ফোডেনের হ্যাটট্রিকে দুর্দান্ত সিটি, ৭ গোলের ম্যাচে লিভারপুলের জয়
ফোডেনের হ্যাটট্রিকে সিটির দাপট, ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে নাটকীয় লিভারপুল
Banglaprabah.com – ফ ড ন র হ য টট - চ্যাম্পিয়নস লিগের একই রাতে দুই ইংলিশ দলের জয়ের ধরন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইতিহাদে ম্যানচেস্টার সিটি আধিপত্য দেখিয়ে এইকে এথেন্সকে ৫-১ গোলে হারিয়েছে। অন্যদিকে অ্যানফিল্ডে দুই গোলের ঘাটতি কাটিয়ে ভিয়ারিয়ালকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়েছে লিভারপুল। সিটির জয়ে ফিল ফোডেন ছিলেন প্রধান আলোচনায়, আর লিভারপুলের প্রত্যাবর্তনে বড় অবদান রেখেছেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও তরুণ রিও এনগুমোহা।
পিএসজি-হারের পর শক্ত প্রতিক্রিয়া সিটির
গত সপ্তাহে নিজেদের মাঠে পিএসজির কাছে ৪-২ গোলে হারের পর জয়ের পথে ফিরতে মরিয়া ছিল এনজো মারেসকার দল। এইকে এথেন্সের বিপক্ষে শুরু থেকেই সেই তাগিদ ফুটে ওঠে তাদের খেলায়। বল দখল, আক্রমণের গতি ও প্রতিপক্ষের অর্ধে চাপ—সব দিকেই সিটি ছিল অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত।
ম্যাচের প্রথম গোলটি আসে নতুন মুখ এনজো ফার্নান্দেজের ফ্রি-কিক থেকে। তাঁর নেওয়া বল ক্রসবার ছুঁয়ে ফিরে এলে সুযোগ নষ্ট করেননি এলিয়ট অ্যান্ডারসন। ফিরতি বল জালে পাঠিয়ে সিটিকে এগিয়ে দেন তিনি। কিছুক্ষণ পর অ্যালানের প্রচেষ্টা পোস্টে লেগে ফেরায় এথেন্স আরও বিপদ থেকে রক্ষা পায়।
সিটির দ্বিতীয় গোলটি করেন ফোডেন। রিকো লুইসের পাস পেয়ে নিখুঁত শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ইংল্যান্ডের এই ফুটবলার। ডিসেম্বরের পর গত সপ্তাহান্তেই প্রথম গোলের দেখা পেয়েছিলেন ফোডেন; এ ম্যাচে সেই আত্মবিশ্বাস আরও বড় রূপ নেয়।
এক গোল হজম করেও নিয়ন্ত্রণে সিটি
বিরতির পর এথেন্স নিজেদের প্রথম লক্ষ্যে রাখা শটেই গোল পেয়ে যায়। স্ট্যাভ্রোস পিলিওস সিটির রক্ষণ ভেঙে ব্যবধান কমান। তবে এই গোল ম্যাচের গতিপথ বদলাতে পারেনি। সিটি দ্রুতই আবার আক্রমণের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।
ফোডেনের তৈরি করা সুযোগ থেকে রায়ান শেরকি গোল করে ব্যবধান বাড়ান। এরপর ফোডেন নিজেই অসাধারণ এক ভলিতে বল পোস্টের কোণায় পাঠান। প্রথম স্পর্শেই নেওয়া তাঁর শট এথেন্সের রক্ষণকে কোনো সুযোগ দেয়নি।
ম্যাচের শেষ ভাগে কাছ থেকে গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ফোডেন। তিন গোলের পাশাপাশি একটি গোলে সহায়তাও ছিল তাঁর। পিএসজির বিপক্ষে হতাশার পর এই জয় সিটির জন্য শুধু তিন পয়েন্টের স্বস্তি নয়, আক্রমণভাগের আত্মবিশ্বাস ফেরানোরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
অ্যানফিল্ডে শুরুতে ভিয়ারিয়ালের চমক
লিভারপুলের ম্যাচে অবশ্য চিত্র ছিল অনেক বেশি অস্থির। ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে জয়ী দল থেকে ছয়টি পরিবর্তন এনেছিলেন আন্দোনি ইরাওলা। আলেক্সান্দার ইসাক, ব্র্যাডলি বারকোলা এবং ফ্লোরিয়ান ভির্টৎস শুরুতে বেঞ্চে ছিলেন। সেই সিদ্ধান্তের পর প্রথম আধা ঘণ্টার মধ্যেই দুই গোল হজম করে লিভারপুল কঠিন অবস্থায় পড়ে যায়।
রেনাতো ভেইগার দীর্ঘ বল সামলাতে গিয়ে ভুল করেন অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক। আলিসনের উদ্দেশে তাঁর দুর্বল হেড দখলে নিয়ে জর্জেস মিকাউতাদজে গোল করেন। এরপর নাথান সালিবার সহজ পাস থেকে সের্হি কার্দোনা ভিয়ারিয়ালের দ্বিতীয় গোলটি এনে দেন।
দুই গোলের ধাক্কা লিভারপুলকে আরও সতর্ক করে তোলে। ৩৬তম মিনিটে কনস্তান্তিনোস সিমিকাসের কর্নার থেকে হেডে গোল করেন ম্যাক অ্যালিস্টার। এই গোল স্বাগতিকদের ম্যাচে ফিরিয়ে আনার ভিত্তি তৈরি করে।
বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে রিও এনগুমোহার চিপ করা বল থেকে পা ছুঁইয়ে সমতা ফেরান রোনাল্ড আরাউহো। প্রথমার্ধ শেষ হয় ২-২ সমতায়, আর অ্যানফিল্ডের চাপ তখন পুরোপুরি ভিয়ারিয়ালের ওপর চলে যায়।
এনগুমোহা-ম্যাক অ্যালিস্টারের প্রভাব
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পরিবর্তন আনেন ইরাওলা। আরাউহোর বদলে ভির্টৎস মাঠে নামেন এবং রায়ান গ্রাভেনবার্চকে রাইট ব্যাকের ভূমিকায় পাঠানো হয়। এরপর লিভারপুলের আক্রমণ আরও ধারালো হয়ে ওঠে।
১৮ বছর বয়সী এনগুমোহা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তৃতীয় গোলেও। কার্দোনাকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে তিনি ম্যাক অ্যালিস্টারের সামনে ফাঁকা জালের সুযোগ তৈরি করেন। আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার গোল করে লিভারপুলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
এর কিছু পর বাঁ পায়ের শটে ক্লাবের হয়ে নিজের প্রথম গোল করেন ভির্টৎস। তাঁর গোল লিভারপুলকে ৪-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেয় এবং স্বাগতিকদের জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলে।
তবে ভিয়ারিয়াল শেষ পর্যন্ত লড়াই ছাড়েনি। আইওজে পেরেসের পাস থেকে তানি ওলুওয়াসেই গোল করে ব্যবধান ৪-৩ করেন। শেষ মুহূর্তে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরলেও আর সমতা টানতে পারেনি স্প্যানিশ দলটি।
শেষ পর্যন্ত সাত গোলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিভারপুল। সিটির জন্য ফোডেনের রাত যেমন ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের প্রদর্শনী, লিভারপুলের জন্য তেমনি এটি ছিল পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে ফিরে আসার সক্ষমতার প্রমাণ।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ফ ড ন র হ য টট?ফ ড ন র হ য টট is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ফ ড ন র হ য টট matter?ফ ড ন র হ য টট matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.