আষাঢ়ের প্রথম দিনে নীল ফিতার বেঁধনে আকাশে মেঘ ঝরে পড়েছিল
ন ল ফ ত য ব ধ – কবিগুরু রবি ঠাকুরের কবিতা থেকে নীল শব্দটি বাছাই করে স্থাপন করা হয়েছিল আষাঢ় মাসের প্রথম দিনের সাংস্কৃতিক উপলক্ষে নীল ফিতার আয়োজন। রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আষাঢ়ের মাসে পাকা আম খাওয়া, মাঝে মাঝে গান গাওয়া এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতায় বেঁধে ফেলা হয়েছিল নীল ফিতা।
সকালে আকাশ নীল দিব্য প্রকৃতির রূপ নিয়ে প্রকাশ পায় যখন অধ্যক্ষ শিখা সরকারের হাতে নীল ফিতা বাঁধা হয়। এ সময় মেঘ থেকে বৃষ্টির সোঁদা গন্ধ ছিল না; বরং তখন আকাশ থেকে যেন আগুন ঝরে পড়ছিল। বিকেলে কালিমাখা মেঘে আঁধার ঘনিয়ে আসে এবং সমগ্র অনুষ্ঠানে আষাঢ়ের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে।
প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থীদের স্বাগত
প্রাণিবিদ্যা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ঐশী সাহা নীল শাড়ি পরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। তাঁর বাড়ি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামে অবস্থিত; কলেজ থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে। শাড়ি না পাওয়ায় মায়ের হাতে তৈরি নীল শাড়ি ব্যবহার করে তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
“সাইদুর রহমান স্যার বরাবরই এ রকম আনন্দঘন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকেন। ঋতুবৈচিত্রের সৌন্দর্যের এই আয়োজন আজ আমার মন ভালো করে দিয়েছে। বন্ধুত্বের সঙ্গে একটি মিলনমেলা হয়েছে। আজকের দিনের স্মৃতিগুলো অনেক সুন্দর অনুভূতির জন্ম দিয়েছে, যা অনেক দিন মনে রাখার মতো।”
অনুষ্ঠানে নীল শাড়ি পরে আসেন শ্রমণা সেনও। তাঁর বাড়ি নাটোরে। রাজশাহী শহরে ছয়জন মিলে বাসা ভাড়া করে পড়াশোনা করেন তিনি। প্রতিযোগিতার সূত্রে তাঁর মাকে নীল শাড়ি প্রস্তুত করে রাখতে বলেছিলেন শ্রমণা। সেই শাড়ি নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।
“বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন উপলক্ষে এ ধরনের অনুষ্ঠান হয়ে থাকে; কিন্তু কলেজগুলোতে এ ধরনের আয়োজন হয় না। আমাদের বিভাগের সাইদুর স্যারই সেদিক দিয়ে উল্টো। তিনি শুধু উপলক্ষ খুঁজতে থাকেন। উপলক্ষ পেলেই একটি আনন্দঘন অনুষ্ঠান উপহার দেন। এ অনুষ্ঠানও খুবই মজার হয়েছে।”
অধ্যক্ষ শিখা সরকার রবীন্দ্রনাথের বর্ষার কবিতা পাঠ করে শোনান। ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক রাশেদ করিম বর্ণনা দেন শীত পেরিয়ে মৌসুমি বাতাস কীভাবে বৃষ্টি নিয়ে আসে। হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মতিউর রহমান কথা বলতে উঠে গান শুরু করে দেন এর মাঝে—‘চাতক বাঁচে কেমনে মেঘের বরিষণ বিনে’।
