দেশে সারের সংকট নেই, দুষ্ট লোকদের কারণে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে: কৃষিমন্ত্রী
ফুলগাজীতে সারের সরবরাহ নিয়ে নজরদারি জোরদারের কথা বললেন কৃষিমন্ত্রী
Banglaprabah.com – দ শ স র র স কট - দেশে সারের মজুত বা সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, খাদ্য ও কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ। তবে নির্ধারিত ডিলারদের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিদের কাছে সার চলে যাওয়ার অভিযোগকে তিনি কৃষকের জন্য ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে মন্ত্রণালয়ের একাধিক নজরদারি দল কাজ করছে।
শনিবার দুপুরে ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠ পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। আগামী বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফুলগাজী সফরের কথা রয়েছে। ওই সফরকে সামনে রেখে প্রস্তুতি এবং এলাকার সামগ্রিক অবস্থা দেখতে তিনি সেখানে যান।
“দেশে সারের কোনো সংকট নেই।”
কৃষিমন্ত্রী বলেন, সার সাধারণত অনুমোদিত ডিলারদের মাধ্যমেই কৃষকের কাছে পৌঁছানোর কথা। কিন্তু কোথাও কোথাও ডিলার নন, এমন ব্যক্তিদের হাতে সার পাওয়া যাচ্ছে। এতে বিতরণব্যবস্থার স্বাভাবিক ধারা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকেরা প্রয়োজনের সময়ে সমস্যায় পড়তে পারেন। তিনি এ চক্রকে ‘দুষ্ট লোক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তাদের কর্মকাণ্ডে সমাজ, কৃষক ও দেশ ক্ষতির মুখে পড়ে।
কৃষিকাজে সার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। মৌসুমের প্রয়োজন অনুযায়ী কৃষক যেন নির্ধারিত স্থানে এবং সহজে সার পান, সে জন্য সরবরাহ ও বিক্রির শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি। মন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে, সরকারের কাছে সারসংকটের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বিতরণ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ঠেকানোর বিষয়টি।
“খুব দ্রুত এ দুষ্ট লোকের চক্রটি তাদের দুষ্টামিতে ব্যর্থ হবে।”
তিনি জানান, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং অনিয়ম শনাক্ত করতে মন্ত্রণালয় কয়েকটি টিম গঠন করেছে। এসব দল মাঠপর্যায়ে নজরদারি করবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। কৃষকদের কাছে সার পৌঁছানোর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে অননুমোদিত মজুত, মধ্যস্বত্বভোগী তৎপরতা কিংবা অনিয়মের সুযোগ কমবে—এমন প্রত্যাশার কথাও তাঁর বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে।
দুই কোটি কৃষককে কৃষি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা
কৃষকদের জন্য সরকারের চলমান সহায়তা কর্মসূচি নিয়েও কথা বলেন মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ। তিনি জানান, সারা দেশের দুই কোটি কৃষককে কৃষি কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কৃষকদের হাতে এ কার্ড পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, কৃষি কার্ড কর্মসূচিতে শুধু একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির কৃষক নয়, বিভিন্ন ধরনের কৃষক অন্তর্ভুক্ত হবেন। প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের পাশাপাশি ভূমিহীন, মাঝারি এবং বড় কৃষকরাও এ ব্যবস্থার আওতায় আসবেন। কৃষির সঙ্গে যুক্ত মানুষের পরিচিতি ও সহায়তা ব্যবস্থাকে আরও সুসংগঠিত করার ক্ষেত্রে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের জন্য নির্ধারিত সেবা, সহায়তা ও সরকারি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ সহজতর হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে কারা কৃষিকাজ করছেন, তাঁদের চাহিদা কী এবং কোন অঞ্চলে কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন—এসব বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণে এ ধরনের নিবন্ধনভিত্তিক ব্যবস্থা সহায়ক হতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে সময়মতো কার্ড বিতরণ এবং প্রকৃত কৃষকদের অন্তর্ভুক্তির ওপর।
“নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব কৃষক কৃষি কার্ড বুঝে পাবে।”
কৃষিঋণ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। কৃষকের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির সঙ্গেও যুক্ত বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, কৃষক অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলে জাতীয় অর্থনীতিও শক্ত ভিত্তি পায়।
কৃষকের উৎপাদন ব্যয়, কৃষি উপকরণের প্রাপ্যতা এবং ঋণের চাপ—এসব বিষয় সরাসরি তাঁর আয়ের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই সার বিতরণে অনিয়ম প্রতিরোধ, কৃষি কার্ডের পরিধি বাড়ানো এবং ঋণসংক্রান্ত সহায়তা একই লক্ষ্যকে সামনে আনে: কৃষক যেন উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারেন এবং আর্থিকভাবে স্থিতিশীল থাকেন।
পরিদর্শনে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা
ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে মন্ত্রীর পরিদর্শনকালে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ফেনীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম এবং পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার।
এ ছাড়া ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাউছার হামিদ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহেলী নোশীন প্রত্যাশা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত সফরকে কেন্দ্র করে মাঠের প্রস্তুতি এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখাই ছিল এ পরিদর্শনের উদ্দেশ্য।
সারের পর্যাপ্ততা নিয়ে সরকারি আশ্বাসের পাশাপাশি বিতরণব্যবস্থার অনিয়ম নিয়ে মন্ত্রীর উদ্বেগ কৃষকদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়। কৃষকেরা যেন অনুমোদিত ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সার পান এবং কোনো অসাধু চক্র সুবিধা নিতে না পারে, সে জন্য নজরদারির ফল মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is দ শ স র র স কট?দ শ স র র স কট is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does দ শ স র র স কট matter?দ শ স র র স কট matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.