দেশে জ্বর-কাশি ও শ্বাসতন্ত্রের রোগের ১৩% ইনফ্লুয়েঞ্জা
দুই দশকের ডেটা: বাংলাদেশে ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকৃত মুখোমুখি চিত্র
Banglaprabah.com – দ শ জ বর ক শ ও - শীতকালেই ইনফ্লুয়েঞ্জা ছড়ায়—এই ধারণা দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের মনে গেঁথে ছিল। কিন্তু গত দুই দশকের ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণের তথ্য বলছে, বাংলাদেশে ভাইরাসটির প্রকৃত মৌসুম একেবারেই ভিন্ন। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর, বিশেষ করে জুন-জুলাই মাসে সংক্রমণের চরম শিখর দেখা যায়। এই তথ্য শুধু একটা বৈজ্ঞানিক তথ্য নয়; এটি দেশের স্বাস্থ্য-পরিকল্পনা, টিকাদান-সময়কাল এবং হাসপাতাল-প্রস্তুতি—সবকিছুর ভিত্তি বদলে দেয়।
পর্যবেক্ষণের কাঠামো ও আন্তর্জাতিক সহায়তা
২০০৭ সাল থেকে বাংলাদেশে ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকৃত পরিস্থিতি ট্র্যাক করার কাজ চালাচ্ছে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)। এই দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি কার্যক্রমে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) সরাসরি সহায়তা প্রদান করে আসছে। বিশ্বের ১৩৮টি দেশে মোট ১৫৭টি ন্যাশনাল ইনফ্লুয়েঞ্জা সেন্টার রয়েছে; আইইডিসিআর সেই তালিকার একটি সদস্য।
গতকাল মঙ্গলবার আইইডিসিআরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে এই দুই প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানী ও গবেষকেরা তাঁদের দশকের পর দশকের পর্যবেক্ষণ-বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেশ কয়েকটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং সরকারি-বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন; পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গ্লোবাল হেলথ বিভাগের প্রতিনিধিও বক্তব্য দেন।
সংখ্যাগুলো যা বলছে
পর্যবেক্ষণের আওতায় ছিল ১৫টি সরকারি ও একটি বেসরকারি হাসপাতাল। এতে রয়েছে ঠাকুরগাঁও, নওগাঁ, সাতক্ষীরা, নরসিংদী, হবিগঞ্জ, কক্সবাজার, জমপুরহাট ও পটুয়াখালী জেলা হাসপাতাল; যশোর ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল; ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। বেসরকারি খাতে সিলেটের জালালাবাদ রাগিব রাবেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অন্তর্ভুক্ত।
এই হাসপাতালগুলোতে গত ২০ বছরে সাধারণ জ্বর-কাশি বা তীব্র শ্বাসতন্ত্র সংক্রমণ নিয়ে মোট ১ লাখ ৭২ হাজার ৭৯২ জন রোগীকে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়। প্রতিটি রোগীর নমুনা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়েছিল। ফলাফল: ২২ হাজার ২৮৪ জনের—অর্থাৎ মোটের ১৩ শতাংশের—ইনফ্লুয়েঞ্জা নিশ্চিত। ২০১৯ সালে এক বছরেই দেশে ইনফ্লুয়েঞ্জায় ২ লাখ ৩৬ হাজার ৩৮০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। আর ২০১১-১২ মৌসুমে ইনফ্লুয়েঞ্জার কারণে ১৬ হাজার ৮০৪ জনের মৃত্যু ঘটে।
বয়সভিত্তিক প্যাটার্নে দেখা যায়, ৫ থেকে ২৪ বছর বয়সীরা সংক্রমণের সবচেয়ে বেশি শিকার। কিন্তু মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি ৬০ বছরের অধিক বয়সীদের মধ্যে। এই বিভাজন টিকাদান-নীতি ও হাসপাতাল-প্রস্তুতির জন্য সরাসরি প্রাসঙ্গিক।
এভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জার উদ্বেগ
একই পর্যবেক্ষণের তথ্য বলছে, বাংলাদেশে এভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লুর উপস্থিতি এখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে। পশু-মানুষ সংযোগে ভাইরাস বদল হওয়ার ঝুঁকি বাড়লে দেশের স্বাস্থ্য-তৈয়ারি পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
ঝুঁকি-সমূহ ও প্রতিরোধ
আইসিডিডিআরবির সহযোগী বিজ্ঞানী ফাহমিদা চৌধুরী সেমিনারে তুলে ধরেন যে পাঁচ ধরনের মানুষের ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বিশেষভাবে বেশি: স্বাস্থ্যকর্মী, গর্ভবতী নারী, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, একাধিক দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভোগা ব্যক্তি, এবং ৬০ বছরের অধিক বয়সীরা।
ইনফ্লুয়েঞ্জা একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির ফোঁটা বা সরাসরি সংস্পর্শে পড়লে সংক্রমণ ছড়ায়। লক্ষণে থাকে জ্বর, কাশি, মাথাব্যথা ও শরীরব্যথা।
টিকা ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধের একটি উপায়। কিন্তু ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, মাস্ক পরা, নিয়মিত হাত ধোয়া—এসব গুরুত্বপূর্ণ। ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
এই মন্তব্য করেন আইসিডিডিআরবির নির্বাহী পরিচালক তাহমিদ আহমেদ, যিনি অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আইইডিসিআর ও আইসিডিডিআরবির যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই নজরদারি ব্যবস্থা বৈশ্বিক রোগ-পর্যবেক্ষণ কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
টিকাদান-বিষয়ে বিতর্ক
সেমিনারের সবচেয়ে দীর্ঘ আলোচনা ঘিরে ছিল ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকার প্রশ্ন। গবেষকরা ও মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা ঝুঁকি-সমূহের টিকাদান নিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। দেশের পুরো জনগোষ্ঠীকে প্রতিবছর টিকা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। এক পক্ষের দাবি, প্রতি বছর নতুন টিকা দরকার এবং তার জন্য বিশাল অর্থ প্রয়োজন। অন্য পক্ষের মতে, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্ম
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is দ শ জ বর ক শ ও?দ শ জ বর ক শ ও is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does দ শ জ বর ক শ ও matter?দ শ জ বর ক শ ও matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.