নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি, আবারও মহাসড়ক অবরোধ
নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি
Banglaprabah.com – ন হত শ ক ষ র থ - বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী ইফাত আরাফাতের পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে সোমবার সন্ধ্যায় আবারও মহাসড়ক অবরোধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দুপুরে উপাচার্যের কার্যালয়ে আলোচনা শেষে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে এই আন্দোলন নতুন করে শুরু হয়। নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের দাবি অনুযায়ী, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চাওয়া হচ্ছে।
দুর্ঘটনার বিবরণ ও চিকিৎসার পরিস্থিতি
রোববার বেলা তিনটার দিকে দপদপিয়া সেতুর ঢালে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে বাস ও মাহিন্দ্রা থ্রি-হুইলারের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এই দুর্ঘটনায় মাহিন্দ্রার এক যাত্রী নিহত হন এবং পাঁচজন আহত হন। আহতদের মধ্যে ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ইফাত আরাফাত। তাঁর বাড়ি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ডেরাজান গ্রামে।
দুর্ঘটনার পর ইফাতকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন। তবে শেষ পর্যন্ত সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। পথে রাত সোয়া দশটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
হাসপাতালে নেওয়ার পর ইফাতের সহপাঠী মো. রাজিব একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন।
হাসপাতালে যাওয়ার পর একাধিকবার প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার স্যারকে ফোন করেছি। রেজিস্ট্রার স্যার আমাকে বলেছেন, "অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন করছে।" কিন্তু এরপর প্রায় আট ঘণ্টা পর প্রশাসন হাসপাতালে যায়। আমার ভাইটার জন্য বারবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের কথা বলার পরও তারা সেটির ব্যবস্থা করতে পারেনি।
দুর্ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্যরা সমানভাবে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে উপস্থিত না হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
ক্ষতিপূরণ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ও আন্দোলনের বিস্তার
বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ইফাত আরাফাতের গাফফানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইফাতের পরিবারকে দশ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এছাড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) পক্ষ থেকে আরও সাত লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। মোট সতেরো লাখ টাকার এই প্রস্তাব শিক্ষার্থীরা প্রত্যাখ্যান করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মামুন আর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার কথা। তারপরও আমি দশ লাখ টাকার ব্যবস্থা করেছি। এ ছাড়া বিআরটিসি ও সড়ক ও জনপথ বিভাগ মিলে আরও সাত লাখ টাকা দিতে চেয়েছে।"
সোমবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। রাত আটটার এই প্রতিবেদন লেখার সময় শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে সেখানে অবস্থান করছিলেন।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী মো. রাজিব বলেন, "আমরা দুপুরে আলোচনা করে ভেবেছিলাম, প্রশাসন আমাদের দাবিগুলো মেনে নেবে। প্রক্টোরিয়াল বডির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, দুপুর গিয়ে রাত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়নি। আবার নামে মাত্র ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আমরা এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চাই। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।"
প্রশ্নোত্তর: নিহত শিক্ষার্থীর মৃত্যু ও আন্দোলন সম্পর্কে
কোনো দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী কে? বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ইফাত আরাফাত। তাঁর বাড়ি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ডেরাজান গ্রামে।
দুর্ঘটনাটি কখন এবং কোথায় ঘটে? রোববার বেলা তিনটার দিকে দপদপিয়া সেতুর ঢালে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে বাস ও থ্রি-হুইলারের সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিক্ষার্থীর পরিবার কত টাকা ক্ষতিপূরণ চাইছে? শিক্ষার্থীরা নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। বর্তমানে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো মোট সতেরো লাখ টাকা প্রস্তাব করেছে।
আন্দোলন কখন পর্যন্ত চলবে? শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধ ও আন্দোলন চলবে। বিশেষ করে প্রক্টোরিয়াল বডির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হচ্ছে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ন হত শ ক ষ র থ?ন হত শ ক ষ র থ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ন হত শ ক ষ র থ matter?ন হত শ ক ষ র থ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.