ময়দার দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ৫ শতাংশ এবং চিনির দাম গড়ে ১১ শতাংশ বেড়েছে।

বাংলাদেশে ক্ষুদ্র বেকারির সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার। এর মধ্যে ঢাকাতেই রয়েছে ৭০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান। ছোট ও মাঝারি এই বেকারিগুলো স্থানীয় দোকান, চায়ের স্টল এবং পাড়া-মহল্লার বাজারে প্রতিদিন রুটি, কেক, বিস্কুটসহ নানা পণ্য সরবরাহ করে। ফলে উৎপাদন খরচের পরিবর্তন দ্রুত খুচরা বাজারে পৌঁছে যায়।

ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিনের হিসাবে, গত এক বছরে কাঁচামাল ও জ্বালানির দাম বাড়ায় বেকারি পণ্য তৈরির খরচ ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বিপরীতে উৎপাদনের পরিমাণ কমেছে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। এ পরিস্থিতিতে ছোট ও মাঝারি বেকারিগুলো আর্থিক চাপে আছে বলে তিনি জানান।

“রুটি ও কেক তৈরির কাঁচামালের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে খরচ সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়েই আমরা এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

চায়ের দোকানেও প্রভাবের আশঙ্কা

বনরুটি ও চা বহু শ্রমজীবী মানুষের জন্য একসঙ্গে কেনা নাশতা। তাই রুটির মূল্য বাড়লে চায়ের দোকানিরাও বিক্রির ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন। মোহাম্মদপুরের আওরঙ্গজেব সড়কের চা বিক্রেতা জব্বার শেখ বলেন, গত এক মাসে চা পাতার কেজিপ্রতি দাম ৫০ টাকা বেড়েছে। চিনির দামও কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কিন্তু চায়ের দাম বাড়ানো তাঁর পক্ষে সহজ হয়নি।

“এখন বাড়ল রুটি, কেকের দাম। এমনিতে চায়ের দাম তো আমরা বাড়াতে পারিনি। রুটি, কেকের দাম বৃদ্ধিতে উল্টো আমার বেচাকেনা কিছুটা কমে যেতে পারে।”

গত আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। মাছ, মাংস, সবজি, তেল ও চিনির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের মধ্যে বেকারি পণ্যের দাম বাড়ায় নিম্নবিত্ত পরিবারের ব্যয়ের চাপ আরও বেড়েছে।

অনেকের কাছে বনরুটি হয়তো ছোট একটি কেনাকাটা, কিন্তু দিনে কয়েকবার নাশতা করতে হয় এমন মানুষের জন্য প্রতিটি অতিরিক্ত ৫ টাকা গুরুত্বপূর্ণ। আলমগীরের মতো শ্রমজীবী মানুষের ক্ষেত্রে সেই বাড়তি ব্যয় দিনের শেষে আয়ের একটি দৃশ্যমান অংশ হয়ে দাঁড়ায়।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is বনর ট র দ ম ব ড়ল?

বনর ট র দ ম ব ড়ল is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does বনর ট র দ ম ব ড়ল matter?

বনর ট র দ ম ব ড়ল matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.