মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের প্রস্তাবিত অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের দাবি
প রস ত ব ত অগ র – জাতীয় সংসদ ভবনের বিপরীতে মানববন্ধন করেছেন মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা। আজ শুক্রবার বিকেলে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা প্রতিবাদে অংশ নেন। এ সংগ্রামে প্রতিনিধিদের মতে তারা কর দেওয়ার বিরোধিতা করছেন না; বরং কর আরোপের ক্ষেত্রে ন্যায়সংগত, বাস্তবসম্মত এবং বৈষম্যহীন নীতি প্রণয়নের দাবি জানান।
ন্যাশনাল বাইকার ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা রায়হান উদ্দীন খান
রায়হান উদ্দীন খান জানান যে একই হারে কর আরোপের ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ব্যবহারকারীদের ওপর অযৌক্তিক চাপ পড়বে। তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থী বা স্বল্প আয়ের ব্যক্তি বহু বছর সঞ্চয় করে মোটরসাইকেল কিনলে তাঁদের আওতায় একই ধরনের কর আরোপ করা হবে। এটি বৈষম্যমূলক হওয়ায় তিনি মোটরসাইকেলের মূল্য, ইঞ্জিন ক্ষমতা এবং ব্যবহারকারীদের আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তিতে করকাঠামো নির্ধারণের প্রস্তাব দেন।
‘আমরা সংঘাত চাই না, সমাধান চাই। দেশের লাখো বাইকারের প্রতিনিধি হিসেবে আমরা আলোচনার সুযোগ চাই। একটি উন্মুক্ত মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হলে আমরা আমাদের সমস্যা ও প্রস্তাব সরাসরি তুলে ধরতে পারব।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে বাইকারদের ওপর কর আরোপের বিষয়টি নিশ্চিত করা উচিত নয়। সড়ক নিরাপত্তা, নিরাপদ অবকাঠামো এবং মোটরসাইকেল চালকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেন।
ভেসপা কমিউনিটির প্রতিষ্ঠাতা দিদারুল ইসলাম সুজন
দিদারুল ইসলাম সুজন বলেন, বাইকাররা কখনোই কর দেওয়ার আপত্তি করেন না এবং দেশের রাজস্ব বৃদ্ধির অংশীদার হতে চান। তবে তাঁদের মতামত বিবেচনা করা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ জানান।
‘বৈধ মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা প্রশাসনিক জটিলতা, জরিমানা ও বিধিনিষেধের মুখোমুখি হন। অথচ সড়কে চলাচলকারী অনেক অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ে না।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে মোটরসাইকেল কিনতে ক্রেতাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি মূল্য পরিশোধ করতে হয়। আমদানি শুল্ক, উৎপাদন কর, ভ্যাট-ট্যাক্স, নিবন্ধন ফিসহ বিভিন্ন ধরনের কর ও চার্জ বিদ্যমান থাকার পরও নতুন করে অগ্রিম আয়কর আরোপের উদ্যোগকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন।
