Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

প্রচলিত প্রবৃদ্ধি মডেলে অসন্তুষ্ট তরুণেরা: রওনক জাহান

Published October 4, 2026 · Updated October 4, 2026 · By Linda Hernandez - banglaprabah.com

Foto : Linda Hernandez - banglaprabah.com

এশিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে তরুণদের ন্যায্যতার দাবি গুরুত্ব পাচ্ছে

Banglaprabah.com – প রচল ত প রব দ ধ - এশিয়ার অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রচলিত ধারায় তরুণদের বড় একটি অংশ নিজেদের যথেষ্ট অন্তর্ভুক্ত মনে করছে না বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান। তাঁর মতে, দ্রুত প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি বৈষম্য বাড়তে থাকায় বাংলাদেশ, ভারতসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের তরুণদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতাই নানা দেশে তরুণদের প্রতিবাদ এবং জেন-জি প্রজন্মের দৃশ্যমান রাজনৈতিক উত্থানের পেছনে কাজ করছে।

শনিবার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের আয়োজনে শুরু হওয়া তিন দিনের ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এর প্রথম দিনের শেষ অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনের বিষয় ছিল ‘দ্য ফিউচার অব এশিয়া: দ্য সেঞ্চুরিস ডিফাইনিং রিজন’। আলোচনায় এশিয়ার নেতৃত্ব, আঞ্চলিক সহযোগিতা, তরুণদের ভূমিকা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সামাজিক প্রভাব উঠে আসে।

প্রবৃদ্ধির সুফল সবার কাছে পৌঁছানোর প্রশ্ন

রওনক জাহান বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি হলো তার তরুণ জনগোষ্ঠী। কিন্তু এই শক্তিকে পূর্ণ সক্ষমতায় কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, শুধু অর্থনীতির আকার বৃদ্ধি বা উন্নয়নের পরিসংখ্যান দিয়ে তরুণদের প্রত্যাশা পূরণ হয় না; উন্নয়নের সঙ্গে সুযোগ, মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও অংশগ্রহণের সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ।

“এশিয়ার যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও গতিশীলতার কথা আমরা বলছি, সেটি তরুণদের মধ্যে বৈষম্য বাড়িয়েছে।”

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তরুণরা কেবল কোনো একটি নীতি বা ঘটনার বিরোধিতা করছে না; তাদের আপত্তির মূল জায়গা বৈষম্য ও শোষণ। তারা এমন সমাজ চায়, যেখানে সুযোগের বণ্টন তুলনামূলকভাবে ন্যায্য হবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় মানুষের অংশগ্রহণ থাকবে। এ কারণে তরুণদের অবস্থানকে সাময়িক অসন্তোষ হিসেবে দেখলে চলবে না; তাদের চিন্তা ও দাবি নীতি প্রণয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় প্রতিফলিত করার প্রয়োজন রয়েছে।

এশিয়ার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব আজকের তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে বলেও মনে করেন রওনক জাহান। তাঁর বক্তব্যের তাৎপর্য হলো, তরুণদের শুধু উন্নয়নের সুবিধাভোগী হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্র ও সমাজ নির্মাণের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং সামাজিক ন্যায্যতার প্রশ্নগুলো তাই পরস্পর বিচ্ছিন্ন নয়।

রাজনীতিতে অংশগ্রহণের আহ্বান

তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, বড় কোনো সংকটের সময়ে জাতিগত ঐক্য একটি দেশের বড় শক্তি হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের অগ্রগতির বিষয়ে সবার মধ্যে ঐকমত্য থাকলেও দীর্ঘ ১৭ বছরে একটি প্রজন্মকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, এর ফলে জাতি গঠনের কাজে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ব্যাহত হয়েছে।

“তরুণদের ভাবতে হবে এটা তাদের দেশ। এ দেশ গঠনে তাদেরই ভূমিকা নিতে হবে।”

তরুণদের রাজনীতিবিমুখতা নিয়ে আলোচনাটি বৃহত্তর নাগরিক অংশগ্রহণের প্রশ্নও সামনে আনে। রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত, জবাবদিহি, অধিকার এবং জনস্বার্থের বিষয়গুলোতে নতুন প্রজন্মের মতামত ও অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের মধ্যে আস্থা তৈরি করা এবং তাদের গঠনমূলক ভূমিকা রাখার পরিবেশ তৈরি করা তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্ভাবনা

সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ফারুক সোবহান বাংলাদেশের শক্তি হিসেবে বিদেশে থাকা বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির কথা উল্লেখ করেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে দেড় কোটি থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন; এশিয়ার বহু দেশেও তাঁদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। এই প্রবাসী জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন।

তিনি বলেন, প্রবাসীরা বছরে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স দেশে পাঠান। এই অর্থ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানকে শুধু রেমিট্যান্সের অঙ্কে সীমাবদ্ধ না রেখে তাঁদের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনাকেও বিবেচনায় নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত মেলে তাঁর বক্তব্যে।

ফারুক সোবহান বাংলাদেশকে সক্রিয় ও দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, এশিয়ার ভবিষ্যতের জন্য ভারত ও চীনকে আঞ্চলিক সহযোগিতার কাঠামোয় ইতিবাচক ও গঠনমূলকভাবে যুক্ত রাখা জরুরি। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকলেও সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়ানো গেলে ছোট ও মাঝারি দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষার সুযোগও তৈরি হতে পারে।

বহুমেরুকেন্দ্রিক এশিয়ার আলোচনা

ভারতের মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ইনস্টিটিউট অব এশিয়ান স্টাডিজের সাবেক পরিচালক এবং ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বলেন, ভারত এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দ্বিমেরুকেন্দ্রিক প্রতিযোগিতার বাইরে বহুমেরুকেন্দ্রিক একটি কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। এ প্রয়াসে জাপান ভারতের ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে রয়েছে।

তাঁর বক্তব্যে এশিয়ার দেশগুলোর নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ভারতের প্রত্যাশা, এ অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং এশীয় দেশগুলো নিজেদের স্বার্থ, অগ্রাধিকার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নিজেরাই আলোচনা করবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

অধিবেশনটি পরিচালনা করেন জাপানের হাডসন ইনস্টিটিউটের অনাবাসিক ফেলো সাটোরো নাগাও। এতে বক্তব্য দেন জার্মানির ফ্রেডরিখ এবার্ট স্টিফটুংয়ের হেড অব এশিয়া প্যাসিফিক মার্কো গান্টার। আলোচনার সামগ্রিক বার্তা ছিল স্পষ্ট—এশিয়ার ভবিষ্যৎ শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিতে নির্ধারিত হবে না; তরুণদের ন্যায্যতার দাবি, প্রবাসী জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা, নাগরিক অংশগ্রহণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ধরনও সেই ভবিষ্যৎ গঠনে সমান গুরুত্বপূর্ণ হবে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is প রচল ত প রব দ ধ?

প রচল ত প রব দ ধ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does প রচল ত প রব দ ধ matter?

প রচল ত প রব দ ধ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.