Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে হামলা চালাতে এক কোটি টাকায় ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ ভাড়া

Published October 11, 2026 · Updated October 11, 2026 · By James Jackson - banglaprabah.com

Foto : James Jackson - banglaprabah.com

নিউগিনি প্রকল্পে হামলা: এক কোটি টাকায় বাহিনী ভাড়ার অভিযোগ

Banglaprabah.com – ন উগ ন আব সন প রকল - রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে বিপুলসংখ্যক লোক জড়ো করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। প্রকল্পের প্রধান ফটক ভেঙে চলাচলের পথ তৈরি করাই হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল বলে মনে করছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ কাজে ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ ভাড়া করতে এক কোটি টাকার চুক্তির তথ্য পাওয়া গেছে জিজ্ঞাসাবাদে।

ঘটনাটি ঘটে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে। হামলাকারীরা আবাসন প্রকল্পে ঢুকে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও লুটপাট করে। ঘটনার রাতেই সালমান মুক্তাদির ক্ষয়ক্ষতির বর্ণনা দিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করলে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসে।

“এখানে অ্যাটাক হয়েছিল…আমাদের স্টুডিও ডেস্ট্রয়েড হয়ে গেছে”

হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় করা মামলাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগ। এ মামলায় এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের পরিচয় নিশ্চিত করে আটকের চেষ্টা চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবির গুলশান বিভাগের পরিদর্শক জেহাদ হোসেন।

জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসা পরিকল্পনার তথ্য

গ্রেপ্তার দুজন শাহরিয়ার মাহমুদ ও বিকাশ চন্দ্র সরকারকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য, তাঁদের দেওয়া তথ্য থেকে হামলার প্রস্তুতি, লোক সংগ্রহ এবং অর্থের প্রতিশ্রুতির নানা দিক সামনে এসেছে। হামলা পরিচালনার দায়িত্ব শাহরিয়ারের ওপর ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শাহরিয়ার ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। পুলিশের তালিকায় ইব্রাহিম ‘কিলার ইব্রাহিম’ নামে পরিচিত। নিউগিনি প্রকল্পের একটি ফটক ভেঙে দেওয়ার বিনিময়ে তাঁকে এক কোটি টাকা দেওয়ার কথা ছিল বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন।

ইব্রাহিম পরে তাঁর অনুসারী যুবরাজকে লোক জোগাড়ের দায়িত্ব দেন। যুবরাজের মাধ্যমে হামলায় অংশ নেওয়ার জন্য লোকজন সংগ্রহ করা হয়। মিরপুরের মামুন বাহিনীর সদস্যদেরও এই অভিযানে যুক্ত করা হয়েছিল বলে তদন্তে পাওয়া তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে।

খাবারের দোকানে বৈঠক, পরে দুই স্থানে জমায়েত

হামলার দিন দুপুরে ইসিবি চত্বরের একটি খাবারের দোকানে ১৩ জন বসে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন। সেই বৈঠকে শাহরিয়ার ও বিকাশ উপস্থিত ছিলেন। বিকেলের দিকে দুই জায়গায় হামলাকারীদের জড়ো করা হয়। এরপর পাঁচটি পিকআপে এবং হেঁটে প্রায় ২০০ জন প্রকল্পের দিকে এগিয়ে যায়।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিউগিনি প্রকল্পের মূল ফটকে গুলি ছুড়ে হামলা শুরু হয়। হামলাকারীরা ভেতরে ঢুকে বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায়। এই সময় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওও ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেখানে লুটপাটের অভিযোগ ওঠে।

তদন্তে ইব্রাহিমের অনুসারী যুবরাজ, শাহেদ, শাকিল, রূপচান, বাবলু ও বুকপোড়া সুমনের নাম এসেছে। ভাষানটেক এলাকার বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনার সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। হামলায় পল্লবী থানার ৯১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সভাপতি মফিজুর রহমান মামুনের বাহিনীর লোকজনও অংশ নিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। খুন, জমি দখল ও চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগে সম্প্রতি মফিজুর রহমানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

৩৫ কাঠা জমি ঘিরে বিরোধ

নিউগিনি প্রকল্পের পাশের ৩৫ কাঠা জমিকে কেন্দ্র করে বিরোধের বিষয়টি তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। ওই জমি থেকে বের হওয়ার জন্য নিউগিনি প্রকল্পের রাস্তা ব্যবহারের প্রশ্নে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। জমিটির একটি অংশ মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মালিকানাধীন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

ওই জমিতে কন্ডোমিনিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ ছিল। কিন্তু জমির সঙ্গে চলাচলের উপযোগী কোনো রাস্তা না থাকায় সেখানে ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা জটিল হয়ে পড়ে। নিউগিনি প্রকল্পের মালিক রাস্তা ব্যবহারের অনুমতি না দিলে আবাসিক ভবনটি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা কঠিন হতে পারে—এমন বাস্তবতাই বিরোধকে তীব্র করেছে বলে তদন্তকারীদের ধারণা।

এই প্রেক্ষাপটে প্রকল্পের প্রধান ফটক ভেঙে যাতায়াতের পথ তৈরির পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ। শাহরিয়ারকে এ দায়িত্ব দেওয়ার বিনিময়ে ভবিষ্যতে নির্মিতব্য ভবনের একটি ফ্ল্যাট উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। ভবন নির্মাণে ইট ও বালু সরবরাহের কাজও তাঁকে দেওয়ার কথা ছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে।

ফরেনসিক পরীক্ষা ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ব্যবহৃত মোবাইল ও অন্যান্য ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। ঘটনার স্থান এবং আশপাশের এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে তদন্তকারী দল। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্তের কাজ চলছে।

হামলাকারীদের বহনে ব্যবহৃত গাড়িগুলোও শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। পিকআপগুলো কে ভাড়া করেছিল এবং হামলার আগে-পরে সেগুলোর গতিবিধি কী ছিল, তা যাচাই করা হচ্ছে। এ ধরনের তথ্য পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা এবং মাঠপর্যায়ে হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে যোগসূত্র নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

হামলার ঘটনায় প্রকল্পের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত সম্পত্তির সুরক্ষা এবং জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির প্রশ্নও নতুন করে সামনে এসেছে। তদন্ত শেষ হলে হামলার অর্থায়ন, নেতৃত্ব ও উদ্দেশ্য নিয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ন উগ ন আব সন প রকল?

ন উগ ন আব সন প রকল is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ন উগ ন আব সন প রকল matter?

ন উগ ন আব সন প রকল matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.