প্রশিক্ষণহীন বিক্রেতার পরামর্শে জমিতে কীটনাশক ঝুঁকি বাড়াচ্ছে; সরকারি তদারকি কম
প্রশিক্ষণহীন বিক্রেতার পরামর্শে কীটনাশক ঝুঁকি বাড়ছে
Banglaprabah.com – প রশ ক ষণহ ন ব ক - সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার বারাকান্দী গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম ফসলের ক্ষেতে পোকা দেখা মাত্রই ছুটে যান স্থানীয় কীটনাশকের দোকানে। কোন ওষুধ ব্যবহার করবেন, কতটুকু পরিমাণ দেবেন অথবা কতবার ছিটাবেন—এসব বিষয়ে তিনি দোকানদারের পরামর্শই মেনে চলেন। শুধু তাই নয়, কীটনাশক প্রয়োগের দুই-এক দিনের মধ্যে তিনি অনেক সময় শাকসবজি তুলে বাজারে নিয়ে যান।
শহিদুলের ভাষ্য, এসব বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নিয়মিত পরামর্শ বা মাঠপর্যায়ে তদারকি খুব একটা পান না তিনি। এ কারণে সমস্যা সমাধানে তাঁকে দ্রুত কীটনাশকের দোকানে যেতে হয়।
শহিদুল ইসলাম, কৃষক, সিরাজগঞ্জ
শহিদুলকে কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেন একই এলাকার কীটনাশক বিক্রেতা মোহাম্মদ সোনাউল্লা। তাঁর নিজের কোনো কীটনাশক বিক্রির অনুমতি বা লাইসেন্স নেই। অন্য একজনের লাইসেন্স ব্যবহার করে ব্যবসা করেন। কীটনাশক ব্যবহারের বিষয়ে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণহীন এই বিক্রেতা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই কৃষকদের ওষুধ বেছে দেন এবং ব্যবহারবিধি বুঝিয়ে দেন।
গবেষণায় উঠে আসা তথ্য
তবে নিরাপদ মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ, ফসল তোলার আগে কত দিন অপেক্ষা করতে হয় (উইথহোল্ডিং পিরিয়ড) কিংবা কোন কোন কীটনাশক দেশে নিষিদ্ধ—এসব বিষয়ে তাঁর স্পষ্ট ধারণা নেই। শহিদুল ও সোনাউল্লার এই সম্পর্ক কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দেশের অনেক এলাকার ফসলের মাঠে কীটনাশক ব্যবহারের সিদ্ধান্তে কৃষকের প্রধান ভরসা এখনো খুচরা বিক্রেতা।
সরকারি কৃষি সম্প্রসারণ ব্যবস্থার সীমিত উপস্থিতি, দুর্বল তদারকি এবং তথ্যের ঘাটতির কারণে অনানুষ্ঠানিক এই পরামর্শব্যবস্থাই হয়ে উঠেছে কৃষকের নির্ভরতার জায়গা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, কীটনাশক ব্যবহারের নির্দেশনা নিতে ৬৫ শতাংশের বেশি কৃষক খুচরা বিক্রেতা বা ডিলারের ওপর নির্ভর করেন।
প্রায় তিন-চতুর্থাংশ কৃষক সুপারিশের চেয়ে বেশি ঘনত্বে কীটনাশক ব্যবহার করেন। আবার জরিপে অংশ নেওয়া কিছু কৃষক বাংলাদেশে নিষিদ্ধ কীটনাশকও ব্যবহার করছেন। প্রশিক্ষণহীন বিক্রেতার পরামর্শেই সিদ্ধান্ত।
মৌলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা
মৌলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স বিভাগের গবেষকেরা টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জের ৬০০ কৃষকের ওপর এই জরিপ পরিচালনা করেন। ২০২৫ সালের চাষ মৌসুমে এর তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণাটির লক্ষ্য ছিল কৃষকদের পেশাগত স্বাস্থ্যঝুঁকি ও খাদ্যনিরাপত্তার ওপর কীটনাশকের প্রভাব মূল্যায়ন করা। গবেষণাটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী 'সায়েন্টিফিক রিপোর্টস'-এ প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, কীটনাশক ব্যবহারের নির্দেশনা নিতে ৬৫ শতাংশের বেশি কৃষক খুচরা বিক্রেতা বা ডিলারের ওপর নির্ভর করেন। কীটনাশকের গায়ে লেখা নির্দেশনা অনুসরণ করেন মাত্র প্রায় ১৯ শতাংশ কৃষক। আর প্রায় ১২ শতাংশ কৃষক নিজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেন।
