নবীজির সঙ্গে ওমরের কন্যার বিয়ে হয়
নব জ র সঙ গ য ভ – মুসলিম ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে পরিচিত হাফসা বিনতে ওমর (রা.) ছিলেন মহানবীর চতুর্থ স্ত্রী। তিনি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা ওমরের কন্যা ছিলেন। তাঁর স্বামী ছিলেন খুনাইস ইবনে হুজাফা সাহমি, যিনি ওহুদ যুদ্ধে আহত হয়ে শহীদ হন। স্বামীর মৃত্যুর পর গভীর শোকের ছায়া তাঁর জীবনে আবির্ভূত হয়। তিনি অল্প বয়সেই বিধবা হয়ে পড়েন।
পিতার দায়িত্ব ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি
হাফসার নিঃসঙ্গ অবস্থা তাঁর পিতা ওমর ইবনুল খাত্তাবকে বিপন্ন করে। তিনি তাঁর মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হন। ইদ্দতের পর তাঁর বিবাহের ব্যবস্থা করার জন্য উদ্যোগ নেন। ইসলামে বিধবা মহিলাদের পুনর্বিবাহ একটি স্বাভাবিক ও সম্মানের বিষয় হিসেবে প্রমাণিত হয়। সমাজে অনেক সময় এটি সংকোচ বা কুসংস্কারের চোখে দেখা হয়।
ওমর (রা.) প্রথমে ওসমান ইবনে আফফানের কাছে যান। যিনি নিজেও গভীর দুঃখে আচ্ছন্ন ছিলেন, কারণ তাঁর স্ত্রী রুকাইয়া (রা.) ইন্তেকাল করেছিলেন। তিনি হাফসাকে আপনার সঙ্গে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন, কিন্তু ওসমান (রা.) কিছুদিন চিন্তা করার জন্য অপেক্ষা করেন। পরে তিনি প্রকাশ করেন যে তিনি এই মুহূর্তে বিয়ে করতে আগ্রহী নন। (
তাবাকাতে ইবনে সা’দ: ৮/৮১
)
এরপর আবু বকর সিদ্দিকের কাছে ওমর গেলেন। তিনি রাসুলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং সম্মানিত সাহাবি ছিলেন। কিন্তু তাঁর নীরবতা ওমরকে অত্যন্ত ব্যথিত করে। তিনি বলেন, ‘তুমি নিশ্চয়ই আমার আচরণে কষ্ট পেয়েছিলে? আমি রাসুলের ব্যক্তিগত কথা প্রকাশ করতে চাইনি।’ (
সিয়ারু আলামিন নুবালা: ২/২২৮
)
সংবাদ এবং সমাজের বন্ধন
কিছুদিন পর রাসুল (সা.) ওমরকে আনন্দের সংবাদ দেন। বলেন, ‘আমি তোমাকে ওসমানের চেয়ে উত্তম জামাতা বলব না? ওসমানকে তোমার উত্তম শ্বশুর বলব না?’ ওমর বলেন, ‘অবশ্যই বলুন, আল্লাহর রাসুল!’ রাসুল (সা.) জানান যে হাফসাকে নিজেই বিয়ে করবেন এবং অপর কন্যা উম্মে কুলসুমকে ওসমানের সঙ্গে বিয়ে করবেন। (তাহজিবুল কামাল: ৩/১৫৩)
এই সংবাদে ওমরের মন আনন্দে ভরে ওঠে। তাঁর মেয়ে শুধু পুনর্বিবাহের সুযোগ পান না, বরং ইসলামের যাকে বলে উম্মুল মুমিনিন হিসেবে পরিচিত হন। এই বিয়ে অনুষ্ঠিত হয় তৃতীয় হিজরির শাবান মাসে। তখন হাফসার বয়স প্রায় ২০ বছর। এই ঘটনা মানুষের ভালোবাসা ও পারস্পরিক বন্ধনের এক নিদর্শন হিসেবে পরিচিত।
জীবনের সাধারণতা
