Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

প্রতিশ্রুতি পূরণে পিছিয়ে ডাকসু, নেতারা জড়িয়েছেন বিতর্কে

Published September 9, 2026 · Updated September 9, 2026 · By Mark Gonzalez - banglaprabah.com

Foto : Mark Gonzalez - banglaprabah.com

এক বছর পেরিয়ে গেল ডাকসুর শপথ; হল-আসনের প্রতিশ্রুতি এখনো অপূরণ

Banglaprabah.com – প রত শ র ত প রণ - ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়া হয়েছিল। ঐ দিনের ফলাফলে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত 'এক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট' প্যানেল ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টি দখল করে। সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন সাদিক কারিম, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) হন এস এম ফরহাদ। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয় — পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনেই শিবির-সমর্থিত প্যানেল জয়ী হয়েছিল। সেই নির্বাচনের ঠিক এক বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। আর সেই এক বছরের হিসাব-নিকাশে দেখা যাচ্ছে, ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির অধিকাংশই এখনো কাগজের ওপরই রয়ে গেছে।

পাঁচ মাস পরেও হল-কক্ষে নেই ঠিকানা

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে অমর একুশে হলে ভর্তি হয়েছেন শাফিনূর রহমান তাজিম। তাঁর ক্লাস শুরু হয় এপ্রিল মাসে। তবু পাঁচ মাস পার হতে বসেছে, আর হল-কক্ষের চাবি তাঁর হাতে নেই। নির্বাচনের আগে প্যানেলটির মূল প্রতিশ্রুতি ছিল — প্রথম বর্ষ থেকেই প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য হলে বৈধ আসন নিশ্চিত করা। সেই প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

হলে আসন পাইনি বলে বাইরে ভাড়া থাকতে হচ্ছে। এতে খরচ বেশি, ভোগান্তিও বেশি।

এই বক্তব্য শাফিনূরের। হাজারো শিক্ষার্থীর জন্য হল-আবাসন সংকট একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা, তবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির আলোকে এটি এখন একটি রাজনৈতিক প্রশ্নে রূপ নেয়। খাদ্যের মান, ক্যাম্পাস-নিরাপত্তা — এসব ক্ষেত্রেও এক বছর পার হলেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি চোখে পড়ছে না।

জুলাইয়ের পর ক্যাম্পাস-রাজনীতির নতুন মানচিত্র

২০২৪ সালের জুলাইয়ের আগ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো প্রায় ১৫ বছর ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে ছিল। সেই সময়ে হলের কক্ষবণ্টনে পছন্দমতো শিক্ষার্থী বসানো, অবাঞ্ছিতদের বের করে দেওয়া, মিছিলে বাধ্য করা, গেস্টরুমে 'আদব-কায়দা' শেখানোর নামে নির্যাতন — এসব ছিল নিয়মিত ঘটনা। সরকার ও আওয়ামী লীগের পক্ষে মিছিল-সমাবেশ আয়োজন এবং আন্দোলন দমনই ছিল ছাত্রলীগের মূল কার্যক্রম।

জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা হল থেকে ছাত্রলীগকে বিতাড়িত করে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হলের নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের হাতে চলে যায়। তবে ছাত্রদল ও বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতাদের অভিযোগ — মনিটরিং টিম, পরিবেশ টিমের মতো গঠন তৈরি করে প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে, আর এসব কমিটির পিছনে দাঁড়িয়ে আছেন শিবিরের নেতা-কর্মীরা।

শিবিরের কৌশল ও প্যানেল-গঠন

জুলাই অভ্যুত্থানের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির রাজনীতি করতে পারত না। অভ্যুত্থানের পর ক্যাম্পাসে শিবিরের রাজনৈতিক উপস্থিতি প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে সেই সময়েই লেজুঁবৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জোরদার হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল — লেজুঁবৃত্তির রাজনীতি ফেরত আসবে না।

২০২৫ সালের আগস্টে ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করলে আন্দোলন শুরু হয়। পরে হলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। এর আগে জুলাই অভ্যুত্থানকালেই শিক্ষার্থীদের চাপে হল কর্তৃপক্ষ ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিল। ছাত্রদলের অভিযোগ — শিবিরই মূলত সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামে আন্দোলন করেছে, যাতে ছাত্রদল হলে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে না পারে।

নির্বাচনী প্যানেল গঠনে শিবির একটি নির্দিষ্ট কৌশল অবলম্বন করেছিল — প্যানেলে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও নারীদের অন্তর্ভুক্ত করে বৈচিত্র্যের ছবি তুলে ধরা।

প্রতিপক্ষের অভিযোগ: বিতর্কে ব্যস্ত নেতারা

শিবিরের প্রতিপক্ষ ছাত্রসংগঠনগুলো বলছে, ডাকসুর নেতারা বিতর্কে বেশি ব্যস্ত। নির্বাচনের আগে লেজুঁবৃত্তিক ছাত্ররাজনীতির বিরোধিতা করেছিলেন সাদিক কারিম; নির্বাচনের পর নিজেই জামায়াতে ইসলামীর লেজুঁবৃত্তিতে অংশ নিচ্ছেন। দলটির নির্বাচনী প্রচারেও তাঁর উপস্থিতি দেখা গেছে। ডাকসুর কিছু নেতার বিরুদ্ধে আইন হাতে তুলে নেওয়া, মব করাসহ নানা অভিযোগও রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, অতীতে শিবিরের নেতা-কর্মীরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিস্বাধীনতায় নানাভাবে হস্তক্ষেপ করতেন। ডাকসুর এই এক বছরে তা খুব একটা দেখা যায়নি। হল দখল বা তা নিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটেনি। ক্লাস ও পরীক্ষা নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ছাত্রদলের ভূমিকাও উল্লেখযোগ্য — আগের মতো হল দখলের চেষ্টা এখনো দেখা যায়নি।

শিক্ষক-মত: পরিবর্তন এসেছে, টেকসইতা প্রশ্নবিদ্ধ

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান প্রথম আলোকে বলেন:

ভোটের রাজনীতির কারণে কিছু পরিবর্তন এসেছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে তা কত দিন টেকসই হবে, সেটা দেখার বিষয়।

৩৬টি প্রতিশ্রুতি: বাস্তবায়নের দাবি

১২ মাসের জন্য ৩৬টি সংস্কার-প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল শিবির-সমর্থিত প্যানেল। ডাকসুর ভিপি সাদিক কারিম ও জিএস এস এম ফরহাদ দাবি করেন, ইশতেহারে উল্লিখিত সব প্রতিশ্রুতির বাস্ত

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is প রত শ র ত প রণ?

প রত শ র ত প রণ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does প রত শ র ত প রণ matter?

প রত শ র ত প রণ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.