অর্থাৎ কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে কৃষকের বড় অংশই নির্ভর করছেন এমন ব্যক্তিদের ওপর, যাদের অনেকের কৃষিবিষয়ক প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণহীন। গবেষণার তথ্য বলছে, নিরাপদ মাত্রা মেনে কীটনাশক প্রস্তুত করেন প্রায় এক-চতুর্থাংশ কৃষক। বাকি প্রায় তিন-চতুর্থাংশ সুপারিশের চেয়ে বেশি ঘনত্বে কীটনাশক ব্যবহার করেন। সিরাজগঞ্জে এই হার প্রায় ৬৯ শতাংশ।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, টাঙ্গাইলে ১২ শতাংশ এবং সিরাজগঞ্জে ২০ শতাংশ কৃষক এমন কীটনাশক ব্যবহার করছেন, যেগুলো বাংলাদেশে নিষিদ্ধ। সিরাজগঞ্জে প্রায় ৩ শতাংশ কৃষক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তালিকাভুক্ত অত্যন্ত বিপজ্জনক শ্রেণির কীটনাশকও ব্যবহার করছেন।
তদারকিতে সীমিত জনবল
৬৮ হাজার খুচরা ডিলার, তদারকিতে সীমিত জনবল। মাঠপর্যায়ে কীটনাশক বিক্রির লাইসেন্স দেওয়া ও তদারকির দায়িত্ব কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের। সংস্থাটির উদ্ভিদ সংরক্ষণ শাখার (উইং) তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে ৯০০ ব্র্যান্ডের ৩২৭ ধরনের কীটনাশক নিবন্ধিত আছে। আর সারা দেশে খুচরা ডিলারের সংখ্যা প্রায় ৬৮ হাজার। পাইকারি ডিলার প্রায় ৫ হাজার ৭০০।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, মাঠপর্যায়ে তদারকির জন্য উপজেলা পর্যায়ে তিনজন এবং জেলা পর্যায়ে একজন কর্মকর্তা পেস্টিসাইড ইন্সপেক্টরের দায়িত্ব পালন করেন। এই হিসাবে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে গিয়ে প্রায় ৪৪ জন খুচরা ডিলার তদারকি করতে হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের পরিচালক ওবাঈদুর রহমান মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিটি উপজেলার নিয়মিত কৃষক প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষণহীন বিক্রেতাদেরও অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কৃষিবিদরা বলছেন, বালাই নিয়ন্ত্রণ ও ফসলের উৎপাদন বাড়াতে কীটনাশক হতে পারে সহায়ক ব্যবস্থা। তবে অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের কারণে এই কীটনাশকই হয়ে উঠছে বিষ, যা সরাসরি মিশছে মাটিতে, পৌঁছে যাচ্ছে ভোক্তার খাদ্যতালিকার।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশিক্ষণহীন বিক্রেতাদের পরামর্শে কীটনাশক ব্যবহারের ঝুঁকি কতটুকু? গবেষণায় দেখা গেছে, ৬৫ শতাংশের বেশি কৃষক খুচরা বিক্রেতার ওপর নির্ভর করেন। প্রায় তিন-চতুর্থাংশ কৃষক সুপারিশের চেয়ে বেশি ঘনত্বে কীটনাশক ব্যবহার করেন।
বাংলাদেশে কীটনাশক বিক্রির জন্য কী লাইসেন্স প্রয়োজন? মাঠপর্যায়ে কীটনাশক বিক্রির লাইসেন্স দেওয়া ও তদারকির দায়িত্ব কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের। দেশে বর্তমানে ৯০০ ব্র্যান্ডের ৩২৭ ধরনের কীটনাশক নিবন্ধিত আছে।
কীটনাশক ব্যবহারের পর কতদিন অপেক্ষা করা উচিত? গবেষণায় দেখা গেছে, নিরাপদ মাত্রা মেনে কীটনাশক প্রস্তুত করেন প্রায় এক-চতুর্থাংশ কৃষক। বাকি প্রায় তিন-চতুর্থাংশ সুপারিশের চেয়ে বেশি ঘনত্বে কীটনাশক ব্যবহার করেন।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is প রশ ক ষণহ ন ব ক?প রশ ক ষণহ ন ব ক is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does প রশ ক ষণহ ন ব ক matter?প রশ ক ষণহ ন ব ক matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.