মালদ্বীপে সাংবাদিকদের কারাদণ্ড: প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত সম্পর্কের অভিযোগ আবরণে
প র স ড ন ট র – মালদ্বীপে দুই সাংবাদিককে ব্যক্তিগত সম্পর্ক প্রকাশ করায় কারাদণ্ডের ঘটনা ঘিরে বিশেষ মুখপাত্রদের মতামত সংকলন করা হয়েছে। সিপিজে সংগঠন এই বিচার প্রক্রিয়াকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর হামলা বলে বিশেষ আলোচনা করেছে।
প্রামাণ্যচিত্র প্রকাশের পর বিচার শুরু
গত এপ্রিলে আদাদুর কার্যালয়ে একটি সাংবাদিক অভিযান চালানোর পর প্রামাণ্যচিত্রটি আদালতে আবেদন করা হয়। প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু তাঁর সাবেক নারী সহকারীকে গভীর রাতে ফোন করতেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে আলোচনা নিষিদ্ধ করায় দুই সম্পাদককে জেলে প্রেরণ করা হয়।
প্রামাণ্যচিত্রটি সামনে আনার পর প্রশাসন এবং সাংবাদিক দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র তুরুত্তু দেখা যায়। এ নিয়ে আদালতে আলোচনা নিষিদ্ধ করার আদেশ জারি করা হয়। আদালতের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আলোচনা করা যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়।
গণমাধ্যম স্বাধীনতা হুমকি হিসেবে মনে করা হয়েছে
“প্রামাণ্যচিত্রের প্রকাশ করায় মালদ্বীপে দুই সাংবাদিককে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর হামলা হিসেবে প্রকাশ্যে মানা হয়েছে।”
সিপিজে এই ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা হিসেবে বিশ্লেষণ করেছে। সংগঠনটি বলেছে, প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত সম্পর্কের খবর প্রকাশ করা একটি মুক্ত সাংবাদিকতার প্রমাণ। তবে মামলার মাধ্যমে এটি গুরুতর অপরাধে রূপ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে দুই সম্পাদক হোসেন ফিয়াজ মুসা এবং হাসান মোহাম্মদ বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। এদের বিরুদ্ধে ইসলামি আইন অনুযায়ী ব্যভিচারের মিথ্যা অভিযোগ আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ এক বছর সাত মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৮০টি দোররা মারার বিধান রয়েছে।
বিচারের প্রক্রিয়া পরিস্কার করতে মুখপাত্রদের সমর্থন
মুইজ্জু মুখপাত্র মোহাম্মদ হোসেন শরিফ বিচার প্রক্রিয়াকে গণমাধ্যম স্বাধীনতার উপর হামলা বলে মানতে নারাজ। তিনি দাবি করেছেন, প্রামাণ্যচিত্রের আলোচনার সঙ্গে স্বাধীন সাংবাদিকতার আইনি অধিকার এবং দায়িত্ব সম্পর্কে কোনো নিষ্পত্তি দেওয়া হয়নি।
“প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত সম্পর্কের খবর প্রকাশ করায় কারাদণ্ড বিচার প্রক্রিয়া মানে গণমাধ্যমের প্রতি আক্রমণ।”
সাংবাদিকদের কারাদণ্ডের ঘটনায় রাজনৈতিক সংগঠনগুলো গুরুতর ভয় দেখাচ্ছে। এ নিয়ে মুখপাত্রদের বিশ্লেষণ ঘটনাটি গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু ব্যক্তিগত সম্পর্কের খবর প্রকাশ করায় এই কার্যক্রমে সামনে এসেছে গুরুতর গোলযোখ।
