নদীতে বিলীন অলওয়েদার সড়ক রক্ষার দায় কার, এলজিইডির নাকি পাউবোর
নদীতে হারিয়ে যাচ্ছে কিশোরগঞ্জের অলওয়েদার সড়ক: দায় নিয়ে টানাটানি
Banglaprabah.com – নদ ত ব ল ন অলওয় - কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে নির্মাণ করা অলওয়েদার সড়কটি এখন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া চলাচল নিশ্চিত করতেই এই সড়ক তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণের নব্বই বছর পর সেই সড়কের দেড় কিলোমিটার অংশের প্রায় ৯০ শতাংশই নদীর জলে চলে গেছে। ফলে বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
সড়কের অবনতির কারণ ও দায় নিয়ে বিতর্ক
স্থানীয়রা জানান, সড়কটির দেড় কিলোমিটারের কিছু অংশ দূর থেকে সুইয়ের মতো মনে হয়। দুই সপ্তাহ ধরে উপজেলা ও জেলা সদরের সঙ্গে বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়নের যোগাযোগবিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে। চোখের সামনে সড়কটির অনেকটা অংশ নদীগর্ভে হারিয়ে গেলেও সরকারের কোনো দপ্তর এর দায় নিতে রাজি নয়।
সড়ক বানিয়েছে লোকাল গভর্নমেন্ট, কিন্তু নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের।
— ফজলুর রহমান, সংসদ সদস্য, কিশোরগঞ্জ-৪ আসন
এলজিইডি সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে ১০ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১৬ ফুট প্রশস্ত অলওয়েদার সড়ক নির্মাণ করা হয়। ব্যয় হয় ৪৪ কোটি টাকা। সড়কে ১৩ কোটির টাকার সংস্কারকাজ চলমান। এর মধ্যে ভাঙনের কবলে পড়েছে সড়কটি। সড়কের ভাঙনের অংশটুকু পড়েছে বাঙ্গালপাড়া ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডে। ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম জানান, সড়কের পাশাপাশি প্রায় ৪০০ একর জমি নদীতে চলে গেছে। ১০টি পরিবার ঘরছাড়া হয়েছে।
সংযোগ সেতু ও অনিশ্চয়তা
অলওয়েদার সড়কের সঙ্গে যুক্ত ১৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি সংযোগ সেতু। সেতুটির একটি অংশ অষ্টগ্রাম, অপর প্রান্তটি স্পর্শ করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা। সেতুটি চালু হলে নাসিরনগরসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষের সঙ্গে ঢাকার সড়ক যোগাযোগ সহজ হওয়ার কথা। এর মধ্যে সড়ক ভাঙনের কবলে পড়া এই যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
৩০ জুলাই সরেজমিন দেখা যায়, সড়কটির নোয়াগাঁও অংশে বেশি ভেঙেছে। কিছু অংশ ভাঙতে ভাঙতে সরু হয়ে গেছে। দূর থেকে সড়কের অস্তিত্ব চোখে পড়ে না। সড়ক বিলীন হওয়ার সবচেয়ে বিপদে পড়েছেন নোয়াগাঁও, উসমানপুরসহ আশপাশের কয়েক হাজার মানুষ।
পাউবো ও এলজিইডির দায় নিয়ে বিতর্ক
অলওয়েদার সড়ক নির্মাণে পানির চাপ, নদীর গতিপ্রকৃতি ও প্রবাহ বিবেচনায় বিশেষ পরিকল্পনা প্রয়োজন ছিল। সড়কটির এই অবস্থার জন্য পাউবোর দায় নেই। সাজ্জাদ হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী, পাউবো, কিশোরগঞ্জ।
ওই এলাকার কয়েকজন জানান, ভাঙন এলাকার নদীটি স্থানীয়ভাবে মেঘনা বা মেঘনার শাখা হিসেবে পরিচিত হলেও দাপ্তরিক নাম ধলেশ্বরী। বর্ষাকালে সড়কে এসে লাগে নদীর পানি। শুষ্ক মৌসুমে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে চলে যায় মূল নদী। নদীর পাশে সড়কের ভাঙন রক্ষার শক্ত প্রতিরোধব্যবস্থা করা হয়নি। নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ফজলুর রহমান ভাঙনে ঘর হারিয়ে এখন অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি বলেন, 'সব কিছু ঠিক হয়ে যাইতে শুনতে শুনতে এখন ঘর হারাইলাম, রাস্তাও হারাইলাম।' সড়কটির নাজুক পরিস্থিতি তুলে ধরে ১৭ মে প্রথম আলোর অনলাইন ও পরদিন মুদ্রণ সংস্করণে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
সড়কটির মূল দায়িত্ব এলজিইডির। অলওয়েদার সড়ক নির্মাণে পানির চাপ, নদীর গতিপ্রকৃতি ও প্রবাহ বিবেচনায় বিশেষ পরিকল্পনা প্রয়োজন ছিল। সড়কটির আজকের এই অবস্থার জন্য পাউবোর দায় নেই।
— সাজ্জাদ হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী, পাউবো, কিশোরগঞ্জ
এলজিইডি বলছে, তাদের দায়িত্ব শুধু সড়ক বানানো, নদী থেকে তা রক্ষা করার দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো)। তবে পাউবো সেই দায় নিতে নারাজ। প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, বিশাল জলরাশির মধ্য দিয়ে সড়ক নির্মাণের আগে লিখিতভাবে এনওসি (অনাপত্তিপত্র) বা পরামর্শ নেওয়া হয়নি। সড়কটির প্রাতিষ্ঠানিক অস্তিত্বই নদী রক্ষা নকশার নেই, তাই সেটির দায়িত্ব নিতে তারা নারাজ।
এলজিইডির অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী মোজাম্মেল হকের ভাষ্য, পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সড়কে চারটি বড় সেতু ও দুটি পাইপ কালভার্ট রয়েছে। তবে ৯ বছর আগে যে বাস্তবতার সড়কটি নির্মিত হয়েছিল, এখন নদীর গতিপথ, চর জাগাও ও স্রোতের ধরন বদলে গেছে। এতে ভাঙন বেড়েছে। তিনি স্বীকার করেন, সড়কটি নির্মাণের সময় পাউবোকে লিখিতভাবে জানানো হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে পাউবো কখনো কোনো আপত্তিও জানায়নি।
দুই দপ্তরের টানাটানির মধ্যে সমাধান খুঁজতে মাঠে নামে বিআইডব্লিউটিএ। ড্রেজিং করে সড়কের পাশ থেকে নদীর গতিপথ সরানোর চেষ্টা করে তারা, কিন্তু এই চেষ্টা সফল হয়নি। বাঙ্গালপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান বলেন, 'সরকারের তিন অফিসের অফিসাররা যদি এক টেবিলে বসে সম্মানমতো সিদ্ধান্ত নিতে পারত, তা হলে হতো চোখের সামনে রাস্তাডা এভাবে হারিয়ে যাইত না।' ১৪ মে ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে যান কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান। তাঁর কণ্ঠেও হতাশার সুর। গত আর বুধবার বিকেলে প্রথম আলো কে তিনি বলেন, 'কী বলব, জিজ্ঞেস করলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন কাজ আগাচ্ছে, কিন্তু আর আগায় না; বরং সড়কটাই নদীতে চলে গেল। আমার স্পষ্ট কথা, সড়ক বানিয়েছে লোকাল গভর্নমেন্ট, কিন্তু নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের।'
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is নদ ত ব ল ন অলওয়?নদ ত ব ল ন অলওয় is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does নদ ত ব ল ন অলওয় matter?নদ ত ব ল ন অলওয় matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.